শুক্রবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৮:০৭ পূর্বাহ্ন
নিউজ ফ্লাশ
দেশে কমেছে করোনায় মৃত্যু ও আক্রান্তের হার শিক্ষার্থীদের অসুস্থ হওয়ার ঘটনায় স্কুলগুলো মনিটর করা হচ্ছে: শিক্ষামন্ত্রী ই-অরেঞ্জের ভুক্তভোগী গ্রাহকদের বিক্ষোভে লাঠিচার্জ আরও ২৩ টন ইলিশ মাছ পৌঁছেছে ভারতে করোনায় প্রাণ হারালেন অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী রোদেলা কোভিড-১৯ টিকাকে ‘বৈশ্বিক জনস্বার্থ সামগ্রী’ হিসেবে ঘোষণা করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ডিসিপিইউকে’র করোন সচেতনতা মুলক ক্যাম্পেইন প্রোগ্রাম ও পথ নাটক আগামী ১৭ অক্টোবর গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা বাংলাদেশি ভেবে ভারতীয় তরুণকে সীমান্তে গুলি করে হত্যা করেছে বিএসএফ রিজেন্ট কাণ্ড: সাহেদের সাথে সাবেক স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকও আসামি

করোনাকালে বিগ বাজেট: থাকছে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : শুক্রবার, ৪ জুন, ২০২১

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের মধ্যে নতুন (২০২১-২২) অর্থবছরের বাজেট পেশ করলেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। প্রস্তাবিত এই বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা। যে বাজেটে রয়েছে সব মানুষের চাওয়া-পাওয়ার মেলবন্ধন। এতে ২ লাখ ১৪ হাজার ৬৮১ কোটি টাকার ঘাটতি ধরার পরও নিম্নবিত্ত থেকে শুরু করে উচ্চবিত্তের জীবন-জীবিকার পথপরিক্রমার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এবারের বাজেটের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে, ‘জীবন জীবিকার প্রাধান্য দিয়ে সুদৃঢ় আগামীর পথে বাংলাদেশ’। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী হিসেবে তৃতীয়বারের মতো তিনি এই বাজেট পেশ করেন।

বাজেট অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। অধিবেশনের আগে জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিশেষ মন্ত্রিসভা বৈঠকে বাজেট উপস্থাপনের জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়। এর আগে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের কাছ থেকে অর্থ বিলের অনুমোদন নেওয়া হয়।

ঘড়ির কাঁটায় যখন বিকাল ৩টা, তখন প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সংসদের অধিবেশন কক্ষে প্রবেশ করেন। এ সময় তাদের সঙ্গে ছিলেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হকও। স্পিকারের অনুমতি নিয়ে অর্থমন্ত্রী ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট ও ২০২০-২১ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেট উপস্থাপন করেন।

শুরুতে তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। ১৯২ পৃষ্ঠার বাজেট বক্তৃতার বেশিরভাগ অংশই ডিজিটাইজেশনের মাধ্যমে উপস্থাপন করেন তিনি। এ ছাড়া কোনো কোনো অধ্যায় টেবিলে উপস্থাপনের মাধ্যমে পঠিত বলে গণ্য করা হয়।

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে প্রস্তাবিত বাজেটে। একই সঙ্গে পরিবেশ সুরক্ষার জন্য বেশকিছু প্রকল্প গ্রহণের বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বাজেটে মুজিব জন্মশতবার্ষিকী, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী, অর্থনীতির এলাকায় বাংলাদেশের অবস্থানসহ উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ ও ভবিষৎ পথপরিক্রমা তুলে ধরা হয়।

কর্মসংস্থান ও অর্থনীতিকে গতিশীল করার পাশাপাশি জরুরি সেবা নিশ্চিতের বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশাল আকারের বাজেটের আয়-ব্যয়ের বিপুল পরিমাণ ঘাটতির মধ্যেও জীবন-জীবিকার প্রয়োজনে সব শ্রেণির মানুষ ও ব্যবসায়ীদের বাঁচাতে আশার কথা শোনানো হয়েছে।

প্রস্তাবিত বাজেটে ২ লাখ ১৪ হাজার ৬৮১ কোটি টাকার ঘাটতি ধরা হয়েছে। এই ঘাটতি পূরণে সরকার রাজস্ব আদায়ের দিকে তেমন নজর দেয়নি। কারণ হিসেবে জীবন ও জীবিকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ কোনো মানুষের ওপর তেমন কর আরোপ করার ব্যাপারে আগ্রহ দেখানো হয়নি। তবে করের আওতা না বাড়ালেও, জাল বাড়ানো হবে। যারা টিআইএন নম্বর নিয়েছেন, তাদের কাছ থেকে ঠিকমতো কর আদায়ের ব্যাপারে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

নতুন করে কর আদায়ের ইচ্ছা সংবরণ করা হয়েছে। নতুন উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের করছাড়সহ বিনিয়োগকারীদের জন্য কিছু সুবিধা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কর ও ভ্যাটে কিছু অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় শিল্পে সুরক্ষার জন্য ছাড়ের মাধ্যমে কর্মসংস্থান বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাজেটে ঘাটতি পূরণে দুটি পথ অবলম্বন করা হয়েছে। একটি বৈদেশিক সহায়তা, অন্যটি অভ্যন্তরীণ ঋণ।

