শনিবার, ০১ অক্টোবর ২০২২, ০৬:৪৫ পূর্বাহ্ন

কাগজে তেলের দাম ১৯৮ টাকা, বিক্রি হচ্ছে এর থেকে বেশি দামে; ‘তবুও সঙ্কট’

এপ্লাস অনলাইন
  • আপডেট সময় : শনিবার, ৭ মে, ২০২২

 

আবারও দাম বাড়ানো হয়েছে ভোজ্য তেলের। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে এবার লিটারপ্রতি দাম বেড়েছে ন্যূনতম ৩৮ টাকা। সর্বোচ্চ বেড়েছে ৪৪ টাকা। দাম বাড়লেও বাজারে সব দোকানে পাওয়া যাচ্ছে না সয়াবিন তেল। যেসব দোকানে আছে সেখানে তেল বিক্রি হচ্ছে নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক বেশি দরে। ঢাকার কয়েকটি বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।

বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা হোসনি মোবারক বাজার করতে এসেছিলেন রাজধানীর রামপুরা বাজারে। অন্যান্য সওদা পর তেল কিনতে চাইলে দোকানে কোনো ধরনের সয়াবিন তেল নেই জানিয়ে অন্য দোকানে খোঁজার পরামর্শ দেন দোকানি আলমগীর হোসেন।

বাজারের অনেক দোকানে ঘুরে শেষ পর্যন্ত একটি দোকানে দুই লিটারের বোতল পান এই ভোক্তা। কিন্তু দোকানি দুই লিটার তেলের দাম হাঁকেন ৪৮০ টাকা, যা নতুন নির্ধারিত লিটারপ্রতি দামের চেয়েও ৪২ টাকা বেশি। কিছুক্ষণ বাকবিতণ্ডার পর ওই দামেই তেল কেনেন হোসনি মোবারক।

তিনি সময়ের আলোকে বলেন, ‘ঈদ উপলক্ষে কিছু আত্মীয়কে দাওয়াত দিয়েছি বাসায়। তেল ছাড়া তো মাছ-মাংস রান্না সম্ভব নয়। তাই বাধ্য হয়ে বেশি দাম দিয়েই তেল কিনতে হলো। এ ছাড়া আর কিইবা করার আছে! একটি দোকানেই তেল পেলাম। আর কোনো দোকানেই তেল নেই।’

সাধারণ দোকানদাররা জানান, তেলের জোগান নেই। পাইকাররা তেল দিচ্ছে না বলেই তারা বিক্রি করতে পারছেন না। দাম বেশি রাখার বিষয়ে কয়েকজন দোকানি সময়ের আলোকে বলেন, ‘আমাদের তেল কিনতে হচ্ছে বেশি দামে। তারপরও তেল পাচ্ছি না। যে দাম সরকার নির্ধারণ করে দিয়েছে আমরাই কিনছি সে দামের চেয়ে অনেক বেশি দিয়ে। ১৬০ টাকায় আমরা বিক্রি করব কীভাবে? এ ছাড়া আগে কোম্পানি থেকে তেল দিয়ে যেত দোকানে। কিন্তু এখন নিজেদের খরচে কোম্পানির গোডাউন থেকে আনতে হচ্ছে। এতে লেবার খরচ, পরিবহন খরচ বাড়ছে। তাই আমরা বাধ্য হচ্ছি বেশি দামে বিক্রি করতে। এর মধ্যে দাম বেশি রাখায় ভোক্তা অধিকার এসে জরিমানা করে। এ কারণে আমরা অনেকে তেলই আনি না। অযথা জরিমানা দিতে যাব কেন? ভোক্তা তো কেবল আমাদের সঙ্গে পারে, তারা কোম্পানির সঙ্গে পারে না।’

