বুধবার, ২০ অক্টোবর ২০২১, ০৩:৪৬ পূর্বাহ্ন
নিউজ ফ্লাশ
ওমানকে হারিয়ে বিশ্বকাপে ২য় রাউন্ডের খেলার আশা বাঁচিয়ে রাখলো বাংলাদেশ টিকা দেওয়ার জন্য স্কুলের শিক্ষার্থীদের তালিকা করা হচ্ছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাংলাদেশকে একটি অসম্প্রদায়িক রাষ্ট্র উল্লেখ করে ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি বন্ধের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর রংপুরের পীরগঞ্জের হামলায় জড়িতরা কেউ পার পাবে না: তথ্যমন্ত্রী প্রয়াত রাষ্ট্রপতি এরশাদকে কটুক্তি করার প্রতিবাদে রংপুরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ রংপুরে ফেসবুকে পোস্ট দেয়াকে কেন্দ্র করে সহিংস ঘটনার পোস্টদাতা পরিতোষের স্বীকারোক্তি,কারাগারে প্রেরণ রংপুরের পীরগঞ্জে হিন্দু জেলে পল্লীতে হামলা পূর্বপরিকল্পিত: স্পীকার শিরীন শারমিন পীরগঞ্জে ধর্মান্ধ সন্ত্রাসী গোষ্ঠী এসব হামলা চালিয়েছে: রংপুরে ইনু রংপুরের পীরগঞ্জে ‘ধর্ম অবমাননাকর’ পোস্ট দেওয়া সেই পরিতোষ গ্রেফতার,আইসিটি আইনে মামলা জেলা পর্যায়ে রচনা প্রতিযোগিতায় শিবরাম স্মৃতি প্রি-ক্যাডেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীর প্রথম পুরষ্কার গ্রহণ

রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের ভাষণে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

এপ্লাস অনলাইন
  • আপডেট সময় : শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১

 

করোনা মোকাবিলায় বৈশ্বিক পরিকল্পনা গ্রহণ ও রোহিঙ্গা ইস্যুকে প্রাধান্য দিয়ে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে বাংলাদেশ সময় শনিবার মধ্যরাতে ভাষণ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

 

তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গা সঙ্কট এবার পঞ্চম বছরে পড়ল। কিন্তু এখন পর্যন্ত বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের একজনকেও মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়নি। মিয়ানমারে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হলেও এ সমস্যার একটি স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করতে আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জোরালো ভূমিকা ও অব্যাহত সহযোগিতা আশা করি।’

 

প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, ‘মিয়ানমারকে অবশ্যই তার নাগরিকদের প্রত্যাবর্তনের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সহযোগিতা করতে সদাপ্রস্তুত।’ শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘আগেও বলেছি, আবারও বলছি- রোহিঙ্গা সঙ্কটের সৃষ্টি মিয়ানমারে, সমাধানও রয়েছে মিয়ানমারে। রাখাইন রাজ্যে তাদের মাতৃভূমিতে নিরাপদ, টেকসই ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমেই কেবল এ সঙ্কটের স্থায়ী সমাধান হতে পারে। এজন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবশ্যই গঠনমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

 

করোনা মহামারিকে অভিন্ন শত্রু আখ্যা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন আমাদের অনেক বেশি নতুন, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বৈশ্বিক পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে এ সংক্রান্ত ছয়টি প্রস্তাব তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

 

প্রস্তাবগুলো হলো : টিকা সমতা নিশ্চিত করা, জলবায়ু সুবিচার প্রতিষ্ঠা, শিক্ষার উন্নয়নে ডিজিটাল সরঞ্জাম, সেবা ও ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা নিশ্চিত ও শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা, টেকসই উন্নয়নের স্বার্থে উন্নয়ন সহযোগিতা নিশ্চিত করা, অভিবাসীদের প্রতি সুবিচার ও রোহিঙ্গাদের জন্য নিরাপদ, টেকসই ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা।

 

জাতিসংঘ ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনাদিকাল থেকে মানবজাতি প্রাকৃতিক দুর্যোগ, মহামারি এবং মানবসৃষ্ট নানা সংঘাত ও দুর্যোগ মোকাবিলা করে আসছে। এতদসত্ত্বেও বুকে আশা এবং আত্মবিশ্বাস নিয়ে মানবজাতি এসব পাহাড়সম সমস্যা অতিক্রম করে টিকে রয়েছে। এই মহামারিও এমনই একটি সঙ্কট, যেখান থেকে বহু মানুষের টিকে থাকার অনুপ্রেরণামূলক এবং উদারতার উদাহরণ সৃষ্টি হয়েছে। দুঃখজনক হলেও এই মহামারি আরও বেশ কিছুদিন স্থায়ী হবে বলে মনে হচ্ছে। সেজন্য এ অভিন্ন শত্রুকে মোকাবিলা করার জন্য ছয়টি প্রস্তাব তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

 

জাতিসংঘ ভাষণে প্রধানমন্ত্রী জানান, ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরাম এবং ভালনারেবল-২০ গ্রুপ অব মিনিস্টারস অব ফাইন্যান্সের সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশ ‘মুজিব জলবায়ু সমৃদ্ধি পরিকল্পনা-দশক ২০৩০’-এর কার্যক্রম শুরু করেছে। এ পরিকল্পনায় বাংলাদেশের জন্য জলবায়ুকে ঝুঁকির কারণ নয়, বরং সমৃদ্ধির নিয়ামক হিসেবে পরিণত করার কর্মসূচি গৃহীত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গ্লাসগোতে অনুষ্ঠিতব্য ‘কনফারেন্স অব পার্টিজ’র (ঈঙচ) ২৬তম শীর্ষ সম্মেলন আমাদের নতুন নতুন অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিকল্পনার পক্ষে সমর্থন আদায়ের অপার সুযোগ করে দিতে পারে। এ সুযোগ কাজে লাগানোর জন্য সবাইকে আহ্বান জানাই।’

 

বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, ‘কোভিড-১৯ অতিমারির নজিরবিহীন প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে আমরা স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের পথে রয়েছি। তবে এই মহামারি অনেক দেশের উত্তরণের আকাক্সক্ষাকে বিপন্ন করেছে। স্বল্পোন্নত দেশের টেকসই উত্তরণ ত্বরান্বিত করার জন্য উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে আমরা প্রণোদনাভিত্তিক উত্তরণ কাঠামো প্রণয়নে আরও সহায়তা আশা করি।’

 

মহামারিকালে প্রবাসীরা অপরিহার্য কর্মী হিসেবে স্বাস্থ্য ও অন্যান্য জরুরি সেবা খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। তারাও সম্মুখসারির যোদ্ধা। তবুও তাদের অনেকে চাকরিচ্যুতি, বেতন কর্তন, স্বাস্থ্য ও অন্যান্য সামাজিক সেবার সহজলভ্যতার অভাব ও বাধ্যতামূলক প্রত্যাবর্তনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পঞ্চম প্রস্তাবে প্রধানমন্ত্রী এই সঙ্কটকালে অভিবাসীগ্রহণকারী দেশগুলোকে অভিবাসীদের সঙ্গে ন্যায়সঙ্গত আচরণ করার এবং তাদের কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্য এবং কল্যাণকে নিশ্চিত করার জন্য আহ্বান জানান।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই রকম আরো সংবাদ

এ প্লাস ডিজিকম সার্ভিস

© All rights reserved © 2020 Aplusnews.Live
Design & Development BY Hostitbd.Com