সোমবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২:৫৯ অপরাহ্ন
নিউজ ফ্লাশ
পঞ্চগড়ে মন্দিরে যাওয়ার পথে নৌকাডুবিতে শিশুসহ ২৪ জনের মৃত্যু হিজাব ইস্যুতে উত্তাল ইরান: নারীসহ ৭০০ বিক্ষোভকারী গ্রেফতার, নিহত ৩৫ শারদীয় দুর্গাপূজা: হিলি ইমিগ্রেশন দিয়ে যাত্রী পারাপার বেড়েছে ফেসবুকে ইসলাম ধর্ম নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য, বেরোবি শিক্ষার্থী আটক আগামী পহেলা ডিসেম্বর বিভাগীয় লেখক পরিষদ রংপুরের এক যুগ পূতি নগরজুড়ে চ্যাম্পিয়নদের ছাদ খোলা বাসে বিজয় শোভাযাত্রা খোলা বাসে বিলবোর্ড মাথায় লেগে আহত ফুটবলার ঋতুপর্ণার মাথায় দুই সেলাই এই ট্রফি আমাদের দেশের জনগণের জন্য রংপুরে জাপানি নাগরিক কুনিও হোশি হত্যা: ৪ জঙ্গির মৃত্যুদণ্ড বহাল দিনাজপুর বোর্ডের এসএসসি পরীক্ষার চার বিষয়ের পরীক্ষা স্থগিত

বর্ণাঢ্য ও বিস্ময়কর রাজনীতিবিদ মুহিত

এপ্লাস অনলাইন
  • আপডেট সময় : শনিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২২

একজন অর্থনীতিবিদ, একজন কূটনীতিক, একজন ভাষা-সৈনিক, একজন রাজনীতিবিদ, একজন লেখক সর্বোপরি একজন প্রকৃত জনপ্রতিনিধি ছিলেন আবুল মাল আবদুল মুহিত।

বাংলাদেশের সাবেক এই অর্থমন্ত্রী মারা গেছেন আজ (৩০ এপ্রিল) রাত ১২টা ৫৬ মিনিটে। দেশের বর্ষীয়ান এই রাজনীতিবিদের হাত ধরে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে উত্থাপিত হয়েছে ১২টি বাজেট। তার বিদায়ে শোক জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীসহ দেশের সকল রাজনৈতিক অঙ্গনের মানুষ।

সদা হাস্যজ্বল একজন মানুষ ছিলেন আবুল মাল আবদুল মুহিত। ১৯৩৪ সালে সিলেটে জন্মান তিনি। ভাষা আন্দোলনের অংশ নিয়েছিলেন তিনি। যুদ্ধকালীন সময়ে ১৯৭১ সালের জুন মাসে পাকিস্তানের পক্ষ পরিত্যাগ করে বাংলাদেশের পক্ষে আনুগত্য প্রদর্শন করা প্রথম কূটনীতিবিদ তিনি।

যখন পাকিস্তানের আরাম আয়েশের চিন্তা করে বা ভয় পেয়ে অনেকেই পিছিয়ে ছিলো বাংলাদেশের পক্ষে লড়াইয়ে, তখন বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছেন তিনি।

অ্যাডভোকেট আবু আহমদ আব্দুল হাফিজ ও সৈয়দ শাহার বানু চৌধুরী দম্পতির দ্বিতীয় ছেলে তিনি। তার মাও রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। বর্তমানে তার ভাই এ কে আব্দুল মোমেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে রয়েছেন।

শিক্ষা জীবনের শুরু থেকেই মেধার স্বাক্ষর রাখা মুহিত ১৯৫১ সালে সিলেট এমসি কলেজ থেকে আইএ পরীক্ষায় প্রথম স্থান, ১৯৫৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে বিএ (অনার্স) পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণীতে প্রথম এবং ১৯৫৫ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কৃতিত্বের সাথে এমএ পাশ করেন। চাকুরিরত অবস্থায় তিনি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নসহ হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমপি এ ডিগ্রি লাভ করেন।

কর্মজীবন শুরু হয় ১৯৫৬ সালে পাকিস্তান সিভিল সার্ভিস-এ (সিএসপি) যোগদানের মাধ্যমে। পরবর্তীতে মুহিত তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান, কেন্দ্রীয় পাকিস্তান এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশে সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশে ১৯৭২ সালে তিনি পরিকল্পনা সচিব এবং ১৯৭৭ সালে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বহিঃসম্পদ বিভাগে সচিব পদে নিযুক্ত হন।

কর্ম জীবনে তিনি পাকিস্তান পরিকল্পনা কমিশনের চীফ ও উপ-সচিব থাকাকালে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে বৈষম্যের ওপর ১৯৬৬ সালে একটি প্রতিবেদন প্রণয়ন করেন। পাকিস্তান জাতীয় পরিষদে এটিই ছিল এইহ বিষয়ক প্রথম প্রতিবেদন।

রাজনীতিতে যেমন অবসর গ্রহণ করেছিলেন, অনেকটা তেমনভাবেই ১৯৮১ সালে সরকারি চাকরি থেকে স্বেচ্ছায় অবসর নিয়ে অর্থনীতি ও উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ হিসেবে ফোর্ড ফাউন্ডেশন ও ইফাদে কাজ শুরু করেন। ১৯৮২-৮৩ সালে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

পরে তিনি বিশ্বব্যাংক ও জাতিসংঘের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করেন। ১৯৮৪ ও ১৯৮৫ সালে তিনি প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিজিটিং ফেলো ছিলেন।

ইতিহাসকে অক্ষরে ফুটিয়ে তোলার পাশাপাশি বিশ্ব ও দেশের অর্থনীতি নিয়ে একাধিক বই লিখেছেন আবুল মাল আবদুল মুহিত। অবশ্য ইতিহাস, প্রশাসনিক ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ ছাড়াও বিভিন্ন বিষয়ে তার ২১টি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনে তিনি একজন পথিকৃৎ এবং বাপার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ নির্বাচনে বিজয়ী হলে আবুল মাল আবদুল মুহিত অর্থমন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত হন। তিনি অর্থমন্ত্রী থাকা কালেই দুর্নীতির অভিযোগ তুলে পদ্মাসেতুর সহায়তা স্থগিত করে যুক্তরাষ্ট্র। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু নির্মাণের টার্গেট গ্রহণ করেন আবুল মাল আবদুল মুহিত। সফলভাবে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকা কালে ১০ বার সংসদে জাতীয় বাজেট প্রদান করেন তিনি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই রকম আরো সংবাদ

এ প্লাস ডিজিকম সার্ভিস

© All rights reserved © 2020 Aplusnews.Live
Design & Development BY Hostitbd.Com

অনুমতি ছাড়া নিউজ কপি দন্ডনীয় অপরাধ। কপি করা যাবে না!!