দোকানে তেলের সঙ্কটের বিষয়ে কথা হয় ভোজ্য তেলের পাইকারি ব্যবসায়ী গোলাম মওলার সঙ্গে। তিনি সময়ের আলোকে বলেন, ‘বাজারে যে পরিমাণ তেলের চাহিদা রয়েছে সে তুলনায় সরবরাহ কম। দাম বাড়ার কারণে তেল সরবরাহ বাড়বে। সরকার নির্ধারিত দামে তেল বিক্রি করা যায় না। আমদানি ব্যয়, সরবরাহ ব্যয় সবকিছুই বাড়তি। এ কারণে নির্ধারণ করে দেওয়া দামে তেল বিক্রি করা সম্ভব হয়নি। এবার দাম বাড়ায় জোগান স্বাভাবিক হবে।’

দাম বাড়ানোর জন্যই বাজারে কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করা হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন. ‘এটা মিলমালিকদের জিজ্ঞেস করেন। তারা তেল না দিলে আমরা বাজারে সরবরাহ করব কীভাবে।’

বাজারে তেলের সরবরাহ না থাকার কথা অস্বীকার করে সিটি গ্রুপের কোম্পানি সচিব তপন কান্তি ঘোষ সময়ের আলোকে বলেন, ‘বাজারে তেল যাচ্ছে। তেল সরবরাহে কোনো সমস্যা নেই। ভোক্তা অধিকারের ফাইন্ডিংস অনুযায়ী মিলগেট থেকে পর্যাপ্ত তেল বের হচ্ছে। কিন্তু খুচরা পর্যায়ে তেল পাওয়া যাচ্ছে না। এর দায় অবশ্যই পাইকারি এবং খুচরা বিক্রেতাদের। তারা দাম বাড়ার আশায় তেল মজুদ করে রাখছে। এর দায় তো আমরা নিতে পারব না। তবে নতুন করে দাম সমন্বয় হওয়ায় আশা করা যায় দুই-চার দিনের মধ্যেই বাজার স্বাভাবিক হবে।’

বৃহস্পতিবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠকে তেলের দাম পুনরায় নির্ধারণ করে ভোজ্য তেল পরিশোধন ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠান মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন।

নতুন করে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি লিটার ১৯৮ টাকা। এর আগে লিটারপ্রতি নির্ধারিত দাম ছিল ১৬০ টাকা। খোলা সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে সবচেয়ে বেশি। লিটারে ৪৪ টাকা বাড়িয়ে ১৮০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে এ তেলের দাম।

এর পাশাপাশি বেড়েছে অন্যান্য ভোজ্য তেলের দামও। বোতলজাত পাঁচ লিটার সয়াবিন তেলের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৯৮৫ টাকা, যা আগের দাম ছিল ৭৬৫ টাকা। অর্থাৎ ৫ লিটারে দাম বেড়েছে ২২০ টাকা। ১৩০ টাকায় বিক্রি হওয়া পাম অয়েলের দাম ৪২ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ১৭২ টাকা।

বর্তমানে বাজারে সয়াবিন তেলের পাশাপাশি অন্যান্য তেলের দামও বাড়তি। রামপুরার বাজারের একটি দোকানে সয়াবিন তেল না পেলেও সেখানে রাইস ব্রান এবং সানফ্লাওয়ার তেল দেখা যায়। এ দোকানে পাঁচ লিটারের বোতলজাত সানফ্লাওয়ারের দাম চাওয়া হচ্ছে ১ হাজার ৫০০ টাকা। ঈদের আগের দিনও এ তেল ৫ লিটার পাওয়া গেছে ১ হাজার ২০০ টাকায়।

অর্থাৎ সয়াবিন তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার পর সানফ্লাওয়ারের দামও বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। পাঁচ লিটারের রাইস ব্রান অয়েল বিক্রি হচ্ছে ৯৬৫ টাকায়। ঈদের আগে এ তেল বিক্রি হয় ৯০০ টাকায়। এদিকে সরিষার তেল বিক্রি হচ্ছে লিটারপ্রতি ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা দরে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই রকম আরো সংবাদ

এ প্লাস ডিজিকম সার্ভিস

© All rights reserved © 2020 Aplusnews.Live
Design & Development BY Hostitbd.Com

অনুমতি ছাড়া নিউজ কপি দন্ডনীয় অপরাধ। কপি করা যাবে না!!