শুক্রবার, ০৭ অক্টোবর ২০২২, ০৯:০২ পূর্বাহ্ন

জেঁকে বসেছে হাড়কাঁপানো শীত,রংপুর অঞ্চলে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা

রাজিমুজ্জামান হৃদয়
  • আপডেট সময় : শুক্রবার, ২৮ জানুয়ারী, ২০২২
Exif_JPEG_420

চলছে মাঘ মাস। রংপুরসহ সমগ্র উত্তরাঞ্চলে জেঁকে বসেছে শীত; সেই সঙ্গে কুয়াশা ও হিমেল বাতাস শীতের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে।হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত এই অঞ্চলের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ।শুক্রবার (২৮ জানুয়ারি) সকালে রংপুরে ৮ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।

 

এদিকে কুড়িগ্রামের রাজারহাটে দেশের সর্বনিম্ন ৬ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে বলে রংপুর আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ মোস্তাফিজার রহমান জানিয়েছেন।যা রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলে গত পাঁচ বছরের মধ্যে এটি সর্বনিম্ন তাপমাত্রা।

 

সকালের দিকে ঘন কুয়াশা ঝরছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রোদের দেখা মিললেও তার তাপ নেই বললেই চলে।  তবে বিকেল থেকে  আবার দেখা মেলে না রোদের।কনকনে বাতাস ও ঘন কুয়াশার কারণে শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে। রাত যত গভীর হয়; ততই গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির ফোটার মত কুয়াশা ঝড়ে।জেলার বিভিন্ন সড়কে হেডলাইট জ্বালিয়ে যানবাহান চলাচল করতে দেখা গেছে।ঘরে বাইরে উষ্ণতা পেতে শরীরে উঠেছে মোটা কাপড়। যেন জেঁকে বসেছে হাড়কাঁপানো শীত।

 

আবহাওয়া অফিস বলছে, রংপুর অঞ্চলে তাপমাত্রা ৬ থেকে ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ওঠানামা করছে। শৈত্যপ্রবাহ আরও কয়েকদিন থাকবে।তাপমাত্রা আরও নেমে যাওয়ার শঙ্কা প্রকাশ করেছে আবহাওয়া অফিস।

 

এমন অবস্থায় কাজে বের হতে না পেরে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ।শীতে গবাদি পশু নিয়েও চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। বিশেষ করে চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন বাঁধে আশ্রয় নেয়া মানুষগুলো চরম মানবেতর জীবন যাপন করছে প্রয়োজনীয় শীতবস্ত্রের অভাবে।

 

শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় নগরীতে মানুষের উপস্থিতি কম থাকে । পাশাপাশি শীতের তীব্রতা থাকায় খুব বেশি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হচ্ছেন না কেউ। কমে গেছে যানবাহন চলাচল।তবে চায়ের টং দোকান গুলোতে ভীড় বেড়েছে শীতে একটু উঞ্চতার খোঁজে।২-৩ দিন ধরে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এবং বিকেল ৪টার পর থেকে রাতভর ঘন কুয়াশা ঝরছে এ অঞ্চলে।

 

কয়েকজন নগরবাসীর সাথে কথা বললে তারা জানান, রাতের বেলায় গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টির মতো কুয়াশা ঝড়ছে। ঘন কুয়াশা আর হিমেল হাওয়ায় শিশু ও বৃদ্ধদের অবস্থা নাকাল। আগাম শীতের প্রকোপ মোছবিকাবেলায় প্রস্তুতি না থাকায় অনেকেই কষ্টে আছেন।

 

গত কয়েকদিনের তুলনায় আজ ভোর থেকে কনকনে বাতাস বইছে এবং প্রচণ্ড শীত লাগছে। অনেক মোটা কাপড় গায়ে জড়িয়েছি শীত কিন্তু মানছে না।

 

গ্রামের পাশাপাশি নগরীতেও একটু তাপের আশায় অনেকে খড়কুটা জ্বালিয়ে  শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন। আশে পাশের বিভিন্ন জেলার আগুন পোহাতে গিয়ে দগ্ধ ২২ জন বর্তমানে রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে  বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসাধীন দগ্ধ রোগীদের মধ্যে এক বৃদ্ধাসহ আরও তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

 

ঠাণ্ডাজনিত নান রোগে আক্রান্ত হয়ে শিশু ওয়ার্ডে প্রতিনিয়ত ভর্তি হচ্ছেন রোগীরা। রমেক হাসপাতালে শিশু ওয়ার্ডে তিন বছরের শিশু কন্যার চিকিৎসা নিতে আসা নগরীর তাজহাট এলাকার উর্মি বেগম বলেন, মেয়েটার চার পাঁচ দিন ধরে সর্দি আর কাশির সাথে শ্বাসকষ্ট দেখা দিয়েছে। ডাক্তার বলেছেন ঠাণ্ডার কারণে এই অবস্থা হয়েছে।

 

অন্যান্য বছর ডিসেম্বরের শুরু থেকে এ অঞ্চলে শীতের তীব্রতা বাড়লেও এ বছর শীত নেমেছে ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে। নতুন বছরের প্রথম সপ্তাহ থেকে মৃদুশৈত্য প্রবাহ শুরু হয়ে এখন তা অনেকটা মাঝারি অবস্থায় রয়েছে।

এইচ/নিজস্ব/ এপ্লাস/হৃদয়

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই রকম আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Aplusnews.Live
Design & Development BY Hostitbd.Com

অনুমতি ছাড়া নিউজ কপি দন্ডনীয় অপরাধ। কপি করা যাবে না!!