শনিবার, ০১ অক্টোবর ২০২২, ০৭:২৪ পূর্বাহ্ন

বঙ্গবন্ধুর পলাতক পাঁচ খুনিকে ফিরিয়ে আনার অগ্রগতি নেই

এপ্লাস অনলাইন
  • আপডেট সময় : সোমবার, ১৫ আগস্ট, ২০২২

 

 

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মস্বীকৃত পাঁচ খুনিকে দেশে ফিরিয়ে আনা নিয়ে গভীর ধোঁয়াশা দেখা দিয়েছে। ওই পাঁচ খুনিকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে কোথাও কোনো অগ্রগতি নেই। পাঁচজনের মধ্যে দুই খুনি এসএইচএমবি নূর চৌধুরী ও এএম রাশেদ চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় অবস্থান করছে বলে জানা গেলেও বাকিদের সুনির্দিষ্ট কোনো অবস্থান জানে না কেউই।

অন্যদিকে, অবস্থান শনাক্ত হওয়া ওই দুই খুনিকে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগও ব্যর্থ হচ্ছে বারবার। এমনকি বাংলাদেশ পুলিশের আবেদনে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা- ‘ইন্টারপোল’ এই পাঁচ খুনিকে গ্রেফতারে রেড নোটিস জারি করলেও কোনোরকম ক্লু’ পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে।

এমন অবস্থায় বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দেশে ফেরাতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সহায়তা চেয়েছেন খোদ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।

আত্মস্বীকৃত ওই পাঁচ খুনি হলো- নূর চৌধুরী, রাশেদ চৌধুরী, শরিফুল হক ডালিম, খন্দকার আবদুর রশিদ এবং রিসালদার মোসলেহউদ্দিন। এই পাঁচজনই সাবেক সেনা কর্মকর্তা।

সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কূটনৈতিক সম্পর্কের ভিত্তিতেই বিদেশে পলাতক খুনিদের ফিরিয়ে আনা সম্ভব। এ বিষয়ে সবসময় লেগে থাকতে হবে। কিন্তু আগস্ট মাস ছাড়া এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের তেমন কোনো তৎপরতা দেখা যায় না বা প্রকাশ পায় না। এ প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন সময়ের আলোকে বলেন, আমরা ইন্টারপোলের সহযোগিতা চেয়েছি।

যে দুইজনের আমরা খবর পেয়েছি তারা উন্নত দেশে থাকে এবং তারা দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছে, বাজারে যাচ্ছে, ফ্যামিলি নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। কিন্তু এরা খুনি এবং তারা আত্মস্বীকৃত খুনি। উন্নত দেশ যেখানে তারা আইনের শাসনের কথা বলে, তারা বলে থাকে যে তারা তাদের দেশে খুনিদের আশ্রয় দেয় না, কিন্তু তারাই খুনিদের আশ্রয় দিয়েছে, সুখে-শান্তিতে রেখেছে, এটা খুবই অন্যায়।

ইন্টারপোলের প্রতিনিধিত্বকারী বাংলাদেশ পুলিশের এআইজি (এনসিবি) মহিউল ইসলাম সময়ের আলোকে বলেন, বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে তিন খুনির ‘সম্ভাব্য অবস্থান’ নিয়ে ধারণা করা হয়।

এদের মধ্যে শরিফুল হক ডালিমের অবস্থান সম্ভাব্য দেশÑ চায়না, যুক্তরাজ্য, থাইল্যান্ড, কেনিয়া, জিম্বাবুয়ে বা লিবিয়ায়, খন্দকার আবদুর রশিদের সম্ভাব্য অবস্থান লিবিয়া, জিম্বাবুয়ে, লেবানন, পোল্যান্ড, থাইল্যান্ড বা ইতালিতে এবং রিসালদার মোসলেহউদ্দিন সম্ভবত ভারতে আত্মগোপন করে আছে।

ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, খুনি রাশেদ চৌধুরীর মিথ্যা তথ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের বিষয়টি একাধিকবার ঢাকার পক্ষ থেকে ওয়াশিংটনকে জানানো হয়েছে। এই ইস্যুতে ঢাকার কূটনীতিকরা ওয়াশিংটনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করছে। রাশেদ চৌধুরীকে ফিরিয়ে দেওয়ার ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল ২০২০ সালে তার নথি তলব করেন। বিষয়টিতে বেশ অগ্রগতি হলেও যুক্তরাষ্ট্রের সরকার পরিবর্তনের পর নতুন অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগ হওয়ায় এই ইস্যুটি আবার চাপা পড়ে যায়। তবে এখনও দেশটির আদালতে বিষয়টি রিভিউ করা হচ্ছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, ‘খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশি প্রবাসীরা কাজ করতে পারে। প্রবাসীরা যদি এই বিষয়ে নিয়মিত মানববন্ধন এবং খুনিদের ওইসব দেশ থেকে বহিষ্কারের জন্য আন্দোলন করেন তবে কাজ হবে।’

একই প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব স্টেটের ডেপুটি কোঅর্ডিনেটর লরা স্টোনের সঙ্গে গত ২ আগস্ট ঢাকায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে দেশটিতে আশ্রয় নেওয়া বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনি রাশেদ চৌধুরীকে ফেরত চেয়েছি। লরা স্টোন দেশে ফিরে গিয়ে তার সহকর্মীদের কাছে বিষয়টি তুলে ধরবেন বলে জানিয়েছেন।

কানাডার আইনে একটি ধারা আছে, যে দেশে মৃত্যুদণ্ড আছে সে দেশেও এমন অপরাধীদের পাঠানো যাবে, ইফ দ্য ক্রাইম ইজ একসেপশনাল (ব্যতিক্রমধর্মী অপরাধের ক্ষেত্রে)। কানাডা সরকারের সঙ্গে প্রতিটি বৈঠকে ঢাকার কূটনীতিকরা সেই ধারাটিকেই বেশি গুরুত্ব দিয়ে বলে থাকেন যে, খুনি নূর চৌধুরীর অপরাধ ব্যতিক্রমধর্মী এবং তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হোক। এই মুহূর্তে বিষয়টি নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া কানাডার আদালতে চলমান রয়েছে।

অন্যদিকে, রাশেদ চৌধুরীকে ফেরানো প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন আরও বলেন, বাইডেন সরকারের সঙ্গেও আমরা বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনিকে ফিরিয়ে দেওয়ার ইস্যুতে আলোচনা করেছি। আমার সঙ্গে যখন তাদের সেক্রেটারি অব স্টেটের আলোচনা হয় তখন আমি এই ইস্যুটি তুলেছি এবং এটাও বলেছি যে, ২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্র সরকার মোটামুটিভাবে একটা অ্যাগ্রিমেন্টে এসেছিল রাশেদ চৌধুরীকে ফেরত দেওয়ার জন্য। তারপর আমাদের দেশে সরকার পরিবর্তন হলে বিএনপি সরকার এই সংক্রান্ত সব ফাইল লুকিয়ে ফেলেছে। এগুলো এখন কোথাও পাওয়া যায় না। তারপর রাশেদ চৌধুরী দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছে। অথচ ২০০১ সালেও রাশেদ চৌধরী যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পায়নি, নাগরিকত্ব পেয়েছে ২০০৬ সালে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এখন আমেরিকান সরকার খালি বাহানা দিচ্ছে। এই বিষয়ে জানতে চাইলেই তারা বলে যে, এটা অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিসে। অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিসে সাক্ষাতের জন্য অ্যাপয়েনমেন্ট চাইলে বলে যে, এটা যেহেতু পেন্ডিং কেস, তাই আমরা ইন্টারেস্টেড পার্টির সঙ্গে সাক্ষাৎ করব না।

খবরঃ সময়ের আলো

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই রকম আরো সংবাদ

এ প্লাস ডিজিকম সার্ভিস

© All rights reserved © 2020 Aplusnews.Live
Design & Development BY Hostitbd.Com

অনুমতি ছাড়া নিউজ কপি দন্ডনীয় অপরাধ। কপি করা যাবে না!!