সোমবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০১:১৫ অপরাহ্ন
নিউজ ফ্লাশ
পঞ্চগড়ে মন্দিরে যাওয়ার পথে নৌকাডুবিতে শিশুসহ ২৪ জনের মৃত্যু হিজাব ইস্যুতে উত্তাল ইরান: নারীসহ ৭০০ বিক্ষোভকারী গ্রেফতার, নিহত ৩৫ শারদীয় দুর্গাপূজা: হিলি ইমিগ্রেশন দিয়ে যাত্রী পারাপার বেড়েছে ফেসবুকে ইসলাম ধর্ম নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য, বেরোবি শিক্ষার্থী আটক আগামী পহেলা ডিসেম্বর বিভাগীয় লেখক পরিষদ রংপুরের এক যুগ পূতি নগরজুড়ে চ্যাম্পিয়নদের ছাদ খোলা বাসে বিজয় শোভাযাত্রা খোলা বাসে বিলবোর্ড মাথায় লেগে আহত ফুটবলার ঋতুপর্ণার মাথায় দুই সেলাই এই ট্রফি আমাদের দেশের জনগণের জন্য রংপুরে জাপানি নাগরিক কুনিও হোশি হত্যা: ৪ জঙ্গির মৃত্যুদণ্ড বহাল দিনাজপুর বোর্ডের এসএসসি পরীক্ষার চার বিষয়ের পরীক্ষা স্থগিত

তেলের অস্বাভাবিক দামে ব্যাবসায়ীদের নতুন তেলেসমাতি

এপ্লাস অনলাইন
  • আপডেট সময় : শুক্রবার, ১১ মার্চ, ২০২২

 

ভোজ্য তেল ব্যবসায়ীরা আর কত ছলচাতুরী করবেন। ভোক্তাকে ঠকাতে আর নিজেদের মুনাফা লুফে নিতে তেল ব্যবসায়ীরা সয়াবিন তেল বেচতে শুরু করেছেন নতুন তেলেসমাতি। বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো দোকানদারদের তেলের সঙ্গে অন্য চারটি পণ্য নিতে বাধ্য করছেন, নতুবা তারা তেল দিচ্ছেন না।

আর মুদি দোকানদাররা তেলের সঙ্গে এসব পণ্য নিতে বাধ্য করছেন, না হলে ভোক্তার ভাগ্যে জুটছে না সয়াবিন তেল। বৃহস্পতিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, কল্যাণপুর নতুন বাজার, মোহাম্মদপুর টাউনহল বাজারসহ বিভিন্ন বাজারের দোকানদার ও ভোক্তার সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য জানা গেছে।

হঠাৎ কী কারণে এ কৌশল জানতে চাওয়া হয় দোকানদার ও সয়াবিন তেলের সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের কাছে।

তাদের ভাষ্য মতে, গত কয়েক মাস ধরে ভোজ্য তেলের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির কারণে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, ভোক্তা অধিদফতর, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বাজারে ব্যাপকহারে অভিযান চালানোয় এবং জরিমানা করার কারণে ব্যবসায়ীদের অত্যধিক লাভের পথ কিছুটা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বাজারে নজরদারি বাড়ানোয় ব্যবসায়ীরা তাদের অসাধু কারবারও কিছুটা গোটাতে বাধ্য হয়েছেন। এতে লাভের অংশে ছেদ পড়ছে। ফলে কম প্রচলিত কিছু পণ্য বিক্রি করে সেখান থেকে ওই মুনাফা তুলতে এই কৌশল বেছে নিয়েছেন তারা।

তবে ব্যবসায়ীদের এ পন্থা ক্রেতার সঙ্গে জুলুম বলে মনে করছেন কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান। তিনি বলেন, ব্যবসায়ীরা যদি এ ধরনের কাজ করে থাকেন, তা হলে এটা চরম গর্হিত কাজ। তেল নিতে যদি অন্য কোনো পণ্য নিতে ভোক্তাকে বাধ্য করা হয়, তা হলে সেটা তো জুলুমের পর্যায়ে পড়ে এবং এটা সুনির্দিষ্ট ভোক্তা স্বার্থ লঙ্ঘন। সয়াবিনের সরবরাহকারী কোম্পানি বা দোকানদার কারোরই এ ধরনের কাজ করা সমীচীন নয়।

এ ধরনের মুনাফাখোরদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ভোক্তা অধিদফতরের কর্মকর্তাদের অনুরোধ জানান তিনি।

