শনিবার, ০১ অক্টোবর ২০২২, ০৮:২৬ পূর্বাহ্ন

নগরীতে জলাবদ্ধতা ও জনদুর্ভোগ চরমের প্রতিবাদে মহানগর উন্নয়ন ফোরামের মানববন্ধন।

প্রতিবেদকের নাম:
  • আপডেট সময় : সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২০

জলাবদ্ধতামুক্ত নগরী গড়ে তুলতে শ্যামা সুন্দরী খালকে দখল মুক্ত করে জনদুর্ভোগমুক্ত নান্দনিক রংপুর সিটির দাবীতে গতকাল সোমবার রংপুর প্রেসক্লাব এর সামনে রংপুর মহানগর উন্নয়ন ফোরাম এর উদ্যোগে জলাবদ্ধতায় ভুক্তভোগী জনগন, সুশীল সমাজের ব্যক্তিবর্গ ও রংপুর মহানগরবাসীর উপস্থিতিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। রংপুর মহানগর উন্নয়ন ফোরাম এর সভাপতি মোঃ রফিকুল আলম এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন রংপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও রংপুর মহানগর উন্নয়ন ফোরাম এর প্রধান উপদেষ্টা জননেতা তুষার কান্তি মন্ডল।

এ সময় তিনি বলেন, ভয়াবহ জলাবদ্ধতার কবল থেকে নগরবাসীকে রক্ষা করতে শ্যামা সুন্দরী দখলমুক্ত ও কে.ডি খাল খনন, সংস্কার খুবই জরুরী এবং পরিকল্পিত নগরায়ন এখন সময়ের দাবী, কিন্তু বর্তমান মেয়রের অদক্ষতায় মহানগরবাসীর যাবতীয় নাগরিক সুবিধা মুখ থুবরে পরেছে। জলাবদ্ধতামুক্ত ও জনদুর্ভোগমুক্ত রংপুর মহানগরী এই মেয়রকে দিয়ে অসম্ভব বলে জানান তুষার কান্তি মন্ডল এবং আগামীতে রংপুর মহানগরীকে নানন্দিক করতে নৌকার মেয়রের বিকল্প নেই বলেও জানান তিনি। মানববন্ধনটি পরিচালনা করেন রংপুর মহানগর উন্নয়ন ফোরাম এর সাধারণ সম্পাদক মোঃ ফিরোজ কাওসার মামুন।

এসময় আরও বক্তব্য রাখেন, রংপুর মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক রমজান আলী তুহিন, রংপুর মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ শেখ আসিফ, মহানগর উন্নয়ন ফোরাম এর সহ-সভাপতি মোঃ তৌহিদুল ইসলাম, নাজনীন রহমান, সহিদুল ইসলাম, খাদিজা বসুনিয়া মলি, সাংগঠনিক সম্পাদক এমকে হাসান লাট্টু, প্রচার সম্পাদক সজিত কুমার সরকার, দপ্তর সম্পাদক মিঞা মোঃ সুজন, দুর্যোগ ও ত্রান বিষয়ক সম্পাদক ফেরদৌসী জেসমিন মালা, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ফাতেমা আক্তার প্রমুখ। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, রংপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মোঃ শাহাদাৎ হোসেন, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মোঃ ওবায়দুর রহমান ময়না, সাবেক সদস্য আবু শাদাৎ মোঃ শাওন, রংপুর মহানগর ছাত্রলীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক মোঃ আজিজুল ইসলাম আজিজ সহ ছাত্রলীগের অন্যান্য নেতাকর্মীবৃন্দ এবং রংপুর মহানগর উন্নয়ন ফোরাম এর বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীবৃন্দ।

বক্তারা বলেন, এক রাতের টানা বর্ষণে রংপুর নগরী তলিয়ে যাবে এটা কেউ কখনো কল্পনাও করতে পারেনি। নগরীর প্রায় প্রতিটি রাস্তা-ঘাট, বাসা-বাড়ীতে জলাবদ্ধতার কারণে মানুষের দূর্ভোগের শেষ নেই। পানিবন্দী মানুষ খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে রয়েছে। অনেকের ঘরের মূল্যবান আসবাবপত্র, জমির ফসল নষ্ট হয়ে গেছে, ভেসে গেছে পুকুরের মাছ। শ্যামাসুন্দরী ও কে.ডি খাল অবিরাম এই বর্ষণের পানি ধারণ করতে পারতো; কিন্তু শ্যামাসুন্দরী ও কে.ডি খাল ক্রমাগত দখল ও ভরাট হওয়ার কারণে তা হয়নি। পাশাপাশি অপরিকল্পিত নগরায়ন ও দূর্বল ড্রেনেজ ব্যবস্থাও অনেকাংশে দায়ী। আজকে শ্যামাসুন্দরী খালকে ময়লা-আবর্জনা ফেলার ডাস্টবিনে পরিণত করা হয়েছে। ৪৮২ জন দখলদারের কারণে শ্যামাসুন্দরী খালের জায়গা সংকুচিত হয়ে আসছে।

১৮৯০ সালে ডিমলার রাজা জানকিবল্লভ সেন রংপুর নগরীবাসীকে ম্যালারিয়া রোগে হাত থেকে রক্ষা করতে ১৬ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে এই খালটি খনন করে। এক সময় খাল ২৩ থেকে ৯০ ফিট পর্যন্ত প্রশস্ত ছিল। বর্তমানে খালটি ১৫-২০ ফিটে পরিণত হয়েছে। বিগতদিনে শ্যামাসুন্দরীতে কাঙ্খিত কোন কাজ হয়নি। বাজেট-বরাদ্দের সিংহভাগ লুট হয়ে গেছে বলে জানান বক্তারা। শ্যামাসুন্দরী সংস্কার এখন সময়ের দাবি। সেই সাথে পরিকল্পিত ও টেকশই নগরায়ন এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই রকম আরো সংবাদ

এ প্লাস ডিজিকম সার্ভিস

© All rights reserved © 2020 Aplusnews.Live
Design & Development BY Hostitbd.Com

অনুমতি ছাড়া নিউজ কপি দন্ডনীয় অপরাধ। কপি করা যাবে না!!