শনিবার, ০১ অক্টোবর ২০২২, ০৯:০২ পূর্বাহ্ন

প্রায় তিন লাখ মুসল্লীর কন্ঠে ‘আমিন, আমিন’ ধ্বনিতে প্রকম্পিত রংপুর ইজতেমা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : শনিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২১

অশ্রুসিক্ত কান্নার আওয়াজ আর ‘আমিন, আল্লাহুম্মা আমিন’ ধ্বনিতে প্রকম্পিত চারদিক। তখন ঘড়ির কাটায় বেলা ১২টা ১১ মিনিট। একটানা ১৭ মিনিট চারদিকে মোনাজাতে শুধু এই আওয়াজ ভেসে বেড়ায়।মুসলিম জাহানের সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি,করোনা মহামারি থেকে মুক্তিসহ আল্লাহ তায়ালার রহমত ও পাপাচার থেকে ক্ষমা প্রার্থনার আকুতি মিনতি।

 

শনিবার (২৭ নভেম্বর) এভাবেই আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়কের পাশে মহানগরীর উত্তম হাজীরহাটে ঘাঘট নদীর তীরে আয়োজিত রংপুরের জেলা ইজতেমা।

 

ভারতের সাদ অনুসারী বাংলাদেশ ফায়সাল ও আহালে সুরা মুরব্বি মাওলানা মোশাররফ হোসেন এই আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করেন। বাংলা ও আরবি ভাষায় মোনাজাত করেন তিনি। তিনদিন ব্যাপি এই ইজতেমায় দুইলাখ মানুষ অংশ নিলেও আখেরি মোনাজাতে প্রায় তিন লাখ মানুষ অংশ নেন।

আখেরি মোনাজাতের সময় ইজতেমা মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে উঠে। ৭০ একর আয়তনের বিশাল এই ইজতেমা ময়দানের জনস্রোত ছড়িয়ে পড়ে মাঠের বাইরেও।মোনাজাতের সময় অনেক মুসল্লিকে মাঠের আশপাশের রাস্তা, অলি-গলি, বিভিন্ন বাসা-বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ভবনের ছাদে অবস্থান করতে দেখা গেছে। পুরুশদের পাশপাশি নারীদেরও ইজতেমা ময়দান ও আশেপাশে সড়ক ও অলিগলিতে অবস্থান নিয়ে মোনাজাতে শামিল হতে দেখা যায়।আশপাশের এলাকার সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কলকারখানা, মার্কেট, বিপণি বিতান এবং অফিসও আখেরি মোনাজাত উপলক্ষে বন্ধ ছিল।

 

মোনাজাতে মাওলানা আশরাফ আলী বলেন, ‘হে আল্লাহ! আপনি তো ক্ষমাশীল, আপনার কাছেই তো আমরা ক্ষমা চাইব। তাই আমরা ক্ষমা চাইছি, আপনার দয়া ভিক্ষা চাচ্ছি। আমাদের ওপর দয়া করুন। দ্বীনের ওপর আমাদের চলা সহজ করে দিন। আপনি আমাদের ওপর সন্তুষ্ট হয়ে যান। আমাদেরকে দুনিয়ার সব বালা-মুসিবত থেকে হেফাজত করুন।’

 

সারা বিশ্বের মুসলিম উম্মাহর মধ্যে শান্তি ও রহমত দানের ফরিয়াদে দু’হাত তুলে মুসল্লিরা- মহান সৃষ্টিকর্তার দরবারে মুসলমানদের ওপর নির্যাতন, হামলা, হত্যা, ব্যভিচার, অন্যায়ে লিপ্ত জাতি, গোষ্ঠী, সমাজ ও চলমান করোনা মহামারী থেকে মুক্তির দান করার জন্য আকুতি জানান।

এদিকে আখেরি মোনাজাতে অংশ নিতে আগের দিন রাত থেকেই রংপুর জেলার বিভিন্ন এলাকার মুসল্লিরা ইজতেমাস্থলে পৌঁছান। এছাড়াও রংপুরের বিভিন্ন এলাকার লোকজন ভোর থেকে দলে দলে পায়ে হেঁটেই ইজতেমা মাঠে আসেন।

 

বৃহস্পতিবার (২৫ নভেম্বর) ভোর থেকে উত্তম হাজীরহাটের রব্বানীর চরে তিন দিনের এ ইজতেমা শুরু হয়।
ইজতেমায় বয়ান করতে রাজধানী ঢাকাসহ সৌদি আরব ও আফ্রিকা থেকে তাবলিগের মুরুব্বিরা ময়দানে উপস্থিত হয়েছিলেন। মাশোয়ারার ভিত্তিতে আগত আলেমগণ বয়ানের মাধ্যমে দ্বীনের দাওয়াতে উদ্বুদ্ধ করেন।

 

নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে যানবাহন চলাচলে ট্রাফিক পুলিশসহ স্বেচ্ছাসেবীরা কাজ করছেন। মোনাজাত শেষে মানুষকে দ্বীনের দাওয়াত দেওয়ার জন্য এখান থেকে কয়েক হাজার মুসল্লি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাওয়া শুরু করেছে।
ইজতেমার আয়োজনে অংশগ্রহণকারীদের সুবিধার্থে প্রয়োজনীয় প্রায় সব ব্যবস্থাই নেয়া হয়েছিল। ইজতেমা মাঠ ঘিরে নেয়া হয় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পুলিশ, র‌্যাবসহ বিভিন্ন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা নিরাপত্তা রক্ষায় সক্রিয় ছিলেন। ইজতেমার সার্বিক আয়োজনকে এককথায় সুষ্ঠু বলা যায়।ইজতেমা শীত মৌসুমে হওয়ায় অংশগ্রহণকারীদের অনেক কষ্ট স্বীকার করতে হয়।

 

মেট্রোপলিটন হাজীরহাট থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাজিব বসুনিয়া জানান, ইজতেমায় নিরাপত্তার জন্য কয়েক স্তরের নিরাপত্তাবলয় তৈরি করা হয়েছিল। নিরাপত্তার কোন ঘাটতি ছিল না।

 

উল্লেখ্য ২০১০ সাল থেকে রংপুরে আঞ্চলিক ইজতেমা হয়ে আসছে। এবার রংপুরে ৬ষ্ঠ বারের মতো ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই রকম আরো সংবাদ

এ প্লাস ডিজিকম সার্ভিস

© All rights reserved © 2020 Aplusnews.Live
Design & Development BY Hostitbd.Com

অনুমতি ছাড়া নিউজ কপি দন্ডনীয় অপরাধ। কপি করা যাবে না!!