মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১১:৫০ অপরাহ্ন
নিউজ ফ্লাশ
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে পঞ্চগড়ের নৌকাডুবির খবর পঞ্চগড়ে নৌকাডুবি ট্রাজেডি: অর্ধশত মরদেহ উদ্ধার বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন : বেরোবি উপাচার্য স্বজনদের আহাজারিতে ভারি করতোয়ার পাড় পঞ্চগড়ে নৌকাডুবি: দিনাজপুরের পুনর্ভব নদীতে ভেসে এলো ৮ জনের লাশ করতোয়ার পাড়ে দীর্ঘ হচ্ছে লাশের সারি, মৃত্যু বেড়ে ৩৯ পঞ্চগড়ে মন্দিরে যাওয়ার পথে নৌকাডুবিতে শিশুসহ ২৪ জনের মৃত্যু হিজাব ইস্যুতে উত্তাল ইরান: নারীসহ ৭০০ বিক্ষোভকারী গ্রেফতার, নিহত ৩৫ শারদীয় দুর্গাপূজা: হিলি ইমিগ্রেশন দিয়ে যাত্রী পারাপার বেড়েছে ফেসবুকে ইসলাম ধর্ম নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য, বেরোবি শিক্ষার্থী আটক

আজ পবিত্র ‘শবে বরাত’, তাৎপর্য ও আমল

এপ্লাস অনলাইন
  • আপডেট সময় : শুক্রবার, ১৮ মার্চ, ২০২২

 

শাবান মাসের চৌদ্দ তারিখ দিবাগত রাতকে বলা হয় ‘লাইলাতুল বরাত’। আরবি হিসাবে ১৫ শাবানের রাত। হাদিসের ভাষায় একে বলা হয় ‘লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান’।

উপমহাদেশে এটি ‘শবে বরাত’ নামে প্রসিদ্ধ। ফার্সি ভাষায় ‘শব’ অর্থ রাত আর ‘বরাত’ অর্থ মুক্তি। শবে বরাতকে যে নামেই ডাকা হোক, মূল বিষয় এক ও অভিন্ন, যা কোরআনের আয়াত ও অসংখ্যা সহিহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। আল্লাহ তায়ালা মুমিনদের রহমত, বরকত ও মাগফিরাত লাভের জন্য বছরের যে কয়েকটি রাতকে আলাদা বৈশিষ্ট্যপূর্ণ করে দিয়েছেন লাইলাতুল বরাত সেগুলোর মধ্যে অন্যতম।

শবে বরাতে আল্লাহ তায়ালা তাঁর অসংখ্য বান্দাকে ক্ষমা করেন, সেজন্য একে মুক্তির রাত বলা হয়। এ রাতকে লাইলাতুল মুবারাকা অর্থাৎ বরকতময় রাত, ‘লাইলাতুস সাক’ তথা পুরস্কারের সনদপ্রাপ্তির রাতও বলা হয়ে থাকে। (তাফসির কুরতুবি : ১৯/৯৯-১০৩)

শবে বরাত সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘সুস্পষ্ট কিতাবের শপথ, নিশ্চয়ই আমি এটিকে বরকতময় রাতে অবতীর্ণ করেছি। আমি তো সতর্ককারী। এই রাতে বণ্টন করে দেওয়া হয় প্রত্যেক প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয়।’ (সুরা দুখান : ১-৩)। বিখ্যাত তাবেয়ি ইকরামা (রা.) ও একদল মুফাসসিরের মতে লাইলাতুম মুবারাকা বা বরকতময় রাত হলো শাবানের মধ্যরাত। আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) আয়াতের তাফসিরে বলেন, ‘লাইলাতুম মুবারাকা’ হলো শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাত। আর সেটাই লাইলাতুল বারাত।’ (তাফসিরে দুররে মানসুর : ৭/৪০১)

শবে বরাতের ফজিলত সম্পর্কে অনেক হাদিস বর্ণিত হয়েছে। হজরত আলী (রা.) থেকে বর্ণিতÑ নবীজি (সা.) বলেছেন, যখন অর্ধ শাবানের রাত আসে তোমরা এ রাতকে ইবাদত-বন্দেগিতে অতিবাহিত করো এবং দিনে রোজা রাখো। কেননা এই রাতে সূর্যাস্তের পর আল্লাহ তায়ালা প্রথম আসমানে অবতীর্ণ হয়ে বলেন, ‘কোনো ক্ষমাপ্রার্থী আছে কি? আমি তাকে ক্ষমা করে দেব। রিজিক প্রার্থনা করার কে আছে? যাকে আমি রিজিক প্রদান করব। কে বিপদগ্রস্ত আছে? আমি বিপদমুক্ত করব।

