মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১১:০৮ অপরাহ্ন
নিউজ ফ্লাশ
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে পঞ্চগড়ের নৌকাডুবির খবর পঞ্চগড়ে নৌকাডুবি ট্রাজেডি: অর্ধশত মরদেহ উদ্ধার বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন : বেরোবি উপাচার্য স্বজনদের আহাজারিতে ভারি করতোয়ার পাড় পঞ্চগড়ে নৌকাডুবি: দিনাজপুরের পুনর্ভব নদীতে ভেসে এলো ৮ জনের লাশ করতোয়ার পাড়ে দীর্ঘ হচ্ছে লাশের সারি, মৃত্যু বেড়ে ৩৯ পঞ্চগড়ে মন্দিরে যাওয়ার পথে নৌকাডুবিতে শিশুসহ ২৪ জনের মৃত্যু হিজাব ইস্যুতে উত্তাল ইরান: নারীসহ ৭০০ বিক্ষোভকারী গ্রেফতার, নিহত ৩৫ শারদীয় দুর্গাপূজা: হিলি ইমিগ্রেশন দিয়ে যাত্রী পারাপার বেড়েছে ফেসবুকে ইসলাম ধর্ম নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য, বেরোবি শিক্ষার্থী আটক

পি কে হালদারের পাচার করা টাকা ফেরত আনা সম্ভব?

