মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১০:৩৯ অপরাহ্ন
নিউজ ফ্লাশ
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে পঞ্চগড়ের নৌকাডুবির খবর পঞ্চগড়ে নৌকাডুবি ট্রাজেডি: অর্ধশত মরদেহ উদ্ধার বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন : বেরোবি উপাচার্য স্বজনদের আহাজারিতে ভারি করতোয়ার পাড় পঞ্চগড়ে নৌকাডুবি: দিনাজপুরের পুনর্ভব নদীতে ভেসে এলো ৮ জনের লাশ করতোয়ার পাড়ে দীর্ঘ হচ্ছে লাশের সারি, মৃত্যু বেড়ে ৩৯ পঞ্চগড়ে মন্দিরে যাওয়ার পথে নৌকাডুবিতে শিশুসহ ২৪ জনের মৃত্যু হিজাব ইস্যুতে উত্তাল ইরান: নারীসহ ৭০০ বিক্ষোভকারী গ্রেফতার, নিহত ৩৫ শারদীয় দুর্গাপূজা: হিলি ইমিগ্রেশন দিয়ে যাত্রী পারাপার বেড়েছে ফেসবুকে ইসলাম ধর্ম নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য, বেরোবি শিক্ষার্থী আটক

পরিস্থিতির উন্নতিতে স্বাভাবিক হচ্ছে নিউমার্কেট

এপ্লাস অনলাইন
  • আপডেট সময় : শুক্রবার, ২২ এপ্রিল, ২০২২

 

আসন্ন ঈদুল ফিতর বা রোজার ঈদ পালন করতে গ্রামের বাড়ি বাগেরহাট যাবেন মাকসুদুল। বিয়ের পর প্রথম ঈদ হওয়ায় এবারের দায়িত্বও বেশি। সঙ্গে নিয়ে এসেছেন তার স্ত্রীকে। দুই পরিবারের জন্য কেনাকাটা করতে হবে। বেতন-বোনাস মিলিয়ে মাসের হিসাব আলাদা রেখে এসেছেন শপিং করতে। কিন্তু হিসাব মিলছে না। পোশাক পছন্দ হলে দামে মিলে না, দামের মধ্যে থাকা পোশাক পছন্দ হয় না। এসব কথা কষ্টের হাসির সঙ্গে বলছিলেন মাকসুদের স্ত্রী নিশাত তাসনিম।

সদ্য স্নাতক শেষ করা তাসনিম সময়ের আলোকে বলেন, ‘ঈদের সময় আসলে খরচ অনেক বেড়ে যায়। বাড়িতে যাওয়া-আসা, বিশেষ রান্নার জন্য বিশেষ বাজার, ছোট ভাই-বোন, বাবা-মার জন্য কেনাকাটা করা। এখন তো পরিবার দুটি হওয়ায় দায়িত্বও বেড়েছে। কিন্তু আয় বাড়েনি। আয় তো আগের মতোই আছে। পাশাপাশি জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাওয়ায় হিসাবমতো কিছুই হচ্ছে না।

তবুও চেষ্টা করছি সীমিত সামর্থ্যরে মধ্যেই কেনাকাটা করতে। আর অল্প বাজেটে ভালো পোশাক পাওয়ার জন্য নিউমার্কেটের বিকল্প আর কোনো জায়গাও নেই। তাই এত কিছুর পরও রিস্ক নিয়েই শপিং করতে এসেছি।

ঢাকা কলেজের ছাত্ররা আন্দোলন স্থগিত ঘোষণা করলেও নিরাপত্তা রক্ষায় নিয়োজিত পুলিশ সদস্যরা রয়েছেন সতর্ক অবস্থানে। নিউমার্কেট এলাকা ঘিরে তিনটি স্থানে বিপুল পরিমাণ পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নিউমার্কেট থানার এক কর্মকর্তা সময়ের আলোকে বলেন, সামনে ঈদ। এর আগে যেন আর কোনো অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা না ঘটে সে দিকে লক্ষ রাখছি। যেকোনো পরিস্থিতিতে পরিবেশ শান্ত রাখতে বলা হয়েছে আমাদের। আমরা সেদিকেই নজর দিচ্ছি।

নিউমার্কেট এলাকায় বৃহস্পতিবার বিকালে দেখা যায়, সবা মার্কেটই খোলা রয়েছে। তবে ক্রেতার সংখ্যা অন্যান্য স্বাভাবিক দিনের তুলনায় কম বলে জানান ব্যবসায়ীরা। ইফতারের পর ক্রেতার সংখ্যা বাড়বে বলে আশা করেন গাউছিয়া মার্কেটের ব্যবসায়ী হাজী আবদুল হালিম।

তিনি সময়ের আলোকে বলেন, এত বড় একটা ঘটনা ঘটে যাওয়ার কারণে স্বাভাবিকভাবেই ক্রেতার সংখ্যা কম। এ পরিস্থিতি আগামীকাল (আজ) কেটে যাবে। শুক্রবার ও শনিবার ছুটির দিন হওয়ায় এ পরিস্থিতি বদলে যাবে কালই।

