বুধবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৬:২৮ পূর্বাহ্ন
নিউজ ফ্লাশ
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে পঞ্চগড়ের নৌকাডুবির খবর পঞ্চগড়ে নৌকাডুবি ট্রাজেডি: অর্ধশত মরদেহ উদ্ধার বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন : বেরোবি উপাচার্য স্বজনদের আহাজারিতে ভারি করতোয়ার পাড় পঞ্চগড়ে নৌকাডুবি: দিনাজপুরের পুনর্ভব নদীতে ভেসে এলো ৮ জনের লাশ করতোয়ার পাড়ে দীর্ঘ হচ্ছে লাশের সারি, মৃত্যু বেড়ে ৩৯ পঞ্চগড়ে মন্দিরে যাওয়ার পথে নৌকাডুবিতে শিশুসহ ২৪ জনের মৃত্যু হিজাব ইস্যুতে উত্তাল ইরান: নারীসহ ৭০০ বিক্ষোভকারী গ্রেফতার, নিহত ৩৫ শারদীয় দুর্গাপূজা: হিলি ইমিগ্রেশন দিয়ে যাত্রী পারাপার বেড়েছে ফেসবুকে ইসলাম ধর্ম নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য, বেরোবি শিক্ষার্থী আটক

সংযমের মাস রমজানে করণীয় ও বর্জনীয়

এপ্লাস অনলাইন
  • আপডেট সময় : শনিবার, ২ এপ্রিল, ২০২২

সংযমের মাস রমজান। মহান আল্লাহ এ মাসে অশেষ ক্ষমা ও পুরস্কারপ্রাপ্তির মহিমান্বিত মুহূর্তগুলো রেখেছেন। মুসলিম জাতির জন্য আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে এ মাসে রয়েছে অত্যন্ত কল্যাণ ও বরকত। তাই রমজানকে স্মরণীয় করে রাখতে কোরআন ও হাদিসের আলোকে আজকে এ মাসের করণীয় ও বর্জনীয় বিষয়গুলো সম্পর্কে জেনে নিন।

 

ইসলামের পাঁচটি ভিত্তির মধ্যে অন্যতম একটি ভিত্তি হলো রোজা। প্রতিবছর রমজান মাসে একজন সুস্থ-সক্ষম মানুষের জন্য রোজা পালন করা ফরজ। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ, তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর, যেন তোমরা মুত্তাকি হতে পারো।’ (সুরা বাকারা : ১৮৩)। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত- রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যখন তোমরা রমজানের চাঁদ দেখবে তখন রোজা রাখবে। যখন শাওয়ালের চাঁদ দেখবে তখন থেকে রোজা বন্ধ করবে। আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকলে ৩০ দিন রোজা রাখবে।’ (বুখারি : ১৯০৯)

 

রমজান মাসে দিন-রাত উভয়ই ইবাদতে মগ্ন থাকতে হবে। শরিয়ত মতে, দিনে রোজা পালন করা ফরজ আর রাতে তারাবির সালাত আদায় করা সুন্নতে মুয়াক্কাদা। হজরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত- রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি পূর্ণ ঈমান ও বিশ্বাসের সঙ্গে সওয়াবের আশায় রমজানের রাতে তারাবি আদায় করে তার পূর্ববর্তী গুনাহগুলো ক্ষমা করে দেওয়া হয়।’ (বুখারি : ২০০৯)

 

রমজান মাসের গুরুত্বপূর্ণ দুটি আমল হলো- ইফতার ও সেহরি। সুবহে সাদিকের কাছাকাছি সময়ে রোজা পালনের প্রস্তুতি হিসেবে সেহরি খাওয়া মুস্তাহাব। সেহরিতে রয়েছে অনেক বরকত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমরা সেহরি খাও। কেননা সেহরিতে রয়েছে বরকত। (মুসলিম : ১০৯৫)। আবার সারাদিন মহান আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে রোজা পালনের পর সূর্য ডোবার সঙ্গে সঙ্গে ইফতার করা সুন্নত।

 

ইফতার খেজুর দ্বারা করা মুস্তাহাব। হজরত আনাস ইবনে মালেক (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) মাগরিবের নামাজ পড়ার আগে তাজা খেজুর দিয়ে ইফতার করতেন। তাজা খেজুর না পেলে শুকনা খেজুর দ্বারা ইফতার করতেন। আর তাও না পেলে এক ঢোক পানি দ্বারা ইফতার করতেন।’ (সুনামে তিরমিজি : ৬৯২)

