শনিবার, ০১ অক্টোবর ২০২২, ০৮:৩৯ পূর্বাহ্ন

রাবিতে স্বাধীনতা দিবসের খাবার ‘লুট’ এর অভিযোগ ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে

এপ্লাস অনলাইন
  • আপডেট সময় : শনিবার, ২৬ মার্চ, ২০২২
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে শহীদ শামসুজ্জোহা হলে আবাসিক ছাত্রদের জন্য বরাদ্দ করা খাবার প্রাধ্যক্ষের সামনেই লুট করার অভিযোগ উঠেছে হলের দায়িত্বপ্রাপ্ত ছাত্রলীগ নেতাদের বিরুদ্ধে।
প্রাধ্যক্ষের সামনেই ১২০ প্যাকেট খাবার ছিনিয়ে নিয়ে যান হল শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক 
শনিবার দুপুরে হলটির ডাইনিংয়ে টোকেনধারী আবাসিক শিক্ষার্থীদের খাবার বিতরণকালে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অভিযুক্তরা হলেন ২৪ মার্চ নতুন নেতৃত্ব পাওয়া হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি চিরন্তন চন্দ ও সাধারণ সম্পাদক মোমিন ইসলাম।
প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীরা জানান, হলে খাবার বিতরণকালে চিরন্তন ও মোমিনের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী টোকেন ছাড়া জোর করে প্রাধ্যক্ষের সামনেই ১২০ প্যাকেটের মতো খাবার ছিনিয়ে নিয়ে যান। এতে খাবার সঙ্কটের সৃষ্টি হয় এবং অধিকাংশ সাধারণ শিক্ষার্থীদের টোকেন থাকা সত্ত্বেও তারা খাবার পাননি।
সারোয়ার নামের এক ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বলেন, টোকেন নিয়ে খাবার নেওয়ার জন্য দাঁড়িয়ে থাকাকালীন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের এমন আচরণ দেখে আমার কান্না চলে এসেছিল। তাদের এমন আচরণ দেখে হল প্রাধ্যক্ষের কাছে আমার টোকেনটি জমা দিয়ে খাবার না নিয়েই চলে আসি। ছাত্রলীগের মতো এমন ঐতিহ্যবাহী এক সংগঠন আজকে স্বাধীনতা দিবসের মতো দিনে সামান্য খাবার নিয়ে যে আচরণ করেছে তা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
জানতে চাইলে হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক একরামুল ইসলাম বলেন, খাবার পরিবেশনকালীন ছাত্রলীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা টোকেন ছাড়াই আমাদের কাছে একজনের জন্য পাঁচটা করে খাবারের প্যাকেট দাবি করে। আমরা তাদের জনপ্রতি এক প্যাকেট করে খাবার দিতে রাজি হই। কিন্তু তারা আমাদের আদেশ অমান্য করে জোরপূর্বক প্রায় ১২০ প্যাকেট খাবার নিয়ে যায়। এতে অনেক শিক্ষার্থীর টোকেন থাকা সত্ত্বেও তাদের সময়মতো আমরা খাবার দিতে পারিনি। তবে পরবর্তী সময়ে আমরা হোটেল থেকে খাবার কিনে তাদের খেতে দিয়েছি।
অভিযোগের বিষয়ে হল শাখা সভাপতি চিরন্তন চন্দ এবং সাধারণ সম্পাদক মোমিন ইসলাম বলেন, আমাদের কর্মীদের জন্য আমরা একসঙ্গে খাবারের প্যাকেটগুলো নিয়েছিলাম। আর ১২০ প্যাকেট খাবার নেওয়ার অভিযোগটি পুরোপুরি ভিত্তিহীন। আমরা ৭০ প্যাকেটের মতো খাবার নিয়েছি। খাবার সঙ্কটের এই বিষয়টি হল প্রশাসনের অব্যবস্থাপনার জন্যই হয়েছে।
এ বিষয়ে হল প্রাধ্যক্ষ বলেন, আমরা ৪৮০ জনের খাবার পরিবেশন করেছিলাম এর বিপরীতে আমাদের থেকে ৩৯০ জন শিক্ষার্থী টোকেন ক্রয় করেছিল। সে হিসাবে হলের স্টাফদের খাওয়ানোর পরেও আমাদের আরও অতিরিক্ত খাবার থেকে যাওয়ার কথা। তারা টোকেন ছাড়াই ১২০ প্যাকেট খাবার নিয়েছে বলেই এই সঙ্কট তৈরি হয়েছে।
হল প্রাধ্যক্ষ আরও বলেন, অভিযুক্তরা ছাত্রলীগ বা যে দলেরই হোক না কেন, তারা প্রথমত হলের শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থী হিসেবে তারা হলের শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছে। আমি এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেছি। শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে তাদের হল থেকে বহিষ্কার করাসহ আমি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে হল প্রাধ্যক্ষের সঙ্গে হলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের কথা হয়েছে।’

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই রকম আরো সংবাদ

এ প্লাস ডিজিকম সার্ভিস

© All rights reserved © 2020 Aplusnews.Live
Design & Development BY Hostitbd.Com

অনুমতি ছাড়া নিউজ কপি দন্ডনীয় অপরাধ। কপি করা যাবে না!!