মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১১:১১ অপরাহ্ন
নিউজ ফ্লাশ
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে পঞ্চগড়ের নৌকাডুবির খবর পঞ্চগড়ে নৌকাডুবি ট্রাজেডি: অর্ধশত মরদেহ উদ্ধার বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন : বেরোবি উপাচার্য স্বজনদের আহাজারিতে ভারি করতোয়ার পাড় পঞ্চগড়ে নৌকাডুবি: দিনাজপুরের পুনর্ভব নদীতে ভেসে এলো ৮ জনের লাশ করতোয়ার পাড়ে দীর্ঘ হচ্ছে লাশের সারি, মৃত্যু বেড়ে ৩৯ পঞ্চগড়ে মন্দিরে যাওয়ার পথে নৌকাডুবিতে শিশুসহ ২৪ জনের মৃত্যু হিজাব ইস্যুতে উত্তাল ইরান: নারীসহ ৭০০ বিক্ষোভকারী গ্রেফতার, নিহত ৩৫ শারদীয় দুর্গাপূজা: হিলি ইমিগ্রেশন দিয়ে যাত্রী পারাপার বেড়েছে ফেসবুকে ইসলাম ধর্ম নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য, বেরোবি শিক্ষার্থী আটক

বাড়ছে করোনা সংক্রমণ: এবারের বিধিনিষেধ কেমন হবে

এপ্লাস অনলাইন
  • আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ১১ জানুয়ারী, ২০২২
করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রনের প্রাদুর্ভাবে ফের ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। সোমবার একলাফে করোনা রোগী প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়ে ২২০০ ছাড়িয়ে গেছে। সে সঙ্গে দৈনিক শনাক্তের হার ছাড়িয়ে গেছে সাড়ে ৮ শতাংশ। এমন পরিস্থিতিতে আগামী বৃহস্পতিবার থেকে চলাচলে কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করেছে সরকার। এই বিধিনিষেধে বাস, ট্রেন, লঞ্চ আবার অর্ধেক যাত্রী নিয়ে চলবে।
উন্মুক্ত স্থানে যেকোনো সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান কিংবা রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ১২ বছরের ঊর্ধ্বে শিক্ষার্থীকে টিকা সনদ ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না। ১১টি ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করে গতকাল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
করোনার ঊর্ধ্বমুখী পরিস্থিতির মধ্যেই শুরু হয়েছে বাণিজ্য মেলা। চলছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। নতুন করে নির্বাচনের তফসিল না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। সামাজিক, বিয়ে-শাদি ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান চলছে পুরোদমে। বিনোদন ও পর্যটনকেন্দ্র থেকে শুরু করে সড়ক-মহাসড়ক, গণপরিবহন, শপিংমল, দোকানপাট সর্বত্র উপচে পড়া ভিড়। কোথাও স্বাস্থ্যবিধি মানার বালাই নেই। অধিকাংশ মানুষ মাস্ক পরছে না। পাশাপাশি বর্ডার এলাকাগুলোতে নেই কোনো কড়াকড়ি। আফ্রিকার সাতটি দেশের বাইরে ওমিক্রন সংক্রমিত কোনো দেশ থেকে যাত্রীদের প্রবেশের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ নেই।
গত কয়েক দিন ধরে করোনা শনাক্তের হার ৫ শতাংশের ওপরে রয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, কোনো এলাকায় করোনা সংক্রমণ হার ১০ শতাংশের বেশি হলে সেটিকে ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’, ৫-১০ শতাংশের মধ্যে হলে ‘মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ’ এবং ৫ শতাংশের নিচে হলে ‘স্বল্প ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাই করোনায় মহামারির ঝুঁকিতে এখন বাংলাদেশ।
১১টি ক্ষেত্রে বিধিনিষেধে বলা হয়েছে, দোকান, শপিংমল ও বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতা এবং হোটেল-রেস্তোরাঁসহ সব জনসমাগমস্থলে বাধ্যতামূলকভাবে সবাইকে মাস্ক পরিধান করতে হবে। অন্যথায় আইনানুগ শাস্তির সম্মুখীনের কথা বলা হয়েছে। অফিস-আদালতসহ ঘরের বাইরে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মানাতে সারা রদেশে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।