এভাবে ফজর পর্যন্ত মানুষের প্রয়োজনের কথা বলে আহ্বান করতে থাকেন।’ (ইবনে মাজা : ১৩৮৮)। আরবের বিখ্যাত আলেম শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী (রহ.) এ হাদিসের সমর্থনে আরও সাতটি হাদিস উল্লেখ করে বলেন, এসব রেওয়ায়েতের মাধ্যমে সমষ্টিগতভাবে এই হাদিসটি নিঃসন্দেহে সহিহ প্রমাণিত হয়। (সিলসিলাতুল আহাদিসিস সহিহা : ৩/১৩৫)

আল্লাহর রাসুল (সা.) এ রাতে বিশেষ ইবাদতে নিমগ্ন হতেন। নফল নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত, কবর জিয়ারত ইত্যাদি আমলে ব্যস্ত থাকতেন। আয়েশা (রা.) বলেন, আমি এক রাতে উঠে দেখি নবীজি (সা.) ঘরে নেই। তখন আমি তাকে খুঁজতে ঘর থেকে বের হয়ে বাকিতে (মদিনার কবরস্থান) পেয়েছি।

তিনি আমাকে বললেন, তুমি কি ভয় করো যে আল্লাহ এবং তাঁর রাসুল তোমার হক নষ্ট করবেন? আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! মূলত তা-ই নয়। বরং আমি মনে করেছি, আপনি আপনার অন্য কোনো স্ত্রীর কাছে এসেছেন। তখন নবীজি (সা.) বললেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা শাবান মাসের চৌদ্দ তারিখ দিবাগত রাতে প্রথম আসমানে অবতীর্ণ হন এবং কালব গোত্রের বকরির সমুদয় পশমের চেয়েও বেশি গুনাহ ক্ষমা করে দেন। (তিরমিজি : ৭৩৯; ইবনে মাজা : ১৩৮৯)

তবে বিশেষ এ রাতেও কিছু মানুষ রহমত-বরকত থেকে বঞ্চিত হন। কিছু কিছু এমন গুনাহ রয়েছে তা তওবা ছাড়া মাফ হবে না। মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.) বলেন, নবীজি (সা.) ইরশাদ করেছেন- আল্লাহ তায়ালা অর্ধ শাবানের রাতে সৃষ্টির দিকে রহমতের দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও বিদ্বেষ পোষণকারী ব্যতীত সবাইকে ক্ষমা করে দেন। (সহিহ ইবনে হিব্বান : ৫৬৬৫)

বরাত রাতে করণীয় হলো নফল নামাজ আদায় করা, কোরআন তেলাওয়াত করা, তাহাজ্জুদ সালাত আদায় করা, তওবা-ইস্তেগফার করা, দরুদ শরিফ পাঠ করা, জিকির-আজকারে নিয়োজিত থাকা, কবর জিয়ারত করা, দান-সদকা করা এবং পরের দিন রোজা পালনসহ ইত্যাদি ইবাদতে মশগুল থাকা।

শবে বরাত মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে মুমিন বান্দার জন্য অনেক বড় অনুগ্রহ। এই রাতে ইবাদত-বন্দেগি থেকে দূরে থাকা ঈমানদারের কাজ নয়।

পাশাপাশি ইসলামী শরিয়ত বিবর্জিত কুপ্রথা থেকে বেঁচে থাকাও জরুরি। যেমন- আতশবাজি ফোটানো, খেলাধুলায় মত্ত থাকা, ঘরবাড়িতে আলোকসজ্জা করা, মহিলাদের ঘরের বাইরে যাওয়া শরিয়তবিরোধী কাজ এবং অপচয়। এগুলোতে শয়তান বেশি খুশি হয়। অভিশপ্ত শয়তান তার গোপন কৌশলের মাধ্যমে নেক আমলের মধ্যে মন্দ প্রথা ও অপচয়ের মনোবৃত্তি তৈরি করে দেয়। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘এবং অপব্যয় করো না। নিশ্চয় অপব্যয়কারীরা শয়তানদের ভাই।’ (সুরা বনি ইসরাইল : ২৬-২৭)

 

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই রকম আরো সংবাদ

এ প্লাস ডিজিকম সার্ভিস

© All rights reserved © 2020 Aplusnews.Live
Design & Development BY Hostitbd.Com

অনুমতি ছাড়া নিউজ কপি দন্ডনীয় অপরাধ। কপি করা যাবে না!!