ব্যবসায়ীদের আচরণের বিরুদ্ধে বড় অভিযোগ আগেও ছিল, সংঘাতের কারণে সে বিষয় আবার সামনে চলে এসেছে। এ পরিস্থিতির উন্নয়নে দোকান মালিক সমিতির কোনো নির্দেশনা আছে কি না জানতে চাইলে আবদুল হালিম বলেন, ‘এখানে যারা কর্মচারী হিসেবে কাজ করে তাদের প্রায় শতভাগই অশিক্ষিত। অভাবের তাড়নায় এরা এখানে কাজ করতে আসে। তাই সবকিছু তো একেবারে মনের মতো হবে না। তবে এ ঘটনার কারণে সবার মধ্যে একটি ভয় কাজ করছে। আশা করা যায়, আচরণগত কারণে আর কোনো দুর্ঘটনা ঘটবে না।

তার এ কথা বলার সঙ্গে সঙ্গেই কানে এলো এক হকারের ডাক। পোশাক বিক্রি করা সেই হকার মেয়ে ক্রেতাদের ডাকছে, ‘এই যে আপু আসেন, মাল আছে। সুন্দর সুন্দর মাল আছে। আসেন আসেন। নিয়ে যান।’ এ কথাগুলো যেভাবে বলছিলেন সে হকার তা কি ভদ্রোচিত কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সবাইকে ঠিক করা ঠ্যাকা তো কমিটি নিয়ে রাখে নাই।’

নিউমার্কেটে শপিং করতে আসা আরেক দম্পতির সঙ্গে কথা হয় সময়ের আলোর। হাসিবুল হাসান এবং শম্পা দম্পতি এসেছে ধানমন্ডি থেকে শপিং করতে। এখনই কেন শপিং করতে এলেন এমন প্রশ্নের জবাব দিতে যাচ্ছিলেন শম্পা।

তাকে থামিয়ে দিয়ে হাসিবুল হাসান হাসতে হাসতে বলছিলেন, ভাই, এইটা তো সামান্য মারামারি। আমরা এসব দেখে অভ্যস্ত। এসবে ভয় পাই না। এমনকি যদি এটা রাশিয়া এবং ইউক্রেনের যুদ্ধও হতো তবুও শপিং করা আটকাত না। সে শপিং করতে আসতই’ বলে হাসতে থাকেন হাসিব। তার দিকে কপট দৃষ্টিতে তাকিয়ে শম্পাও হাসি দিয়ে বলেন, বছরে তো দুই-তিনবারই শপিং করি। তাও যদি এসব ঘটনার কারণে না করতে পারি তা হলে কি চলে?

দুদিনের সংঘর্ষে ক্ষতির মুখে পড়েন ফুটপাথের ব্যবসায়ী এবং ভ্রাম্যমাণ নানা খাদ্যসামগ্রী বিক্রি করা লোকগুলো। এ ছাড়া এ এলাকা রণক্ষেত্র হওয়ায় বন্ধ ছিল রিকশা ও যান চলাচল। এ এলাকার বাসিন্দারাও পারেননি বাসা থেকে বের হতে। ভয়ে ছিলেন এলাকার সবাই।

বারেক মিয়া নামে এক শরবত বিক্রেতা সময়ের আলোকে বলেন, ‘দোকানদার-ছাত্র এদের তো কোনো সমস্যা নাই। সমস্যা হইল আমরার মতো গরিব মাইনষের। দুই দিন বন্ধ আছিল ব্যবসা। এই দুদিনে কিছুই ইনকাম হয় নাই আমার। এভাবে আর কয়ডা দিন চললে তো উপায় থাকব না আমাগোর।’ এভাবে আক্ষেপ করছিলেন এ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। এরকম আরও কয়েকজন বলছিলেন, তারা মারামারি করলে ক্ষতিপূরণ পায়। আমরা তো আর কিছু পাই না। আমাদের দিকে নজরও নেই কারও।

এখানে কেনাকাটা করতে আসা কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ব্যবসায়ীরা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে ভালো আচরণ করছেন। আগের মতো উঁচু গলায় বা চিৎকার করে কথা বলছেন না ঠিকই, তবে উল্টাপাল্টা দাম ঠিকই হাঁকাচ্ছে। একেকটা পণ্যের দাম অনেক বেশি করে চাচ্ছে। কেউ কেউ অশোভন আচরণ করতে চাইলে আমরাও এখন পাল্টা জবাব দিতে পারছি। ইডেন কলেজের ছাত্রী ইশরাত বলেন, মারামারিতে কিছু সুবিধাই হয়েছে। অন্তত কয়েকদিন এরা শান্ত থাকবে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন ভিন্ন কথা। এখন ক্রেতারাই বরং বিক্রেতাদের ধমক দিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে ব্যবসায়ীদের।

নিউমার্কেটের ব্যবসায়ী সুমন বলেন, কাস্টমাররা এখন আমাগোরে ফাঁপর দেয়। দাম চাইলেই বলে আবার মারামারি লাগাবে। এক মহিলা তো আমারে বলতেছে তার ছেলে ঢাকা কলেজে পড়ে। তারে ডাইকা আনবে। এগুলো কোন কথা কন?

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই রকম আরো সংবাদ

এ প্লাস ডিজিকম সার্ভিস

© All rights reserved © 2020 Aplusnews.Live
Design & Development BY Hostitbd.Com

অনুমতি ছাড়া নিউজ কপি দন্ডনীয় অপরাধ। কপি করা যাবে না!!