রাজধানীর কারওয়ান বাজারের হাজী স্টোরের স্বত্বাধিকারী মো. কামাল গাজী জানান, গত তিন-চার দিন ধরে সিটি গ্রুপের তীর ব্র্যান্ড ছাড়াও রূপচাঁদা, পুষ্টি এবং ফ্রেশ ব্র্যান্ডের সয়াবিন কিনতে হলে এর সঙ্গে চিনি, চা, পোলাও চাল এবং হালিম মিক্সড নিতে বাধ্য করা হচ্ছে। বিশেষ করে যে তেলের সঙ্গে ওই চার পণ্যের মধ্যে যে কোম্পানির যে পণ্য রয়েছে সেটি না নিলে সয়াবিন তেল দেওয়া হচ্ছে না।

যেমন তীর ব্র্যান্ডের সয়াবিন নিলে তাদের চিনি ও হালিম মিক্সডের প্যাকেট নিতে হচ্ছে। আর রূপচাঁদার সয়াবিন নিলে পোলাও চাল নিতে হচ্ছে। টিকে গ্রুপের পুষ্টি সয়াবিনের সঙ্গে নিতে হচ্ছে চিনি ও চায়ের প্যাকেট। ৫ লিটারের ৬ বোতল সয়াবিনের এক কার্টনের সঙ্গে এসব পণ্যের যেকোনো একটি নেওয়া ছাড়া তারা তেল দিচ্ছে না। ফলে বাধ্য হয়ে তাদের শর্তমতো তেলের সঙ্গে ওইসব পণ্য নিতে হচ্ছে আমাদের। আমরা ক্রেতার কাছে তেলের সঙ্গে যেকোনো একটি পণ্য বিক্রি করছি। তবে আমাদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

কারণ তেলের সঙ্গে ক্রেতারা এসব পণ্য একেবারেই নিতে চাচ্ছেন না। যিনি নিতে চাচ্ছেন না আমরা তার কাছে সয়াবিন তেল বিক্রিও করছি না। কারণ আমরা তো এভাবেই কিনেছি, কোম্পানিকে টাকাও দিতে হয়েছে এভাবেই। আমরা যদি ওইসব পণ্য বিক্রি করতে না পারি তা হলে তো আমাদের লোকসানে পড়তে হবে।

একই বাজারের কুমিল্লা স্টোরের স্বত্বাধিকারী আলমগীর হোসেন জানান, তার সঙ্গে তো তেল কোম্পানির লোকেদের হাতাহাতি পর্যায়ে চলে গেছে। কারণ সয়াবিনের সঙ্গে তিনি কোনোভাবেই ওই চার পণ্য নিতে রাজি নন। বাংলাদেশ এডিবল অয়েল কোম্পানির রূপচাঁদা ব্যান্ডের বিক্রয় কর্মকর্তার সঙ্গে গত বুধবার তর্কবিতর্ক হয় এই দোকানদারের।

তিনি বলেন, এমনিতেই সয়াবিন তেল বিক্রি করতে এখন নানা রকম ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে। কাস্টমার ছুটে যাবে বা অন্য দোকানে চলে যাবে তাই বাধ্য হয়ে সয়াবিন তেল বিক্রি করছি, নতুবা বিক্রি বন্ধ করে দিতাম। ফলে বাধ্য হয় সয়াবিন তেল বিক্রি করতে হচ্ছে। বুধবার আমি ৫ কার্টন রূপচাঁদা সয়াবিন তেলের অর্ডার দিয়েছিলাম। কোম্পানির লোকেরা এসে বলল এর সঙ্গে ৫০ কেজির এক বস্তা পোলাও চাল নিতে হবে, না হলে তেল দেওয়া যাবে না। আমি বললাম, পোলাও চাল আমার দোকানে পর্যাপ্ত আছে, এখন দরকার নেই- শুধু সয়াবিন তেল লাগবে। তারা চাল ছাড়া তেল দিতে নারাজ। আমি রেগে গিয়ে বললাম, এত বছর ধরে আপনাদের পণ্য বিক্রি করছি, কেন এভাবে আমাদের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছেন। ওই বিক্রয়কর্মীর সাফ জবাব, কোম্পানির মিল থেকে আমাদের যেভাবে বিক্রি করতে বলেছে আমরা সেভাবে বিক্রি করছি, আপনি নিলে নেন, না নিলে নিয়েন না। এক পর্যায়ে তার সঙ্গে তর্কাতর্কি লেগে যায় আমার। শেষ পর্যন্ত পোলাও চালসহ সয়াবিন তেল কিনতে হলো আমাকে। আমিও যে ক্রেতা তেলের সঙ্গে এক কেজি পোলাও চাল নিচ্ছে তার কাছেই বিক্রি করছি, যে নিচ্ছে না তার কাছে বিক্রি করছি না।

