শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৫:৩৬ অপরাহ্ন
নিউজ ফ্লাশ
রংপুরে মাদকসেবির ছুরিকাঘাতে আহত এএসআইয়ের মৃত্যু রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের ভাষণে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান ভারতে আইনজীবীর পোশাকে আদালতের ভিতরে গ্যাংস্টারদের গুলিবর্ষণ,চারজন নিহত দেশে কমেছে করোনায় মৃত্যু ও আক্রান্তের হার শিক্ষার্থীদের অসুস্থ হওয়ার ঘটনায় স্কুলগুলো মনিটর করা হচ্ছে: শিক্ষামন্ত্রী ই-অরেঞ্জের ভুক্তভোগী গ্রাহকদের বিক্ষোভে লাঠিচার্জ আরও ২৩ টন ইলিশ মাছ পৌঁছেছে ভারতে করোনায় প্রাণ হারালেন অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী রোদেলা কোভিড-১৯ টিকাকে ‘বৈশ্বিক জনস্বার্থ সামগ্রী’ হিসেবে ঘোষণা করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ডিসিপিইউকে’র করোন সচেতনতা মুলক ক্যাম্পেইন প্রোগ্রাম ও পথ নাটক

শরতের কাশফুলে প্রাণমুগ্ধ রংপুরের বেরোবি ক্যাম্পাস

রাজিমুজ্জামান হৃদয়
  • আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১
ছবিঃ আসাদুজ্জামান আফজাল

ছয় ঋতুর আমাদের বাংলাদেশে বর্তমানে শরৎকাল। এই ঋতুতে নানা রং এর ফুলের সমারোহ থাকলেও মায়াবী কাশফুল মানুষকে আকৃষ্ট করে অনেক বেশি। শরতের মৃদু বাতাসে কাশফুলের উপচে পড়া যৌবন সেখানে মনের অৎানেন্তই আপনাকে প্রবল আকর্ষণ করবে।বর্ষার অবিশ্রান্ত বৃষ্টির টুপটাপ গান যখনই মানুষের মনকে বিষন্ন করে তুলে, ঠিক তখন নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা নিয়ে শরৎকালের আগমন ঘটে।

 

নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়ায় নামে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) তে প্রতিবারের ন্যায় এবারও ফুটেছে সারি সারি কাশফুল। শরতের পরিপূর্ণ রূপমাধুরদী মিশিয়ে যেন ক্যাম্পাসকে সাজিয়েছে নবরূপে। শহীদ মিনার, খেলার মাঠের চারপাশ, মসজিদের পেছনে, বিভিন্ন হলের চারপাশে দোল খাচ্ছে শুভ্র কাশফুল।

 

সন্ধ্যার আগে বিকেলের রোদ যখন সাদা ফুলেদের গায়ে পড়ে বড় আনমনা মানুষটিও তখন সেই সৌন্দর্যে নিজেকে হারিয়ে ফেলে। অথবা ঠিক দুপুরে যখন নীল আকাশ ভেঙে রোদ নেমে আসে তখন সাদা কাশফুলেদের দল ভাবুক হৃদয়ে দোলা দেয়।এমন অনেক বিকেল বেরোবির শিক্ষার্থীদের মনে আঁচড় কেটে আছে। মন খারাপের বেলায় আড্ডায় মেতে উঠে এখানকার প্রেমিকেরা।

 

কিন্তু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা ঘরবন্দী। সেই পুরোনো দিনে স্মৃতি মনের কোটরে তাদের বার বার হাতছানি দেয়। এই বুঝি প্রাণের ক্যাম্পাসে ফিরতে পারলাম। প্রিয় আঙ্গিনাকে ঠিক কতটা অনুভব করছেন বেরোবিয়ানরা!

 

প্রকৃতির নানা ধরনের উদ্ভিদ ও ভালোলাগার বিভিন্ন ধরনের ফুলের সমারোহ আছে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে। বিশেষ করে কাশফুল বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৃতি প্রেমিদের নিকট ধরা দেয় ভিন্ন আঙ্গিকে।

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে কথা হয় বাংলা বিভাগের ১ম বর্ষের ২য় সেমিস্টারের ছাত্র ফজলে রাব্বির সাথে। তিনি বলেন, চলমান মহামারির কারনে দীর্ঘ দিন ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় শরতের এই শুন্যতা হৃদয়ে অনুভব করছি কাশফুলের মাধ্যমে। হয়তো গত বছরের মতো এবারেও কাশফুল ভিন্ন আঙ্গিকে ফুটেছে কারন করোনা প্রকৃতির পরিবেশকে নতুন ভাবে সাজিয়েছে।

 

