বুধবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৬:৩৯ পূর্বাহ্ন
নিউজ ফ্লাশ
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে পঞ্চগড়ের নৌকাডুবির খবর পঞ্চগড়ে নৌকাডুবি ট্রাজেডি: অর্ধশত মরদেহ উদ্ধার বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন : বেরোবি উপাচার্য স্বজনদের আহাজারিতে ভারি করতোয়ার পাড় পঞ্চগড়ে নৌকাডুবি: দিনাজপুরের পুনর্ভব নদীতে ভেসে এলো ৮ জনের লাশ করতোয়ার পাড়ে দীর্ঘ হচ্ছে লাশের সারি, মৃত্যু বেড়ে ৩৯ পঞ্চগড়ে মন্দিরে যাওয়ার পথে নৌকাডুবিতে শিশুসহ ২৪ জনের মৃত্যু হিজাব ইস্যুতে উত্তাল ইরান: নারীসহ ৭০০ বিক্ষোভকারী গ্রেফতার, নিহত ৩৫ শারদীয় দুর্গাপূজা: হিলি ইমিগ্রেশন দিয়ে যাত্রী পারাপার বেড়েছে ফেসবুকে ইসলাম ধর্ম নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য, বেরোবি শিক্ষার্থী আটক

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম জিয়ার চিকিৎসা খরচ প্রায় সাড়ে ৪ কোটি!

এপ্লাস অনলাইন
  • আপডেট সময় : শনিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২২
ছবি: সময়ের আলো
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া তিন দফায় প্রায় ছয় মাস রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। সরকারের নির্বাহী আদেশে বাসায় থাকার সুযোগ পেলেও অসুস্থতার কারণে দীর্ঘ সময় হাসপাতালেই কাটাতে হয়েছে তাকে। সর্বসাকুল্যে প্রথম দফায় ৫৩ দিন, দ্বিতীয় দফায় ২৬ দিন এবং তৃতীয় দফায় ৮১ দিন হাসপাতালে ছিলেন। এ দীর্ঘ চিকিৎসায় ব্যয় কে বহন করছে?
সরকার নাকি খালেদা জিয়ার পরিবার। এ নিয়ে কৌতূহল চলছে বিএনপির নেতাকর্মীসহ নানা মহলে।বিএনপিপ্রধানের তিন দফার চিকিৎসা ব্যয়ের বিলের বিস্তারিত তথ্য এসেছে সময়ের আলোর কাছে। এতে দেখা গেছে, প্রথম দফায় ৮৫ লাখ, দ্বিতীয় দফায় ১ কোটি ৫৮ লাখ টাকা বিল আসে। আর সবশেষ দফায় ২ কোটি টাকার ওপরে বিল এসেছে। সব মিলিয়ে চিকিৎসা বাবদ খরচ প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকার কম নয়। এসবের পুরো ব্যয় মিটিয়েছে খালেদা জিয়ার পরিবার।
শেষবার সবচেয়ে বেশি সময় চিকিৎসা নিয়ে গুলশানের বাসভবন ফিরোজায় বিশ্রামে আছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ২৫ মাস সাজা খেটে দুই শর্তে ২৫ মার্চ ২০২০ কারামুক্ত হন বিএনপি চেয়ারপারসন। কারাগারে থাকাকালে তিনি দুবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন। সবশেষ মহামারি করোনার মধ্যে সাজা স্থগিত হলে তিনি সরাসরি হাসপাতাল থেকেই ফিরোজায় ওঠেন।
বাসায় গিয়ে খালেদা জিয়া দুই দফায় করোনায় আক্রান্ত হন। সে সঙ্গে পুরনো রোগ জেঁকে বসে। ৮১ দিনের টানা চিকিৎসা শেষে গত মঙ্গলবার রাতে ফিরোজায়  ফেরেন খালেদা জিয়া। শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে তাকে বাসায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় তার চিকিৎসায় গঠিত বোর্ড। যার পেছনে বোর্ড বড় কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে করোনা সংক্রমণ ফের ছড়িয়ে পড়া। তাই হাসপাতাল থেকে বাসাকেই বিএনপি চেয়ারপারসনের জন্য নিরাপদ মনে করেছেন চিকিৎসকরা।
এখন পর্যন্ত বিএনপি নেত্রী এভারকেয়ারে গেছেন চারবার। তিনবার তিনি সেখানে ভর্তি হন। প্রথমবার ২৭ এপ্রিল থেকে ১৯ জুন পর্যন্ত ৫৩ দিন, দ্বিতীয় দফায় ১২ অক্টোবর থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত ২৬ দিন এবং তৃতীয় দফায় ১৩ নভেম্বর থেকে ৮১ দিন তিনি হাসপাতালে থাকেন।
