মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১১:৩৯ অপরাহ্ন
নিউজ ফ্লাশ
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে পঞ্চগড়ের নৌকাডুবির খবর পঞ্চগড়ে নৌকাডুবি ট্রাজেডি: অর্ধশত মরদেহ উদ্ধার বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন : বেরোবি উপাচার্য স্বজনদের আহাজারিতে ভারি করতোয়ার পাড় পঞ্চগড়ে নৌকাডুবি: দিনাজপুরের পুনর্ভব নদীতে ভেসে এলো ৮ জনের লাশ করতোয়ার পাড়ে দীর্ঘ হচ্ছে লাশের সারি, মৃত্যু বেড়ে ৩৯ পঞ্চগড়ে মন্দিরে যাওয়ার পথে নৌকাডুবিতে শিশুসহ ২৪ জনের মৃত্যু হিজাব ইস্যুতে উত্তাল ইরান: নারীসহ ৭০০ বিক্ষোভকারী গ্রেফতার, নিহত ৩৫ শারদীয় দুর্গাপূজা: হিলি ইমিগ্রেশন দিয়ে যাত্রী পারাপার বেড়েছে ফেসবুকে ইসলাম ধর্ম নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য, বেরোবি শিক্ষার্থী আটক

দুই সন্তানের জননী চায়না বেগম কুড়িগ্রামে ১৮ বছর ধরে শিকলবন্দি

এপ্লাস অনলাইন
  • আপডেট সময় : শনিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২২
ছোট্ট একটি টিনের চালাঘর। তার ভেতরে খুঁটির সঙ্গে শিকল দিয়ে চায়না বেগমের পা বেঁধে রাখা হয়েছে। শিকলের আঘাতে তার পায়ে সৃষ্টি হয়েছে ক্ষত। ঝড়-বৃষ্টি, শীত-গ্রীষ্ম ওই চালাঘরের মেঝেতে সারাদিন শিকলে বন্দি হয়ে থাকতে হয় চায়না বেগমকে। মানসিক রোগী চায়না বেগমের বয়স এখন ৩৪ বছর।
সরেজমিন দেখা যায়, বিধবা মা এবং দিনমজুর ভাই সাইফুলের সংসারে বোঝা হয়ে আছেন চায়না। অভাবের তাড়নায় চায়নার ভালো কোনো চিকিৎসা দিতে পারছে না পরিবারটি। দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে শিকলে বন্দি হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন দুই সন্তানের জননী চায়না বেগম। দুঃসহ এই জীবনে ১৮ বছরেও মেলেনি ভিজিডি, ভিজিএফ, প্রতিবন্ধী ভাতা বা কোনো সরকারি অনুদান। মাত্র ১২ বছর বয়সে তার বিয়ে হয় একই এলাকার কাচানীপাড়া গ্রামের আবেদ আলীর সঙ্গে।
বিবাহিত জীবনে ৩ বছরের মধ্যেই কিশোরী বয়সে দুটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন চায়না। প্রথম সন্তান জন্মের পর থেকেই চায়নার অস্বাভাবিক আচরণ শুরু হয়। মাঝেমধ্যে স্বামীর বাড়ি থেকে এদিক-সেদিক পালিয়ে বেড়াতেন কাউকে না বলেই। ভারসাম্যহীন অবস্থাতেই দ্বিতীয় কন্যাসন্তানের জন্ম দেওয়ার পর স্বামী আবেদ আলী বিচ্ছেদ ছাড়াই তাকে সরিয়ে দেয় দুই সন্তানসহ। ১৮ বছর ধরে বিধবা বৃদ্ধ মা ও দিনমজুর ভাই সাইফুলের আশ্রয়ে কষ্টে দিন যাচ্ছে তার। চায়নার দুটি কন্যাসন্তানকে লালন করে বিয়ে দিয়েছে ওই পরিবার।
চায়নার ভাই সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমি কামলা (দিনমজুর) দিয়া, দিন আনি দিন খাই। নুন আনতে পান্তা ফুরায়। কেমনে বোনের ভালো চিকিৎসা করামু।’ ভিজিডি, ভিজিএফ, প্রতিবন্ধী ভাতা কিংবা অন্য কোনো সরকারি সুযোগ-সুবিধা পান কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকারি কোনো সাহায্য পাই না। চায়নার বৃদ্ধ মা সাহাতন খাতুন বলেন, ‘সরকার যদি দয়া কইরা আমার মাইয়াডারে ভালো ডাক্টার দেহায়, তাহলে আমার মাইয়াডা ভালো হইব। মরনের আগে এইডা দেইখা যাইতে পারলে আমার শান্তি হইব।’ রাজীবপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ইলিয়াস বলেন, তিনি মাত্র দায়িত্ব নিয়েছেন।
এ বিষয়টি জানতেন না। তবে চায়নার পরিবারের কেউ যোগাযোগ করলে যথাসাধ্য সহযোগিতা করবেন। রাজীবপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা হাসান সাদিক মাহমুদ বলেন, ‘কয়েকদিন আগে তার (চায়না) মা শিকল দিয়ে বাঁধা অবস্থায় সমাজসেবা কার্যালয়ে নিয়ে আসেন। তাকে প্রতিবন্ধী ভাতার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তার চিকিৎসার জন্য আর্থিকভাবে সহযোগিতা করবেন বলেও জানান ওই কর্মকর্তা।’

রাজীবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমিত চক্রবর্ত্তী বলেন, ‘বিষয়টি সত্যিই হৃদয়বিদারক। চায়না বেগমের খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তার পরিবারকে বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় আনা হবে।’

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই রকম আরো সংবাদ

এ প্লাস ডিজিকম সার্ভিস

© All rights reserved © 2020 Aplusnews.Live
Design & Development BY Hostitbd.Com

অনুমতি ছাড়া নিউজ কপি দন্ডনীয় অপরাধ। কপি করা যাবে না!!