সোমবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২:৫২ অপরাহ্ন
নিউজ ফ্লাশ
পঞ্চগড়ে মন্দিরে যাওয়ার পথে নৌকাডুবিতে শিশুসহ ২৪ জনের মৃত্যু হিজাব ইস্যুতে উত্তাল ইরান: নারীসহ ৭০০ বিক্ষোভকারী গ্রেফতার, নিহত ৩৫ শারদীয় দুর্গাপূজা: হিলি ইমিগ্রেশন দিয়ে যাত্রী পারাপার বেড়েছে ফেসবুকে ইসলাম ধর্ম নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য, বেরোবি শিক্ষার্থী আটক আগামী পহেলা ডিসেম্বর বিভাগীয় লেখক পরিষদ রংপুরের এক যুগ পূতি নগরজুড়ে চ্যাম্পিয়নদের ছাদ খোলা বাসে বিজয় শোভাযাত্রা খোলা বাসে বিলবোর্ড মাথায় লেগে আহত ফুটবলার ঋতুপর্ণার মাথায় দুই সেলাই এই ট্রফি আমাদের দেশের জনগণের জন্য রংপুরে জাপানি নাগরিক কুনিও হোশি হত্যা: ৪ জঙ্গির মৃত্যুদণ্ড বহাল দিনাজপুর বোর্ডের এসএসসি পরীক্ষার চার বিষয়ের পরীক্ষা স্থগিত

আফিফ-মিরাজের ম্যাজিকে বাংলাদেশের জয়

এপ্লাস অনলাইন
  • আপডেট সময় : বুধবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২২

টপ অর্ডারের ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতার দিনে নতুন মহাকাব্য লিখলেন আফিফ হোসেন ও মেহেদী হাসান মিরাজ। বুক চিতিয়ে লড়ে রেকর্ড জুটি গড়ে রাখলেন বাংলাদেশের মান। ৪৫ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ যখন খাদের কিনারায়, তখন দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে শেষপর্যন্ত টিকে থেকে বাংলাদেশকে জয় এনে দেন আফিফ-মিরাজ। ওয়ানডে ইতিহাসে সপ্তম উইকেটে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জুটিই এখন এই দুই ব্যাটারের। দুজনের অনবদ্য ১৭৪ রানের রেকর্ড জুটিতে শেষ পর্যন্ত ৪ উইকেটের অবিশ্বাস্য জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ। আফিফ ৯৩ ও মেহেদী ৮১ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন। এই জয়ে ৩ ম্যাচের সিরিজে বাংলাদেশ এগিয়ে গেল ১-০তে।

 

সপ্তম উইকেটে বাংলাদেশের আগের সেরা জুটি ছিল ইমরুল কায়েস-সাইফ উদ্দিনের ১৪০ রান। ২০১৮ সালে মিরপুরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এই জুটি গড়েছিলেন। আজ তাদের পেরিয়ে গেছেন আফিফ-মিরাজ। এ ছাড়া বিশ্বে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জুটি। এর উপরে আছে একটি জুটি। জস বাটলার-আদিল রশিদ ১৭৭ রান করেছিলেন ২০১৫ সালে, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে।

আফগানিস্তানের দেওয়া ২১৬ রানের লক্ষ্যে শুরুতেই বিপদে পড়ে বাংলাদেশ। প্রথম ওভারে ১২ রান আসলেও তৃতীয় ওভারের তৃতীয় ও পঞ্চম বলে দুই ওপেনারকে হারায় স্বাগতিকরা। প্রথমে ফজলহক ফারুকির তৃতীয় বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন লিটন দাস(১)। এক বল পরেই ফারুকি এলবির ফাঁদে ফেলেন তামিম ইকবালকে (৮)। নিজের পরের ওভারেই ফের ঝলক দেখান ফারুকি। এবার তিনি ৩ রান করা মুশফিকুর রহিমকে বিদায় করেন এলবির ফাঁদে ফেলে। আর একই ওভারের শেষ বলে অভিষিক্ত ইয়াসির আলী রাব্বিকে শূন্য রানে সরাসরি বোল্ড করেন। মাত্র ১৮ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ তখন দিশেহারা। একাই চার উইকেট নিয়েছেন ফারুকি!

 

দল যখন খাদের কিনারায়, তখন ক্রিজে আসেন সাকিব। তবে বাংলাদেশকে বিপদে ফেলে সাকিবও ধরলেন তামিম-লিটনদের পথ। অষ্টম ওভারের চতুর্থ বলে মুজিবের বলে বোল্ডই হয়ে গেলেন দেশসেরা এই অলরাউন্ডার।

 

বাংলাদেশের ভয় ছিল রশিদ খানকে নিয়ে, কিন্তু আফগান এই লেগি বোলিংয়ে আসার আগেই অর্ধেক ব্যাটসম্যান হারিয়েছে বাংলাদেশ। রশিদ খান উইকেট পেলেন তার প্রথম ওভারেই। মাহমুদউল্লাহকে (৮) স্লিপে ক্যাচ বানিয়ে সাজঘরে পাঠিয়েছেন রশিদই। বাংলাদেশ তাদের ষষ্ট উইকেট হারিয়েছে মাত্র ৪৫ রানে।

 