এপ্লাস অনলাইন
  • আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ১৭ মে, ২০২২
আলোচিত রিলায়েন্স ফাইন্যান্স ও এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) পি কে হালদারকে ভারতে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারের পর থেকে পাচার করা টাকা ফেরত আনা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে। কেউ কেউ বলছেন দ্বিপক্ষীয় চুক্তির মাধ্যমে টাকা ফেরত আনা যাবে। আবার কেউ বলছেন বিষয়টি এত সহজ হবে না। তবে, বাংলাদেশ ব্যাংকের এক শীর্ষ কর্মকর্তা দাবি করেন, ‘গ্রেফতার হয়েছে যখন, তখন টাকাও ফেরত আসবে।’
পি কে হালদারের আত্মসাৎকৃত টাকার কিছু পরিমাণ উদ্ধার করা হয়েছে ইতিমধ্যে। এর মধ্যে বেশিরভাগ টাকা তিনি বিদেশে পাচার করে দিয়েছেন বলে সন্দেহ করছে তদন্ত দল। এছাড়া, তার নারী বন্ধুদের পিছনে অনেক টাকা খরচ করেন। বিদেশ ভ্রমণ, উপহার প্রদান, বিভিন্ন পার্টিতে যোগদান এবং স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ কিনে টাকা খরচ করেছেন।
এ টাকা ফেরত আসবে কি না তা নিয়ে সন্দেহ পোষণ করেন বিশেষজ্ঞরা। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে সময়ের আলোকে বলেন, ‘পাচার হওয়া টাকা ফেরত আনা একদমই সহজ কাজ না। তবুও, আমাদের বেশকিছু অভিজ্ঞতা আছে টাকা ফেরত আনার। সেসব অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এবং কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে সরকার এবং বাংলাদেশ ব্যাংক টাকা ফেরত আনার উদ্যোগ নিতে পারে। এতগুলো মানুষের কষ্টের টাকা এভাবে বেহাত হতে দেয়া যায় না।’
এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাংলাদেশ ব্যাংকের শীর্ষ একজন কর্মকর্তা সময়ের আলোকে বলেন, ‘পি কে হালদার যেহেতু গ্রেফতার হয়েছে বাকি সবকিছুর ব্যবস্থা ধীরে ধীরে হবে। আমরা আশা করছি বিভিন্ন দেশে তার পাচার করা অর্থ ফেরৎ আনা সম্ভব হবে। আমরা সবদিক থেকে চেষ্টা করবো টাকা ফেরত আনার।’
টাকা ফেরত আনার ব্যাপারে আশাবাদি এক বেসরকারি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমাদের দেশে কয়েকটি দেশ থেকে পাচার হওয়া টাকা ফেরত এসেছে। ভারতের সাথে আমাদের সরকারের সম্পর্ক এবং কূটনৈতিক যোগাযোগ ভালো। এর বিনিময়ে পি কে হালদারসহ তার পাচার করা টাকাও ফেরত আনা যাবে।’
তবে টাকা ফেরত আনা খুব একটা সহজ হবে না বলে মত কয়েকজনের। এ বিষয়ে একটি বেসরকারি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে সময়ের আলোকে বলেন, ‘টাকাগুলো বেশিরভাগ ভারতে গিয়েছে। ভারত থেকে টাকা ফেরত আনতে সরকার এবং বাংলাদেশ ব্যাংককে যৌথভাবে চেষ্টা করতে হবে। সেন্ট্রাল ব্যাংক ভারতের সেন্ট্রাল ব্যাংকের সাথে এবং সরকার ভারতের সরকারের সাথে দ্বিপক্ষীয়ভাবে কাজ করবে তাহলে টাকা আনা যাবে। তবে, সেখান থেকে টাকা আনা সহজ হবে না।’
জানা যায়, দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় আর্থিক কেলেঙ্কারির এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন প্রায় ১০ হাজার সাধারণ মানুষ। কেউ কেউ তার জীবনের সমস্ত সঞ্চয় একটু বেশি মুনাফার আশায় ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, পিপলস লিজিং, রিলায়েন্স ফিনান্সে ডিপোজিট করেন। তাদের সবার টাকা নামে বেনামে হাতিয়ে নেন পি কে হালদার।
পি কে হালদারের বিরুদ্ধে করা অনুসন্ধানে জানা যায়, এখন পর্যন্ত তার বান্ধবী ও বন্ধুদের বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট থেকে এবং স্থাবর সম্পত্তি ক্রোক করে ১ হাজার কোটি টাকা উদ্ধার করে সরকার।
তবে, অর্থমন্ত্রণালয়ের সাবেক এক সচিব নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘এর আগেও দেশে পাচার হওয়া টাকা এসেছে। এবারও আসবে। শুধু প্রয়োজন আন্তরিকতা। তবে, এটি একটি জটিল প্রক্রিয়া। সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। তাই তাড়াহুড়ো না করে সময় দিতে হবে।’
এ বিষয়ে তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রয়াত ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর ২১ কোটি টাকারও বেশি অর্থ ফেরত এনেছিল দুদক। সে অর্থ ২০১২ এবং ২০১৩ সালে তিন দফায় সিঙ্গাপুরের একটি ব্যাংকে এ টাকা ছিল। পাশাপাশি যুক্তরাজ্যকে তিন লাখ মার্কিন ডলার উদ্ধার করে দেয় বাংলাদেশ।
এর আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ২০০৭ সালে ট্রুথ কমিশন গঠন করে ৩৪ কোটি টাকা উদ্ধার করে দেশে আনা হয়েছিল। ২০০৭ সালের এপ্রিল থেকে ২০০৮ সালের নভেম্বর পর্যন্ত জরুরি অবস্থার সময় দুর্নীতিবিরোধী টাস্কফোর্স বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে আরো ১ হাজার ২৩২ কোটি টাকা উদ্ধার করে সরকারি কোষাগারে জমা দেয়। তবে এরমধ্যে আবার ৬১৫ কোটি ৫৫ লাখ টাকা দেশের সর্বোচ্চ আদালত এর মালিকদের ফেরত দেয়ার নির্দেশ দেয়।
পি কে হালদারের টাকা ফেরত আনার বিষয়ে দুদকের আইনজীবী খুরশিদ আলম সময়ের আলোকে বলেন, মিউচ্যুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিসটেন্স আইন ২০১২ অনুযায়ী, পৃথিবীর ১৩২টি দেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা যায়। পিকে হালদারের টাকাও ফেরত আনার উদ্যোগ নেয়া হবে। এর আগে তাকে দেশে আনতে হবে। ভারতের সাথে আমাদের বন্দী বিনিময় চুক্তি আছে। সে চুক্তির আওতায় নারায়নগঞ্জের সাত খুন মামলার আসামি নূর হোসেনকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। পি কে হালদারকেও আনা যাবে।
সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা কানাডাতে পাচার হয়েছে বলে জানা যায়। এ টাকা দিয়ে সেখানে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এবং বাড়ি কিনেছে পি কে হালদার। সে বাড়ি এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এখন পি কে হালদারের আত্মীয় এবং কথিত বান্ধবীরা পরিচালনা করছেন বলে জানা যায়।
টাকা ফেরত আনার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের আইনজীবি ব্যারিস্টার তানজীব-উল আলম সময়ের আলোকে বলেন, ‘টাকা আনার বিষয়ে আগে টাকাগুলো কোথায় কী অবস্থায় আছে তা চিহ্নিত করে নিশ্চিত করতে হবে। এরপরে পি কে হালদারকে দেশের যে কোন একটা কোর্ট থেকে শাস্তি দিতে হবে। সে জাজমেন্ট পাঠাতে হবে ভারতের কোর্টে। এখন প্রশ্ন হলো কত টাকা আনা যাবে? এর উত্তরে বলতে হয়, যতটা আইডেন্টিফাই করে দাবি করতে পারবো ততটাই আনা যাবে। আনা সম্ভব তবে সেটা খুব একটা সহজ হবে না।’
কতদিন সময় লাগতে পারে জিজ্ঞেস করলে এ আইনজ্ঞ বলেন, ‘কতদিন লাগবে তা কেউ বলতে পারবে না। তবে, জাজমেন্ট দিয়ে একটা শাস্তি দিতে হবে আগে। তারপর সেভাবে দাবি করতে হবে। বিদেশের কোর্টগুলো দেরি করে না। ২ থেকে ৩ মাসের মধ্যে আনা যেতে পারে বলে জানান তিনি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই রকম আরো সংবাদ

এ প্লাস ডিজিকম সার্ভিস

© All rights reserved © 2020 Aplusnews.Live
Design & Development BY Hostitbd.Com

অনুমতি ছাড়া নিউজ কপি দন্ডনীয় অপরাধ। কপি করা যাবে না!!