শনিবার, ০১ অক্টোবর ২০২২, ০৬:৫৪ পূর্বাহ্ন

জুনে বাজারে আসছে রংপুরের বিখ্যাত হাড়িভাঙ্গা আম, এবার ২শ কোটি টাকার বিক্রির সম্ভাবনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : শুক্রবার, ২৭ মে, ২০২২

 

 

সারাদেশে সুখ্যাতি রয়েছে রংপুরের হাড়িভাঙ্গা আমের । পাশাপাশি চাহিদাও রয়েছে অনেক। দেশ ছাড়িয়ে বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে এই আম। গত বছর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, পাকিস্তানের সদ্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে উপহার হিসেবে এই আম পাঠালে তা ব্যাপক আলোচনায় আসে।

একসময় মিঠাপুকুরের পদাগঞ্জ ও বদরগঞ্জ কিছু অংশে এই আমের ফলন হলেও এখন সম্পূর্ণ রংপুর জেলার বিভিন্ন স্থানে এর ফলন বিস্তৃত হয়েছে। এই আম চাষে অনেকের ভাগ্য বদলে গিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় এবার রংপুর জেলায় আমের ফলন ভালো হয়েছে এবং এতে খুশি চাষিরা।

মিঠাপুকুরের পদাগঞ্জ,বদরগঞ্জের গোপালপুর,কুতুবপুর,সদর উপজেলার সদ্যপুষ্করনীসহ বিভিন্ন স্থানে হাড়িভাঙ্গা আমের বাগান রয়েছে।

অন্যান্য বছর হাড়িভাঙ্গা আম এ ১২০ থেকে ১৫০ কোটি টাকার বিক্রি হলেও এবার ২শ কোটি টাকার আম বিক্রির কথা জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।

জানা গেছে, ৩৫ বছর আগে থেকে রংপুরের এই হাড়িভাঙ্গা আম চাষ হচ্ছে। এর বৈশিষ্ট্য হলো আঁশবিহীন মিষ্টি ও সুস্বাদু খুবই পাতলা এবং আটি ছোট প্রতিটি ওজন ১৫০ থেকে ৩০০ গ্রাম। সাধারণত জুনের তৃতীয় সপ্তাহে এই আম বাজারে আসে তাই এবার ২০ জুন গাছ থেকে নামানো হবে হাড়িভাঙ্গা আম।

পদাগঞ্জ এলাকায় প্রথমে বাণিজ্যিকভাবে হাড়িভাঙ্গা আম চাষ শুরু করেন আব্দুস সালাম। তার সফলতা দেখে ওই এলাকার চাষিরা আম চাষ শুরু করেন। এই এলাকার মাটি লাল ও কাদাযুক্ত হওয়ায় বছরে একবার ধান ছাড়া অন্য কোন ফসল উৎপাদিত হতো না। সে কারণে এলাকার সবাই হাড়িভাঙ্গা আম চাষ শুরু করেন। এই সুনাম ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র এরপর পীরগঞ্জ উপজেলার লাল মাটিতে হাড়িভাঙ্গা আমের বাণিজ্যিক চাষ শুরু হয়।

এই আম চাষে এলাকার মানুষ এখন স্বাবলম্বী। চাষীদের ভাগ্য বদলে দিয়েছে। গত কয়েক বছরে গ্রামের দৃশ্য বদলে গেছে এখন আম চাষ দিয়ে পুরো বছর সংসার চলে তাদের।

বর্তমানে বাগানের মালিক,, নিরাপত্তাকর্মী, মৌসুমী বিক্রেতা ও পরিবহনকারীরা আম বিক্রির প্রস্তুতি নিচ্ছে।

এ নিয়ে নানা উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসক। রংপুরের জেলা প্রশাসক হাসিব আহসান বলেন, ক্রেতারা সরাসরি বাগান থেকে আম কিনতে পারেন সেজন্য বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা পাইকারদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে। টাকা লেন-দেন এর জন্য ব্যাংকের অস্থায়ী বুথ খোলা হয়েছে। আম বিভিন্ন এলাকায় পাঠানোর জন্য কুরিয়ার সার্ভিস পদাগঞ্জে কুরিয়ার সার্ভিসগুলোর শাখা স্থাপন করা হয়েছে। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

সরেজমিনে পদাগঞ্জ এলাকার বিভিন্ন আমবাগান ঘুরে দেখা গেছে, শত শত একর জুড়ে আমের বাগান প্রতিটি গাছে ঝুলছে আম। এরই মধ্যে অনেকটা পরিপক্ক হয়ে গেছে এখন নামানোর অপেক্ষা।

আমচাষি নূর হাসান জানিয়েছেন, করোনার কারণে গত দুই বছর আমরা হয়নি বাজার দর কম ছিল এজন্য তেমন লাভ হয়নি এবার করোনার সংক্রমণ কমে গেলেও ঝড় বৃষ্টির কারণে ঝরে গেছে অনেক আম। বর্তমানে কাছে যা আছে ভালো দাম পেলে লাভবান হবেন।

সালাম হোসেন নামে আরেক আম চাষি জানান,গত দুই বছর করোনার কারণে আমরা ন্যায্যমূল্য পাইনি এবার ঝড় বৃষ্টির কারণে অনেক আম ধরে গেছে সে কারণে আড়াই হাজার টাকার উপরে মন বিক্রি করতে না পারলে তাদের লাভ হবে না।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক মোঃ শামীমুর রহমান বলেন, এবার রংপুরে ৮৮৭ হেক্টর জমিতে হাড়িভাঙ্গা আম চাষ হয়েছে। যা গত বছরের চেয়ে পঞ্চাশ হেক্টর বেশি। প্রায় ৩০ হাজার মেট্রিক টন আম উৎপাদন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। উৎপাদিত আম ২শ কোটি টাকার ব্যবসা হবে।

এদিকে হাড়িভাঙ্গা আমকে কেন্দ্র করে ফেসবুকসহ বিভিন্ন অনলাইন প্লাটফর্মে আম বেচাকেনার প্রচারণা করছে মৌসুমি ব্যাবসায়ীরা।

 

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই রকম আরো সংবাদ

এ প্লাস ডিজিকম সার্ভিস

© All rights reserved © 2020 Aplusnews.Live
Design & Development BY Hostitbd.Com

অনুমতি ছাড়া নিউজ কপি দন্ডনীয় অপরাধ। কপি করা যাবে না!!