কারওয়ান বাজারে নিচতলা এবং দোতলার প্রতিটি মুদি দোকানে এখন একই পন্থায় বিক্রি হচ্ছে সয়াবিন তেল। তবে এতে চরম ক্ষুব্ধ ক্রেতারা। এ বাজারে সয়াবিন তেল কিনতে এসেছিলেন, রাজধানীর তেজকুনিপাড়ার বাসিন্দা কবীর হোসেন। ৫ লিটারের সয়াবিন কিনতে গেলে দোকানদার তাকে বলেন, চার পণ্যের যেকোনো একটি নিতে হবে।

তিনি বলেন, ‘দোকানদারের কথা শুনে আমি প্রথমে বুঝতে পারিনি। আবার জানতে চাইলে বলা হলো- তেল নিতে হলে চিনি, চা, পোলাও চাল এবং হালিম মিক্সডের যেকোনো একটি পণ্য কিনতে হবে।’ আমি বললাম, ‘এর মধ্যে একটিও আমার প্রয়োজন নেই, আমার সয়াবিন তেল দরকার। দোকানদার সাফ জানিয়ে দিলেন, তাহলে সয়াবিন বিক্রি করা হবে না। বাধ্য হয়ে ৫ লিটার সয়াবিনের জন্য ৭৯৫ টাকার সঙ্গে আরও ৮০ টাকা দিয়ে এক কেজি চিনি কিনতে বাধ্য হলাম আমি। আমি বুঝি না, দেশে এভাবে প্রকাশ্যে অনাচার হচ্ছে, দেখার কি কেউ নেই। বাজারে এসে এখন আবার এভাবে জুলুমের শিকার হতে হচ্ছে। দেশটা কি মগের মুল্লুক পেল নাকি ব্যবসায়ীরা।’

যে চার পণ্য তেলের সঙ্গে বিক্রি করা হচ্ছে তার মধ্যে এক কেজি চিনির দাম রাখা হচ্ছে ৮০ টাকা, ২০০ গ্রাম ওজনের এক প্যাকেট চায়ের দাম রাখা হচ্ছে ১১০ টাকা, এক কেজি পোলাও চালের দম রাখা হচ্ছে ১২০ টাকা এবং এক প্যাকেট হালিম মিক্সডে নেওয়া হচ্ছে ৫০ টাকা।

এ বাজারেই এক পর্যায়ে দেখা হয়ে যায়, টিকে গ্রুপের বিক্রয় বিভাগের কর্মকর্তা কামাল আহমেদের সঙ্গে। তিনি প্রতিষ্ঠানটির এরিয়া ম্যানেজার। তার কাছে জনতে চাওয়া হয়, হঠাৎ করে কেন এ পন্থা বেছে নেওয়া হলো।

তিনি বলেন, ‘হেড অফিস থেকে আমাদের যেভাবে বিক্রি করতে বলা হয়েছে আমরা সেভাবেই বিক্রি করছি। তবে তেলের চাহিদা বেশি হওয়ায় এখন তেল বিক্রি হচ্ছে বেশি। চিনি বা চায়ের মতো পণ্যের বিক্রি কম। এ জন্য কোম্পানি এসব পণ্যের বিক্রি বাড়াতে এক সঙ্গে প্যাকেজ করে বিক্রি করছে।’ ‘তাই বলে তো কাউকে বাধ্য করা ঠিক না।’ এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা এর চেয়ে বেশি কিছু বলতে পারব না।’

এদিকে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সয়াবিন, ছোলা, চিনিতে ভ্যাট প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন। সয়াবিনে সরকার যে ভ্যাট নিত মিল পর্যায়ে ১৫ শতাংশ এবং ভোক্তা পর্যায়ে ৫ শতাংশ, সেটি আপাতত উঠে গেল। এর ফলে বাজারে লিটার প্রতি ১৫ থেকে ২০ টাকা দাম কমার কথা সয়াবিন তেলের। আজ-কালের মধ্যেই এটি বাস্তবায়ন হবে।

অন্যদিকে ভোক্তা অধিদফতর ঘোষণা দিয়েছে, আজ শুক্রবার থেকে সয়াবিনসহ অন্যান্য পণ্য বিক্রিতে পাকা রসিদ দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ব্যবসায়ীরা এ নিয়ম মানছেন কি না সেটি তদারকির জন্য ছুটির দিন হওয়া সত্ত্বেও আজ বাজারে নামবে ভোক্তা অধিদফতর।

খবরঃ সময়ের আলো

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই রকম আরো সংবাদ

এ প্লাস ডিজিকম সার্ভিস

© All rights reserved © 2020 Aplusnews.Live
Design & Development BY Hostitbd.Com

অনুমতি ছাড়া নিউজ কপি দন্ডনীয় অপরাধ। কপি করা যাবে না!!