শনিবার, ০১ অক্টোবর ২০২২, ০৮:৫৯ পূর্বাহ্ন

‘আল্লাহু আকবর’ মুসকানের অনন্য প্রতিবাদ ভাইরাল,বিশ্বজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা

এপ্লাস অনলাইন
  • আপডেট সময় : বুধবার, ৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২২
শত শত উগ্র কট্টরবাদী বিজেপি সমর্থক তরুণের সামনে একাই প্রতিবাদ জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশংসায় ভাসছে কর্ণাটকের মুসকান নামের এক ভারতীয় মুসলিম ছাত্রী। ঘটনাটি ঘটেছে কর্ণাটকের মান্দিয়া প্রাক-বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে।
সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, ওই তরুণী স্কুটার পার্কিংয়ে রেখে কলেজ ভবনের দিকে হাঁটছে। এ সময় গেরুয়া ওড়না পরা একদল তরুণ ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান দেয় এবং তার দিকে এগিয়ে যায়। পাল্টা ‘আল্লাহু আকবার’ স্লোগান দেওয়ার সময় এই তরুণীকে ভীত দেখা যায়নি। ওই সময় হাত উপরে তুলে আল্লাহু আকবার স্লোগান দিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে দেখা যায় তাকে। পরে কলেজের প্রিন্সিপাল এবং অন্যান্য শিক্ষকরা তাকে সরিয়ে নেন।
এই ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ঝড় তুলেছে। বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা।  ভিডিওতে দেখা যায়, কর্ণাটকের একটি কলেজ চত্বরে হিজাব পরা এক ছাত্রী হাঁটছেন। এ সময় গেরুয়া ওড়না পরা একদল তরুণ তাকে ঘিরে হিজাববিরোধী স্লোগান দেন এবং হেনস্তা করেন।
কলেজ চত্বরে থেকে এক ব্যক্তিকে উদ্দেশ্য করে মুসকান জানায়, আমি বোরকা পরলে সমস্যা কী? গেরুয়া ওড়না পরা তরুণদের সামনে একাই প্রতিবাদ জানানোর সময় কোনও ধরনের ভয় পায়নি বলে জানিয়েছেন মুসকান।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আমি ভীত ছিলাম না। আমি যখন কলেজে ঢুকে পড়লাম, তখন তারা আমাকে বাধা দিচ্ছিল। কারণ আমি বুরকা পরেছি।‘তারা ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান দেওয়া শুরু করে। আমিও ‘আল্লাহু আকবার’ বলে চিৎকার শুরু করি। কলেজের অধ্যক্ষ এবং প্রভাষকরা আমাকে সমর্থন জানান। তারা আমাকে রক্ষা করেন।
মুসকান বলেন, আন্দোলনরত ছাত্র-ছাত্রীরা ১০ শতাংশকে তিনি চেনেন। বাকিরা বহিরাগত বলে ধারণা তার। তিনি বলেন, ‘শিক্ষা আমাদের অগ্রাধিকার। তারা আমাদের শিক্ষা ধ্বংস করছে।’
গত এক মাসের বেশি সময় ধরে কর্ণাটকের বিভিন্ন স্কুল কলেজে একদিকে হিজাব পরে ক্লাস করার অনুমতির দাবিতে আন্দোলন করছে মুসলিম ছাত্রীরা। অন্যদিকে  হিন্দু শিক্ষার্থীদের এক গোষ্ঠী গেরুয়া ওড়না পরে হিজাববিরোধী আন্দোলন শুরু করেছে।
কর্ণাটকে এই আন্দোলনের সূত্রপাত হয়েছে গত মাসে উদুপি জেলার সরকারি বালিকা পিইউ কলেজে ছয়জন মুসলিম ছাত্রীকে হিজাব পরার কারণে শ্রেণিকক্ষের বাইরে বসতে বাধ্য করার পর। সে সময় কলেজ প্রশাসন জানায়, ইউনিফর্মের অংশ নয় হিজাব এবং ওই ছাত্রীরা কলেজের নিয়ম লঙ্ঘন করেছে। ছাত্রীদের ক্লাসে হিজাব পরার বিষয়ে আপত্তি জানায় স্থানীয় ডানপন্থী বিভিন্ন গোষ্ঠী ও তাদের ছাত্র সংগঠন।
এনডিটিভি থেকে মুসকানকে জিজ্ঞাসা করা হয়, কলেজে এর আগে তাকে হিজাব নিয়ে এমন পরিস্থিতিতে পড়তে হয়েছিল কি না। মুসকান জানান, তিনি কখনও এমন অবস্থায় পড়েননি। তবে সেদিনই তার আগে পাঁচ মুসলিম নারী শিক্ষার্থী বোরকার কারণে হয়রানির শিকার হয়েছেন। তারা কাঁদছিলেন। আর প্রতিবাদ জানান মুসকান।
আইনে হিজাব পরে মুসলিম ছাত্রীদের ক্লাসে আসতে কোনও বাধা নেই। অনেক শিক্ষার্থী হিজাববিরোধী অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি শুরু করে এবং বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দেয়। মুসকান বলেছে, ‘এটি গত সপ্তাহে শুরু হয়েছে। আমরা সব সময় হিজাব এবং বোরকা পরে আসি। আমি ক্লাসে হিজাব পরতাম এবং বোরকা খুলে রাখতাম।’
মুসকান জানায়, হিজাব আমাদের অংশ। আমাদের কলেজের অধ্যক্ষ কখনই এ বিষয়ে কিছু বলেননি। বহিরাগতরা এটা শুরু করেছে। পরে অধ্যক্ষ আমাদের কলেজে বোরকা না আনার পরামর্শ দিয়েছেন। আমরা হিজাবের জন্য আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যাব। এটা একজন মুসলিম তরুণীর অধিকার।
মুসকান জানান, তার হিন্দু বন্ধুরাও তাকে সমর্থন জানিয়েছে। তিনি বলেন, আমি নিরাপদ বোধ করছি। সকাল থেকে প্রত্যেকেই আমাকে বলেছে, আমরা তোমার সাথে আছি।
ভিডিও দেখতে ক্লিক করুন:  https://www.facebook.com/OfficialRazimuzzamnHridoyAplus/videos/254969893457162

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই রকম আরো সংবাদ

এ প্লাস ডিজিকম সার্ভিস

© All rights reserved © 2020 Aplusnews.Live
Design & Development BY Hostitbd.Com

অনুমতি ছাড়া নিউজ কপি দন্ডনীয় অপরাধ। কপি করা যাবে না!!