 

রমজান মাসে আল্লাহ তায়ালা মহাগ্রন্থ আল-কোরআন মানবজাতির হেদায়েতের জন্য নাজিল করেছেন। এ কিতাবে রয়েছে হেদায়েতের বাণী। হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত- রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘রোজা এবং কোরআন কেয়ামতের দিন বান্দার জন্য সুপারিশ করবে। রোজা বলবে, হে রব, আমি তাকে খাদ্য এবং যৌন সম্ভোগ থেকে বিরত রেখেছি, অতএব তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ গ্রহণ করুন।

 

কোরআন বলবে, আমি তাকে রাতের ঘুম থেকে বিরত রেখেছি (অর্থাৎ না ঘুমিয়ে সে তেলাওয়াত করেছে) অতএব তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ গ্রহণ করুন।’ তিনি আরও বলেন, ‘তাদের উভয়ের সুপারিশ গ্রহণ করা হবে।’ (মুসনাদে আহমাদ : ৬৬২৬)

 

মহান আল্লাহ তায়ালা রমজান মাসে অসংখ্য জাহান্নামিকে মুক্তিদান করেন। তাই এ মাসে বেশি বেশি তওবা করা উচিত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ এ মাসের প্রতি রাতে অসংখ্য জাহান্নামিকে মুক্তিদান করেন।’ (মুসনাদে আহমাদ : ১৮৭৯৪)। রমজানের শেষ দশকে আল্লাহ তায়ালা বান্দার জন্য হাজার বছরের চেয়েও শ্রেষ্ঠ রাত লাইলাতুল কদর রেখেছেন। তাই রমজানের শেষ দশকে ইতেকাফ করা জরুরি।

 

হজরত আয়শা (রা) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রতিবছর রমজানের শেষ ১০ দিন ইতেকাফ করতেন। ইন্তেকালের আগ পর্যন্ত তিনি এ নিয়ম পালন করেন।’ (বুখারি)। রমজান মাসে নফল ইবাদতের সওয়ার অন্য মাসের তুলনায় বহুগুণ বৃদ্ধি করে দেওয়া হয়। এজন্য এ মাসে বেশি বেশি নফল ইবাদত করা উচিত।

 

এবার রমজান মাসে আমাদের অভ্যাসে পরিবর্তন আনতে হবে। তা হলো- অশ্লীল কথা ও কর্ম, মিথ্যা কথা বলা, গিবত করা ইত্যাদি। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কত রোজা পালনকারী এমন আছে, (রোজা অবস্থায় অশ্লীল কথা ও কর্ম থেকে বিরত না থাকার ফলে) ক্ষুধা ও পিপাসা ছাড়া রোজা থেকে সে আর কিছু লাভ করতে পারে না। অনুরূপ অনেক রাত জাগরণকারী এমন আছে যে, তার রাত জাগরণ থেকে জেগে থাকার কষ্ট ছাড়া আর কিছু পায় না।’ (সুনানে ইবনে মাজা : ১৬৯০) মিথ্যাকে সব পাপের জননী বলা হয়।

 

একটি মিথ্যা থেকে শত শত পাপের সূত্রপাত করে। তাই আল্লাহ ও রাসুলুল্লাহ (সা.) মিথ্যা কথা থেকে বিরত থাকার আদেশ দিয়েছেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে রোজা রেখেছে অথচ মিথ্যাচার পরিহার করেনি, তার এই কৃত্রিম পানাহার বর্জনের কোনো প্রয়োজন আল্লাহর নেই।’ (বুখারি : ১৯০৩)। গিবতের কারণে কখন যে আপনার আমল কখন ধ্বংস হয়ে যাবে তা বুঝতেই পারবেন না। গিবত জিনার চেয়েও জঘন্যতম গুনাহ। তাই গিবতও পরিহার করা উচিত। মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে রমজানের অশেষ রহমত, বরকত হাসিল করার তওফিক দান করুন। আমিন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই রকম আরো সংবাদ

এ প্লাস ডিজিকম সার্ভিস

© All rights reserved © 2020 Aplusnews.Live
Design & Development BY Hostitbd.Com

অনুমতি ছাড়া নিউজ কপি দন্ডনীয় অপরাধ। কপি করা যাবে না!!