শুক্রবার, ০৭ অক্টোবর ২০২২, ০৮:৪৮ পূর্বাহ্ন

গ্রামীণফোনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা,অন্যদের বিরুদ্ধে কী অবস্থা নেওয়া হবে?

এপ্লাস অনলাইন
  • আপডেট সময় : শুক্রবার, ১ জুলাই, ২০২২
অস্পষ্ট কথা, সেই সঙ্গে কলড্রপ। পুনরায় সংযোগ পেতে একাধিক বার চেষ্টা। শহর ও গ্রামে নেটওয়ার্ক ভোগান্তি নিয়ে এভাবেই চলছে দেশের মোবাইল টেলিযোগাযোগ। অভিযোগ করেও মিলছে না প্রতিকার। এতে অসন্তুষ্ট ও ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা।
সেবার মান ঠিক না থাকায় সম্প্রতি দেশের শীর্ষস্থানীয় টেলিকম প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ ফোনের নতুন সিম বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান বিটিআরসি। আর এতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী গ্রাহকরা।
তবে প্রশ্ন উঠেছে, গ্রামীণফোনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলেও রবি-এয়ারটেল, বাংলালিংক ও টেলিটকের বিরুদ্ধে কী অবস্থা নেওয়া হবে? তাদেরও তো সেবার মান ভালো নয়। এ বিষয়ে বিটিআরসি বলছে, অন্য অপারেটরদের জন্য এটা একটা মেসেজ। তারা যদি তাদের সেবার মান ঠিক না করে, তাদেরও গ্রামীণফোনের পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে জানান ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।
সিম বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা প্রসঙ্গে গ্রামীণফোনের হেড অব কমিউনিকেশন খায়রুল বাশার বলেন, দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় টেলিকম ব্র্যান্ড গ্রামীণফোন বিটিআরসি ও আন্তর্জাতিক সংস্থা আইটিইউর সেবার মানদণ্ড অনুসরণ করার পাশাপাশি সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে ওই মানদণ্ড থেকেও এগিয়ে আছে। ধারাবাহিকভাবে নেটওয়ার্ক ও সেবার মানোন্নয়নে আমরা বিটিআরসির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছি এবং নেটওয়ার্ক আধুনিকীকরণে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছি। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হওয়া নিলামেও গ্রামীণফোন সর্বোচ্চ অনুমোদিত তরঙ্গ অধিগ্রহণ করেছে। এ অবস্থায় অপ্রত্যাশিত এ চিঠি ও নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করছি। আমরা মনে করি, আমাদের সম্ভাব্য গ্রাহকদের স্বার্থে নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনাই হবে এ সমস্যা সমাধানের সর্বোত্তম উপায়।
মানসম্পন্ন নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট ও টেলিযোগাযোগ সেবা পেতে দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম, অভিযোগ এবং হাইকোর্টের শরণাপন্ন হয়েও গ্রাহকরা কোনো সুরাহা পাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন গ্রাহক স্বার্থ নিয়ে কাজ করা সংগঠন বাংলাদেশ মোবাইল ফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ সময়ের আলোকে বলেন, দেশের সেবা খাতে সর্বোচ্চ কর দেয় মোবাইল ফোন গ্রাহক।
কিন্তু এ সেবায় অপারেটর বা নিয়ন্ত্রণ সংস্থার কারও কোনো জবাব না থাকায় গ্রাহকরা মানসম্পন্ন সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তিনি বলেন, কোয়ালিটি সার্ভিস প্রদানে বাধ্য করতে আমরা রাজপথের সংগ্রামের পাশাপাশি হাইকোর্টে রিপিটেশন দাখিল করি। তার পূর্বে নিয়ন্ত্রণ সংস্থা এবং মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ দায়ের করেও প্রতিকার পাইনি। অবশেষে নিয়ন্ত্রণ কমিশনের টনক নড়ে। তারা গ্রামীণফোনের নতুন সংযোগ বিক্রি বন্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। কিন্তু মার্কেটে তাদের এখনও প্রায় ১ কোটি সিম সক্রিয় হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।
ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, সবচেয়ে বেশি গ্রাহক গ্রামীণফোনের। এরপর রয়েছে রবি ও বাংলালিংক। আমরা চেষ্টা করেও গ্রামীণফোনের সেবার মান ভালো করার কোনো উদ্যোগ নিতে দেখিনি। তারা গ্রাহক বাড়াবে, কিন্তু সেবার মান বাড়াবে না, এটা হতে দেওয়া যায় না। যতদিন না তারা সেবার মান ভালো করবে এবং তা সন্তোষজনক পর্যায়ে উন্নীত না হবে ততদিন গ্রামীণফোনের সিম বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা থাকবে।
তিনি বলেন, কোয়ালিটি সার্ভিসে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। রবি-এয়ারটেল, বাংলালিংক ও টেলিটককেও সতর্ক করা হয়েছে। তারা যদি কোয়ালিটি সার্ভিস দিতে না পারে তাদেরও গ্রামীণফোনের পরিণতি ভোগ করতে হবে।
বিটিআরসির ভাইস চেয়ারম্যান সুব্রত রায় মৈত্র সময়ের আলোকে বলেন, গ্রামীণফোনের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ পেয়েছি। তাই সেবার মান ঠিক না করে নতুন কোনো সিম বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
বিটিআরসির তথ্য বলছে, চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত দেশে মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১৮ কোটি ৪০ লাখ ২৩ হাজার, এর মধ্যে গ্রামীণফোনের গ্রাহক রয়েছে ৮ কোটি ৪৯ লাখ ৫০ হাজার, রবি অজিয়াটা ৫ কোটি ৪২ লাখ ৫ হাজার, বাংলালিংক ৩ কোটি ৮২ লাখ ৫০ হাজার ও রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান টেলিটকের গ্রাহক রয়েছে ৬৭ লাখ ৮ হাজার।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই রকম আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Aplusnews.Live
Design & Development BY Hostitbd.Com

অনুমতি ছাড়া নিউজ কপি দন্ডনীয় অপরাধ। কপি করা যাবে না!!