বৈদেশিক সহায়তা প্রাক্কলন করা হয়েছে ১ লাখ ১ হাজার ২২৮ কোটি টাকা। আর অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে নেওয়া হবে ১ লাখ ১৩ হাজার ৪৫৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে ব্যাংকিং খাতের ঋণের পরিমাণ ধরা হয়েছে ৭৬ হাজার ৪৫২ কোটি টাকা।

কর্মসংস্থানের কথা চিন্তা করে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে ২ লাখ ২৫ হাজার ৩২৪ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। এডিপিতে ১০টি খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে মেগা প্রকল্পে বরাদ্দ বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির হার ধরা হয়েছে ৭ দশমিক ২ শতাংশ। আর মূল্যস্ফীতি ধরা হয়েছে ৫ দশমিক ৩ শতাংশ।

প্রস্তাবিত বাজেটে বেশকিছু কৃষিপণ্যে ভ্যাট অব্যাহতি দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া সার, বীজ, কীটনাশক আমদানিতে শুল্ক অব্যাহতি থাকছে। অনেক পণ্যের দাম কমবে। কিছু কিছু পণ্যের দাম বাড়বেও। স্যানিটারি, ন্যাপকিন, করোনা কিট, শৌচাগার প্যান, অটিজম সেবা, ইস্পাত, মুড়ি, মুরগি ও মাছের খাবার, ক্যানসারের ওষুধ, মেডিকেল ডিভাইস, দেশি এলপিজি সিলিন্ডার, দেশি খেলনা, ডায়ালাইসিসের টিউবের দাম কমতে পারে। আর দাম বাড়তে পারে মোবাইল ফোন সেট, বিদেশি মাংস, মাশরুম, বিদেশি গাজর, শিল্পলবণ, বিদেশি সাবান, চুইংগাম, বিদেশি বিস্কুট, বিদেশি রড ও সমজাতীয় পণ্যের।

করোনার টিকার জন্য বিশেষ ১০ হাজার কোটি টাকার তহবিল রাখা হচ্ছে। এ ছাড়া স্বাস্থ্য খাতে রাজস্ব ও উন্নয়ন বাজেটে বরাদ্দের পরিমাণ বাড়ছে। স্বাস্থ্য গবেষণার জন্য ১০০ কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ রাখা হচ্ছে।

কালো টাকা সাদা করার বিষয়টি অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতায় উল্লেখ না থাকলেও, প্রতিবছরের মতো আগামীতেও বেশকিছু খাতে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ থাকছে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে- আবাসন, পুঁজিবাজার, নতুন শিল্প স্থাপন। কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ রয়েছে। আইটি খাতে প্রায় ১০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলে আভাস দেওয়া হয়েছে। তৃতীয় লিঙ্গের মানুষকে চাকরি দিলে করছাড় পাওয়া যাবে। ভ্যাট-ফাঁকির প্রবণতা কমাতে জরিমানা কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। টিআইএন নিয়ে আগামী বাজেটে বেশ কিছু নির্দেশনা থাকছে। এর মধ্যে বাড়ির নকশা ও সমবায় সমিতির অনুমোদনে টিআইএন বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। গ্রামে বাড়ি করলেও কর দিতে হবে। তবে ১০ বছরের জন্য কর অব্যাহতি পাচ্ছে দেশে তৈরি পণ্য।

আগামী বাজেট নিয়ে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই প্রেসিডেন্ট মো. জসিমউদ্দিন বলেন, সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য বাজেটের আকার অবাস্তব নয়; বরং সময়োপযোগী। তবে বাজেট বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ হচ্ছে- সুশাসন, যথাযথ মনিটরিং, বিনিয়োগ ও উৎপাদন বাড়িয়ে বাণিজ্যবান্ধব করা। একই সঙ্গে সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কাক্সিক্ষত মাত্রার রাজস্ব আদায় করা।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, এ সময়ে এ ধরনের বাজেটের প্রয়োজন ছিল। তবে সরকারের সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ নেওয়া কমাতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, এই বাজেট বাস্তবায়ন করা কঠিন হবে। যে কারণে বাজেট বাস্তবায়নে আরও বেশি নজর দিতে হবে।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, এমনিতে স্বাস্থ্য খাত পিছিয়ে আছে। এই বাস্তবতায় স্বাস্থ্য খাতে বড় ধাক্কা সামলানোর জন্য সক্ষমতা প্রয়োজন। সরকারি বিনিয়োগ বাড়ছে না। বিনিয়োগ না বাড়লে কর্মসংস্থান বাড়বে না। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের অনেকের ব্যাংক হিসাব নেই। তাদের জন্য এনজিওর মাধ্যমে ঋণ বিতরণের উদ্যোগ নিতে হবে।

(সময়ের আলো)

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই রকম আরো সংবাদ

এ প্লাস ডিজিকম সার্ভিস

© All rights reserved © 2020 Aplusnews.Live
Design & Development BY Hostitbd.Com