রেস্তোরাঁয় বসে খাবার খেতে এবং আবাসিক হোটেলে থাকার জন্য করোনা টিকা সনদ দেখাতে হবে। ১২ বছরের ঊর্ধ্বের সব ছাত্রছাত্রীকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক নির্ধারিত তারিখের পর টিকা সনদ ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না।
স্থলবন্দর, সমুদ্রবন্দর ও বিমানবন্দরগুলোয় স্ক্রিনিংয়ের সংখ্যা বাড়াতে হবে। পোর্টগুলোয় ক্রুদের জাহাজের বাইরে আসার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা প্রদান করতে হবে। স্থলবন্দরগুলোতেও ট্রাকের সঙ্গে শুধু ড্রাইভার থাকতে পারবে। কোনো সহকারী আসতে পারবে না। বিদেশগামীদের সঙ্গে আসা দর্শার্থীদের বিমানবন্দরে প্রবেশ বন্ধ করা হয়েছে। ট্রেন, বাস এবং লঞ্চে সক্ষমতার অর্ধেক সংখ্যক যাত্রী নেওয়া যাবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কার্যকারিতার তারিখসহ সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা জারি করবে। সর্বপ্রকার যানের চালক ও সহকারীদের আবশ্যিকভাবে কোভিড-১৯ টিকা সনদধারী হতে হবে।
বিদেশ থেকে আগত যাত্রীসহ সবাইকে বাধ্যতামূলক কোভিড-১৯ টিকা সনদ প্রদর্শন ও র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন্ট টেস্ট করতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন এবং মাস্ক পরিধানের বিষয়ে সব মসজিদে জুমার নামাজের খুতবায় ইমামদেরও সংশ্লিষ্টদের সচেতন করার কথা বলা হয়েছে। জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা এ বিষয়টি নিশ্চিত করবেন।
সর্বসাধারণের করোনার টিকা এবং বুস্টার ডোজ গ্রহণ ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় প্রচার এবং উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে। এক্ষেত্রে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সহায়তা নেবে।
কোভিড-১৯ আক্রান্তের হার ক্রমবর্ধমান হওয়ায় উন্মুক্ত স্থানে সর্বপ্রকার সামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয় অনুষ্ঠান এবং সমাবেশগুলো পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখতে হবে। কোনো এলাকার ক্ষেত্রে বিশেষ কোনো পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে সেক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নিতে পারবে। বৃহস্পতিবার থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই নির্দেশনা কার্যকর থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সহিদুল্লাহ সময়ের আলোকে বলেন, এখন যেভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চলছে এভাবে চলবে। এখনও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করার মতো পরিস্থিতি হয়নি। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। করোনা সংক্রমণ যাতে না বাড়ে, এজন্য স্বাস্থ্যবিধি মানতে যেসব নির্দেশনা রয়েছে সেগুলোর ক্ষেত্রে আরও কঠোর হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
মুহূর্তেই শনাক্তের হার ২ ডিজিটে চলে যাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান। তিনি সময়ের আলোকে বলেন, করোনা সামাল দিতে সরকার নানা ব্যবস্থা নিয়েছে; কিন্তু জনগণের সহযোগিতা দরকার। করোনা ব্যাপকহারে ছড়িয়ে পড়লে সবকিছু সীমিত করতে হবে।
মারাত্মক পর্যায়ে চলে গেলে আবারও লকডাউন দিতে হবে। এতে সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সরকার নানা ব্যবস্থা নিয়েছে; কিন্তু এগুলো পালিত হচ্ছে কি না এজন্য মনিটরিং ও সুপারভিশনের পরামর্শ দেন তিনি। অধ্যাপক কামরুল বলেন, কেউ অমান্য করলে তাকে শাস্তি দিতে হবে। আর এ কাজে জনপ্রতিনিধি, সামাজিক বিভিন্ন সংগঠনকে সম্পৃক্ত করতে হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই রকম আরো সংবাদ

এ প্লাস ডিজিকম সার্ভিস

© All rights reserved © 2020 Aplusnews.Live
Design & Development BY Hostitbd.Com

অনুমতি ছাড়া নিউজ কপি দন্ডনীয় অপরাধ। কপি করা যাবে না!!