শুক্রবার, ০৭ অক্টোবর ২০২২, ০৯:৩০ পূর্বাহ্ন

‘ র‍্যাবের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে সত্য নয় ’

এপ্লাস অনলাইন
  • আপডেট সময় : শনিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০২১

দায়িত্ব পালনের সময় নিজেদের আত্মরক্ষায় গোলাগুলি করতে গিয়ে লেফটেন্যান্ট কর্নেল আজাদসহ এখন পর্যন্ত ২৮ জন সদস্য মারা গেছেন। অঙ্গহানী হয়েছে এক হাজারের বেশি সদস্যের। আহত হয়েছেন দুই হাজারের বেশি সদস্য। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত এসব ঘটনার পাশাপাশি জঙ্গি ও জলদস্যু মিলিয়ে মোট ৪২১ অপরাধী আত্মসমর্পণ করেছেন র‍্যাবে। তারা এখন সুস্থ স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছেন। তাদের সবাই পরিবারের সঙ্গে ভালো আছেন। র‍্যাবের এমন মানবিক আত্মসমর্পণের সুযোগ বিশ্বের কোনো বাহিনী দেয়নি।

 

বিশ্বের এমন কোনো ফোর্স নেই যাদের নয় হাজার সদস্যের মধ্যে, আইনশৃঙ্খলা ও মানবাধিকার রক্ষায় এমন আত্মত্যাগ রয়েছে। তাই বলতে চাই, র‍্যাবের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে সত্য নয়। এখন পর্যন্ত র্যাবের মতো মানবিকতা বিশ্বের খুব কম বাহিনীই দেখিয়েছে। মানবাধিকার লঙ্ঘন নয়, রক্ষায় কাজ করে র‍্যাব।

 

শনিবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজার একটি চুরির ঘটনা নিয়ে র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের সাবেক ও বর্তমান সাত র‍্যাব কর্মকর্তার প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা ইস্যুতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

 

তিনি বলেন, বিশ্বে এমন কোনো ফোর্স নেই, যার সদস্য সংখ্যা ৯ হাজার, তাদের মধ্যে আমি যে পরিসংখ্যান দিলাম.. দেশের আইন শৃঙ্খলা মানবাধিকার রক্ষার্থে এভাবে আত্মত্যাগ করেছে কি না, আমার সন্দেহ রয়েছে।

 

ভবিষ্যতেও র‍্যাব মানবাধিকার রক্ষায় জীবন দিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করবে জানিয়ে র‍্যাবের মুখপাত্র কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, আমরা বলব, র‍্যাবের মতো মানবিকতা বিশ্বের খুব কম বাহিনীই দেখিয়েছে। র‍্যাবে মানবাধিকার লুণ্ঠন করে না, র‍্যাব মানবাধিকার রক্ষা করে। মানবাধিকার রক্ষায় জীবন দিয়ে কাজ করছে র‍্যাব।

 

যুক্তরাষ্ট্রে র‍্যাব কর্মকর্তাদের নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে জানতে চাইলে প্রশ্নের জবাবে র‍্যাবের মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক বলেন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি আমরা গণমাধ্যমের মাধ্যমে অবগত হয়েছি। এ বিষয়ে অফিসিয়ালি এখনো কোনো কিছু জানি না। অফিসিয়াল কোনো চিঠি না পাওযার আগ পর্যন্ত এ বিষয়ে তেমন কিছু বলতে পারছি না। চিঠি পাওয়ার পর আমরা এই বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেব।

 

তিনি প্রশ্ন রেখে জানান, এখন পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা বিষয়ে যা কিছু জেনেছেন, তার সবই গণমাধ্যম থেকে পাওয়া। আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান জানাবে। তবে আমরা বলবো, র‍্যাব মানবাধিকার লুণ্ঠন করেনি, মানবাধিকার রক্ষা করে চলছে।

 

বন্দুকযুদ্ধ বা ক্রসফায়ারের বিষয়ে র‍্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘বিভিন্ন সময়ে আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয় যে, গুলিবিনিময়ের যে ঘটনা বা ক্রসফায়ার আমরা বলে থাকি; আমরা মনে করি একটি দেশের সুস্থ বা স্বাভাবিক নাগরিক হিসেবে নিজের আত্মরক্ষার যে অধিকার এটা কিন্তু দেশের আইন দিয়েছে। মাদক, জঙ্গি দমনের অভিযানে আমাদের সঙ্গে বিভিন্ন অভিযানে যে গুলিবিনিময়ের ঘটনা ঘটেছে, সেখানে আমরা যখন প্রতিরোধের শিকার হয়েছি বা আমাদের ওপর যখন সন্ত্রাসীরা গুলি চালিয়েছে তখনই আমরা গুলি করেছি। এই গুলি বিনিময়ে আমাদের এখন পর্যন্ত ২৮ জন সদস্য শহীদ হয়েছেন। বিভিন্ন সময়ে গুলিবিনিময়ের ঘটনায় সেখানে নিরপেক্ষ তদন্ত হয়। সেখানে যাচাই-বাছাই করা হয় এই গুলি বিনিময় যথার্থ ছিল কি না। যদি যথাযথ না থাকে, তাদের বিরুদ্ধে র‍্যাব যথাযথ ব্যবস্থা নিয়েছে।

 

র‍্যাব কর্মকর্তা আল মইন বলেন, ‘প্রতিটি গুলিবর্ষণের ঘটনার নির্বাহী তদন্ত হয়। যদি কেউ ভুল করে থাকেন, তাহলে র‍্যাব কঠোর ব্যবস্থা নেয়। যারা আইন ভঙ্গ করে, নিয়ম ভঙ্গ করে তাদের বিরুদ্ধে র‍্যাব সবসময় কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।’

 

বিভিন্ন বাহিনীর চৌকস সদস্যদের নির্বাচন করে বিশেষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই বাহিনীতে আনা হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই বাহিনীর নিজস্ব যে আইন বা নিয়ম রয়েছে তা অত্যন্ত কঠোরভাবে পালন করা হয়। এখানে কেউই আইনের ঊর্ধ্বে না। র‍্যাবই সেই বাহিনী, যারা প্রথম নিজ সদস্যদের ডোপ টেস্টের মাধ্যমে দেখে বাহিনীতে কোনো মাদকাসক্ত সদস্য রয়েছে কি-না। যেন কোনো মাদকাসক্ত এই বাহিনীতে ঢুকতে না পারেন সেদিকে বিশেষ দৃষ্টি রয়েছে র‍্যাবের।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই রকম আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Aplusnews.Live
Design & Development BY Hostitbd.Com

অনুমতি ছাড়া নিউজ কপি দন্ডনীয় অপরাধ। কপি করা যাবে না!!