মাত্র ৪৫ রানে ৬ উইকেট হারানোর পর মেহেদি হাসান মিরাজকে সঙ্গে নিয়ে বড় জুটি গড়তে থাকেন আফিফ হোসেন। ২২তম ওভারে গুলবাদিন নাইবকে চার মেরে দলীয় স্কোর একশ পার করেন আফিফ। তাতেই এগোচ্ছে বাংলাদেশ। বিপদের মূহুর্তে দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে আফিফ তুলে নেন তার ক্যারিয়ারের ক্যারিয়ারের প্রথম হাফ সেঞ্চুরি। ৬৪ বলে তিনি দেখা পান ফিফটির। তার সঙ্গী মেহেদি হাসান মিরাজ। দুর্দান্ত জুটি গড়ে দলকে টেনে নিয়ে যাওয়ার পথে অর্ধশতক তুলে নেন মিরাজও। উইকেট কামড়ে ধরে ৭৯ বলে তুলে নেন দুর্দান্ত এক অর্ধশতক। শেষ পর্যন্ত দুজনের সপ্তম উইকেটে রেকর্ড জুটি গড়ে বাংলাদেশকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যান মিরাজ ও আফিফ।

 

এর আগে টস হেরে প্রথম ওভারেই মোস্তাফিজকে বোলিংয়ে আনেন তামিম। দ্বিতীয় বলেই গুরবাজের ব্যাটে চার হজম করেছেন। নিজের পরের ওভারেই সেই আফগান ওপেনার গুরবাজকে ফিরিয়েছেন কাটার মাস্টার। ১৪ বলে ৭ রানে তামিমের তালুবন্দি হয়ে ফেরেন তিনি।

 

গুরবাজকে হারানোর পর ইব্রাহিম জাদরান ও রহমত শাহ চাপ কাটিয়ে উঠতে থাকেন। এর মধ্যে তাসকিনের বলে ইব্রাহিমের ক্যাচ মিস করে সেই চাপ বাংলাদেশকে দেন মাহমুদউল্লাহ। ৩ রানে জীবন পাওয়া ইব্রাহিমকে ১৯ রানে ফেরান শরিফুল ইসলাম। এতে অনেকটাই চাপমুক্ত হয় তামিম ইকবালরা।

 

প্রথম স্পেলে না পেলেও দ্বিতীয় স্পেলে উইকেটের দেখা পান তাসকিন। স্পিডমাস্টারের বাড়তি বাউন্সে খেই খারিয়ে ফেললেন রহমত, বল  ব্যাটের কানায় লেগে গেল উইকেটের পেছনে মুশফিকের হাতে। ৬৯ বলে ৩৪ রান করে আউট হয়েছেন রহমত।

 

চার-ছক্কায় দ্রুত রান তুলছিলেন আফগান অধিনায়ক শহীদি। কিন্তু তাকে বেশিদূর যেতে দেয়নি মাহমুদউল্লাহ। তাসকিনের বদলে বোলিংয়ে এসেই আফগান অধিনায়ককে মাঠছাড়া করেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। উইকেটের পেছনে মুশফিকের হাতে ধরা পড়ার আগে ৪৩ বলে ৩ চার ও ১ ছক্কায় ২৮ রান করে ফিরেছেন শহীদি।

 

৪ উইকেট হারিয়ে বড় সংগ্রহের পথে এগোচ্ছিল নাজিবুল্লাহ জাদরান-মোহাম্মদ নবী। দুজনে স্বাচ্ছন্দ্যে ব্যাটিং করে সচল রাখেন রানের চাকা। তৃতীয় স্পেলেনবীকে ফিরিয়ে বাংলাদেশ শিবিরে স্বস্তি দেন তাসকিন। উইকেটের পেছনে মুশফিকের হাতে তালুবন্দি হবার আগে ২৪ বলে ২ চারে ২০ রান করে ফেরেন নবী। তার বিদায়ে ভাঙে ৬৩ রানের বড় জুটি।

 

দলীয় ১৯৪ রানে আফগান শিবিরে জোড়া আঘাত হানেন সাকিব। গুলবাদীনকে ফেরালেন এলবির ফাঁদে ফেলে, রশিদ খানকে ফেরান বোল্ড করে। ২১ বলে ১৭ রান করেন গুলবাদীন, অন্যদিকে খালি হাতেই সাজঘরে ফেরত গেছেন রশিদ খান। স্কোরকার্ডে ১ রান যোগ হতেই দুর্দান্ত স্লোয়ারে শান্তর ক্যাচ বানিয়ে মুজিবকে ফেরান মোস্তাফিজ। এদিকে দলকে একাই টানতে থাকা নাজিবুল্লাহ জাদরান ফিফটি পূর্ণ করার পর আউট হন ব্যক্তিগত ৬৭ রানে। আর শূন্যরানে অপরাজিত থাকেন ফজলেহক ফারুকি।

 

বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন মোস্তাফিজুর রহমান। এছাড়া দুটি করে উইকেট নেন তিনজন বোলার।

 

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই রকম আরো সংবাদ

এ প্লাস ডিজিকম সার্ভিস

© All rights reserved © 2020 Aplusnews.Live
Design & Development BY Hostitbd.Com

অনুমতি ছাড়া নিউজ কপি দন্ডনীয় অপরাধ। কপি করা যাবে না!!