শুক্রবার, ০৭ অক্টোবর ২০২২, ০৮:২৮ পূর্বাহ্ন

বাঁশ নিয়ে বাক-বিতন্ডার জেরে পিতাকে পিটিয়ে হত্যা, আদালতে ছেলের দ্বায় স্বীকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ২২ ফেব্রুয়ারী, ২০২২

রংপুরে চাঞ্চল্যকর দেলদার মিয়া(৬০) খুনের রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।ঘটনার প্রায় চার বছর পর পিবিআই এই খুনের রহস্য উন্মোচন করেছে। এই ঘটনায় করা মামলায় সোমবার একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শফিউল আলম বিষয়টি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন মঙ্গলবার।

 

খুনের মামলায় গ্রেপ্তারকৃত আসামি হলেন সোহেল মিয়া (৩৭) । তিনি হত্যার স্বীকার দেলদার মিয়া ছেলে। আদালতে উপস্থাপন করা হলে আসামী সোহেল হত্যার ঘটনাটি স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় দোষ স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি প্রদান করে।

 

জানা যায়, ২০১৮ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি পীরগঞ্জে দেলদার মিয়া(৬০) নামে এক ব্যাক্তিকে অচেতন অব¯’ায় পাওয়া যায়। স্থানীয় লোকজন দেখতে পেয়ে রক্তাক্ত দেলদার মিয়াকে মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করে। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দেলদার মিয়া ঘটনার দুইুদন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে।

 

পিবিআই জানায়,পীরগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক মোঃ আমিনুল ইসলাম মামলাটি তদন্ত করে ঘটনার সাথে জড়িতদের সনাক্ত করতে না পেরে ২০১৯ সালের জুলাই চূড়ান্ত রিপোর্ট বিজ্ঞ আদালতে দাখিল করেন। বিজ্ঞ আদালত মামলাটির চুড়ান্ত রিপোর্ট অগ্রাহ্য করে রংপুর জেলার পিবিআইকে অধিকতর তদন্ত পূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ প্রদান করলে মামলাটির তদন্তভার এসআই মোঃ শফিউল আলম এর উপর অর্পন করা হয়।

 

তদন্তকারী কর্মকর্তা কর্মকর্তা এসআই শফিউল আলম জানান, তথ্য প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করে ও বিজ্ঞান ভিত্তিক তদন্তের মাধ্যমে জানা যায় যে, ঘটনার দিন গত ভিকটিম দেলদারের ২য় স্ত্রীর কন্যা মোছাঃ দেলোয়ারা বেগম তার শ্বশুর বাড়ী হতে নিজের বাবার বাড়িতে কিছু বাঁশ ও বাঁশখড়ি নেয়ার জন্য আসে। এ বিষয়ে দেলদারের এর ৪র্থ স্ত্রী শাহার বানুর সঙ্গে দেলোয়ারা বেগম এর ঝগড়া বিবাদ হয়।

 

ঘটনাস্থলের বাঁশঝাড়ে দেলোয়ারা বেগম বাঁশ কাটতে গেলে দেলদার মিয়া সেখানে গিয়ে বাধা সৃষ্টি করে। তখন দেলোয়ারা বেগম এর আপন ভাই সোহেল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তার নিজের পিতার সাথে বাক-বিতন্ডায় জড়িয়ে পরে এবং এক পর্যায়ে বাঁশঝাড়ে থাকা কাটা বাঁশ হাতে নিয়ে তার পিতা দেলদার এর মাথার পিছনে আঘাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে পিটিয়ে আঘাত করলে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। আহত অব¯’ায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে দুই দিন পর তিনি মারা যান।

 

তদন্তে প্রাপ্ত আসামি ভিকটিমের মেজ ছেলে সোহেল মিয়া পিবিআই রংপুর গ্রেফতার করে আদালতে উপস্থাপন করলে সে আদালতে তার পিতাকে হত্যার ঘটনাটি স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি প্রদান করে।
পিবিআই রংপুর জেলার পুলিশ সুপার জনাব এবিএম জাকির হোসেন বলেন, আপন পুত্র তার পিতাকে হত্যা করায় এবং ভিকটিমের পরিবারের লোকজন আন্তরিকভাবে সহায়তা না করায় মামলার রহস্য উদঘাটনে সময় লেগেছে। তবে দীর্ঘ ৪ বছর পরে হলেও হত্যার রহস্য উদঘাটন হওয়ায় জনমনে স্বস্তি এসেছে। দ্রুততম সময়ে আদালতে পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

 

 

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই রকম আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Aplusnews.Live
Design & Development BY Hostitbd.Com

অনুমতি ছাড়া নিউজ কপি দন্ডনীয় অপরাধ। কপি করা যাবে না!!