বুধবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৭:০৮ পূর্বাহ্ন
নিউজ ফ্লাশ
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে পঞ্চগড়ের নৌকাডুবির খবর পঞ্চগড়ে নৌকাডুবি ট্রাজেডি: অর্ধশত মরদেহ উদ্ধার বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন : বেরোবি উপাচার্য স্বজনদের আহাজারিতে ভারি করতোয়ার পাড় পঞ্চগড়ে নৌকাডুবি: দিনাজপুরের পুনর্ভব নদীতে ভেসে এলো ৮ জনের লাশ করতোয়ার পাড়ে দীর্ঘ হচ্ছে লাশের সারি, মৃত্যু বেড়ে ৩৯ পঞ্চগড়ে মন্দিরে যাওয়ার পথে নৌকাডুবিতে শিশুসহ ২৪ জনের মৃত্যু হিজাব ইস্যুতে উত্তাল ইরান: নারীসহ ৭০০ বিক্ষোভকারী গ্রেফতার, নিহত ৩৫ শারদীয় দুর্গাপূজা: হিলি ইমিগ্রেশন দিয়ে যাত্রী পারাপার বেড়েছে ফেসবুকে ইসলাম ধর্ম নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য, বেরোবি শিক্ষার্থী আটক

আজ ঐতিহাসিক রংপুর ক্যান্টমেন্ট ঘেরাও দিবস

এপ্লাস অনলাইন
  • আপডেট সময় : সোমবার, ২৮ মার্চ, ২০২২

আজ ২৮শে মার্চ। রংপুর ক্যান্টনমেন্ট ঘেরাও দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে তীর-ধনুক, দা-কুড়াল, বল্লম ও বাঁশের লাঠি নিয়ে রংপুর ক্যান্টনমেন্ট ঘেরাও করে পাক হানাদারদের উপর হামলা চালায় রংপুরের সাধারণ মানুষ। 

এতে অংশ নেয় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও সাঁওতালসহ কয়েক হাজার বাঙালি। সেদিন এই অসম যুদ্ধে নিরস্ত্র মুক্তিকামি দেড় হাজারেরও বেশি মানুষ পাক-হানাদারদের গুলিতে শহীদ হন। আহত হন সহস্রাধিক মানুষ। অনেক আহত ব্যক্তি পঙ্গুত্ববরণ করে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন।

জানা যায়, ২৪ মার্চ মধ্যরাতে রাজাকারদের সহযোগিতায় ক্যান্টনমেন্টের পাশের গ্রাম নিসবেতগঞ্জ ও দামোদারপুরের অনেক মানুষকে গুলি করে হত্যা করা হয়। সেই সাথে জ্বালিয়ে দেওয়া হয় কয়েকটি গ্রাম। ২৫ মার্চ দুপুরে ৩২ জনকে দড়ি দিয়ে বেঁধে লাহিরীরহাটের একটি মাঠে দাঁড় করিয়ে পর পর গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় মানুষ আরো বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।

এসব মানুষদের সংগঠিত করেন তৎকালীন মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক সিদ্দিক হোসেন, আব্দুল গণি, তৈয়বুর রহমান, মুখতার এলাহি, আবুল মনছুর, ইছহাক চৌধুরী, ন্যাপ নেতা সামছুজ্জামান ও কমিউনিষ্ট নেতা ছয়ের উদ্দিনসহ আরো অনেকে। শুরু হয় রংপুর শহরে সেনাবাহিনীর মহড়া। এ পর্যায়ে ক্যান্টনমেন্ট আক্রমণ করে অবাঙালি সৈন্যদের বন্দি করে ক্যান্টনমেন্ট দখল করার সিদ্ধান্ত হয়।

ধীরে ধীরে রংপুর উত্তপ্ত হতে থাকে। ওই দিন নিসবেতগঞ্জ গ্রামের চৌধুরী বাড়ির কাছে নিচু জমিতে জিপ ফেলে দিয়ে আর্মি অফিসার আব্বাসীকে দা’ দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে স্থানীয় শাহেদ আলী নামে একজন। এ দুঃসাহসিক অভিযানে অংশ নেন আব্দুর রউফ ও আব্দুল হান্নানসহ অনেক সাহসী সন্তান। এ খবর পেয়ে সকল বাঙালি সৈন্যদের ২৭ মার্চ রাতে আটকে রেখে অস্ত্র জমা নিয়ে ইপিআর ক্যাম্পে হামলা চালায় পাক সেনারা।

খবর ছড়িয়ে পড়লে গ্রামের হাজার হাজার বিক্ষুব্ধ মানুষ তীর-ধনুক, দা-কুড়াল, বল্লম ও বাঁশের লাঠি হাতে নিয়ে ক্যান্টনমেন্টের আশপাশের এলাকাসহ ঘাঘট নদীর তীরে জমায়েত হয়।

পরদিন ২৮ মার্চ দুপুর হতেই মিঠাপুকুর, বলদীপুকুর, বদরগঞ্জ, রাণীপুকুর, মানজাইল, তামপাট, পালিচড়া, রামজীবন, বনগাঁও, বুড়িরহাট, হারাগাছ, গঙ্গাচড়া, শ্যামপুর, দমদমা, লালবাগ, গনেশপুর মামুদারপুর, দেওডোবা, পাঠানপাড়া, তারাগঞ্জ ও পাগলাপীরসহ অন্য এলাকা থেকে মানুষ ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় জমায়েত হতে থাকে। শুরু হয় পাক সেনাদের সাথে সম্মুখ লড়াই।

মিঠাপুকুর অঞ্চলের ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠী ও সাঁওতালরা এই আক্রমণে অগ্রণী ভ‚মিকা পালন করে। তারা কয়েকটি দলে বিভক্ত হয়ে রংপুর ক্যান্টনমেন্টে প্রবেশের চেষ্টা করে। এ সময় ক্যান্টনমেন্ট থেকে আসতে থাকে বৃষ্টির মত গুলি। গুলিবিদ্ধ হয়ে সেখানেই শহীদ হন দেড় হাজারেরও বেশি মানুষ। আহত হন কয়েক হাজার।

ক্যান্টনমেন্ট ঘেরাও করতে গিয়ে পাক সেনাদের গুলিতে নিহত হন মিঠাপুকুর উপজেলার রাণীপুকুর ইউনিয়নের দৌলত নূরপুর গ্রামের আয়নাল হক। তার স্ত্রী রওশনা বেগম জানান, বাঁশের কঞ্চি দিয়ে তৈরী তীর-ধনুক নিয়ে রংপুর ক্যান্টনমেন্ট ঘেরাও করতে গিয়ে পাকসেনাদের গুলিতে ঘটনাস্থলেই তিনি (আয়নাল) মারা যান। পরদিন কয়েকজন প্রতিবেশি কাঁধে করে তার লাশ বাড়িতে নিয়ে আসে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই রকম আরো সংবাদ

এ প্লাস ডিজিকম সার্ভিস

© All rights reserved © 2020 Aplusnews.Live
Design & Development BY Hostitbd.Com

অনুমতি ছাড়া নিউজ কপি দন্ডনীয় অপরাধ। কপি করা যাবে না!!