ফার্মেসী বিভাগের শিক্ষার্থী ফয়সাল হাসান বলেন, এবারের শরৎ একটু আলাদা। ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের আনাগোনা নেই। শিক্ষার্থী ফেরার অপেক্ষায় মনকাড়া কাশবনগুলো। কাশফুলের সাথে ছবি তোলা, কাশফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করা অকে চমৎকার বিষয়।। প্রাণহীন ক্যাম্পাসে প্রাণের সঞ্চার করেছে কাশবন। কাশফুল ধরে রেখেছে সৌন্দর্য।

 

এ বিষয়ে বাংলা বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী মুরাদ বলেন, কাশফুলের প্রেমে পড়ে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ অনেক গান রচনা করেছেন। তার গান শুনলেই শরতের অস্তিত্বের প্রমাণ মিলে। ক্যাম্পাসের কাশফুল আমাকে বিমোহিত করে। এ রকম অভিব্যক্তি প্রকৃতিপ্রেমী সব শিক্ষার্থীর সব মানুষের।

 

তবে ক্যাম্পাসে প্রতিবছরের মত দর্শনার্থী না থাকলেও সূর্য অস্ত যাওয়ার আগে ক্যাফেটেরিয়া ভিড় নেই। কেউ বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতে এসেছে, আবার কেউ প্রিয়তমার জন্য ফুল নিতে আসে । তবে এই বিপদের সময়েও সবকিছু উপেক্ষা করে প্রকৃতিপ্রেমী কয়েকজন শিক্ষার্থী ক্যাম্পাস থেকে ঘুরতে আসছে। তাঁদের ক্যামেরায়, মুঠোফোনে তোলা ছবি দেখে দেখেই বাকিদের এবারের ভার্চ্যুয়াল শরৎ–বিলাস উদ্যাপন ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। তাই ক্যাম্পাসে ফেরার আশায় প্রতীক্ষার প্রহর গুনছেন প্রত্যেক শিক্ষার্থী।

 

বেরোবির বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড.তুহিন ওয়াদুদ বলেন, শরৎ মানেই কাশফুল, নীল আকাশ আর দিগনন্তজোড়া সবুজের সমারোহ। আর কাশফুল হলো শরৎ, প্রকৃতি এবং বাংলার মানুষের এক চিরন্তন সঙ্গী। এটা কাউকে বিমর্ষ করে না। কাশফুলের সৌন্দর্য আমাদের মনের সৌন্দর্যকে সমৃদ্ধ করে।রুপসি বাংলার অপার ঋতু বৈচিত্রের সাথে বাঙালির চরিত্রের রয়েছে অভূতপূর্ব মেলবন্ধন। একেক ঋতুর একেক সাজ যেন বাঙালি হৃদয়ের বিশালতার প্রতিচ্ছবি। তাই পূঁথিগত শিক্ষার সাথে প্রকৃতির আলিঙ্গন ছাড়া ওই শিক্ষা পূর্ণতা পায় না।

 

ক্যাম্পাসের শরৎ উপভোগ করতে করতে কখন যে প্রকৃতির আকাশে সন্ধ্যার আভা নেমে আসে বুঝতেই পারা যায় না। কাশবনেও যেন নেমে আসে বেলা শেষের স্তবদ্ধতা। এই ¯স্তবদ্ধতার সুযোগে প্রতিদিন সূর্য মামাও বিদায় জানাতে পিছপা হয় না।

 

শরৎকালের নাম শুনলে মনের গভীরে ভেসে উঠে স্বচ্ছ নীল আকাশের সাদা মেঘ আর মাঠজুড়ে সবুজের মাঝে কাশফুলের সমারোহ। নীল আকাশে সাদা মেঘের নিচে শরতের সাদা কাশফুল যেন মনের আঙ্গিনায় নতুন প্রেমের আলোড়ন তুলে। শরতের ছোয়ায় বিমোহিত হয়ে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছেন ‘আজি কি তোমার মধুর মূরতি, হেরিনু শারদ প্রভাতে! হে মাত বঙ্গ,শ্যামল অঙ্গ ঝুলিছে অমল শোভাতে।’

 

নাগরিক কোলাহল আর যাপিত জীবনের নানা ব্যাস্ততার মাঝে মাঝে চুপিচুপি আসে শরৎ। শরতের বিকালে নীল আকাশের নিচে দোলা খায় শুভ্র কাশফুল। নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা শরৎ ছাড়া আর কে ভাসাতে পারে?
তাই তো প্রতি বছরের মত এবারও ক্যাম্পাস বেরোবিও সেজেছে শরতের শুভ্র ছোয়ায়। দোল খাচ্ছে, কাশফুল। তবে তা যেন এসেছে গত বছরের মতো এবার ভিন্ন এক বাস্তবতায়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই রকম আরো সংবাদ

এ প্লাস ডিজিকম সার্ভিস

© All rights reserved © 2020 Aplusnews.Live
Design & Development BY Hostitbd.Com