সরকার নাকি খালেদা জিয়ার পরিবার- এ দীর্ঘ চিকিৎসায় ব্যয় কে বহন করেছে? এ প্রসঙ্গে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ সম্প্রতি এক সভায় বলেন, খালেদা জিয়া ৮১ দিন হাসপাতালে ছিলেন, তার টাকাটা সরকার পরিশোধ করবে তো? এভারকেয়ার হাসপাতাল ও খালেদা জিয়ার পরিবার সূত্রে জানা গেছে, চিকিৎসা বাবদ সব খরচই খালেদা জিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে বহন করা হয়েছে।
এভারকেয়ারের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা সময়ের আলোকে বলেন, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন মোট তিনবার। পরিবারের পক্ষ থেকে ওনার ছেলে তারেক রহমানই সব বিল পরিশোধ করেছেন। কাগজেকলমে পরিবারের পক্ষে তিনিই দায়িত্বশীল ব্যক্তি ছিলেন।’
তিনি জানান, প্রথম দফায় ৮৫ লাখ, দ্বিতীয় দফায় ১ কোটি ৫৮ লাখ টাকা বিল আসে হাসপাতালে চিকিৎসা বাবদ। তবে তিনি শেষ দফার বিলটির সঠিক ফিগার বলতে পারেননি। খালেদা জিয়ার মেডিকেল বোর্ডের একজন চিকিৎসক সময়ের আলোকে বলেন, ‘শেষবার সবচেয়ে বেশি সময় ম্যাডাম চিকিৎসাধীন ছিলেন। এ সময়ে অনেক ক্রিটিক্যাল অবস্থার মধ্যে ছিলেন তিনি। সার্জিক্যাল আইসিইউ ও সিসিইউতে ছিলেন। দেশে না থাকায় কিছু চিকিৎসা সরঞ্জাম আমেরিকা থেকে অর্ডার করে আনা হয়েছিল। এ ছাড়া কিছু যন্ত্র অন্য হাসপাতাল থেকেও এভারকেয়ারে আনা হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এসবে পুরোপুরি সহায়তা করেছেন।’
তৃতীয় দফায় চিকিৎসা খরচের সঠিক ফিগার না বললেও ওই চিকিৎসক জানান, শেষবার ২ কোটি টাকার ওপরে বিল এসেছে। বিল পরিশোধ করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আর এসব সমন্বয় করেন খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত সচিব আব্দুস সাত্তার। তিনি বলেন, ‘তারেক রহমান সাহেব সব খরচ দিয়েছেন’।
তবে কত চিকিৎসা ব্যয় জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন। একই কথা বলেন মেডিকেল বোর্ডের সমন্বয়ক ও খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক এজেডএম জাহিদ হোসেন। বিএনপির এই ভাইস চেয়ারম্যান সময়ের আলোকে বলেন, ‘হ্যাঁ ম্যাডামের সব খরচ পরিবার বেয়ার করেছে। কত বিল এসেছে তা আপনার জানার কী দরকার।’
এভারকেয়ারের একাধিক সূত্র জানায়, ৭৭ বছর বয়সি খালেদা জিয়ার জন্য এখনও হাসপাতালের একটি কেবিন ও ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিট-সিসিইউ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। যদি ওনার ফের কোনো খারাপ অবস্থা তৈরি হয়, তা হলে আবার তাকে হাসপাতালে নেওয়া হবে। যার বিলও পরিশোধ করছে পরিবার। মেডিকেল বোর্ডের একজন চিকিৎসক জানান, প্রথমে বোর্ডে সীমিত চিকিৎসক ছিলেন।
খালেদা জিয়ার অবস্থার অবনতি হলে দেশি-বিদেশি প্রায় ২০ থেকে ২৫ জনের একটি টিম কাজ করে। মাঝে একজন চিকিৎসককে টিম থেকে বাদ দেওয়া হয়। এভারকেয়ারের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. শাহাবুদ্দিন তালুকদারের তত্ত্বাবধানে তিনি ভর্তি ছিলেন। তবে লন্ডন থেকে সবকিছু দেখভাল করতেন খালেদা জিয়ার পুত্রবধূ ডা. জোবাইদা রহমান। প্রত্যেক বৈঠক শেষে মেডিকেল বোর্ড অসুস্থ খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের সবশেষ রিপোর্ট ছেলে তারেক রহমানকে অবহিত করে।
গত বছরের শেষ দিকে খালেদা জিয়ার বারবার রক্তক্ষরণ হলে তার উৎস খুঁজতে বিদেশ থেকে কিনে আনা হয় ক্যামেরাযুক্ত ক্যাপসুল। যেটি সেবন করিয়ে পরিপাকতন্ত্রের প্রকৃত রোগ নির্ণয়ের চেষ্টা করা হয়। চিকিৎসকরা এটাকে বলেন ‘ক্যাপসুল এন্ডোস্কপি’। গত বছরের ১১ এপ্রিল খালেদা জিয়ার করোনা পজিটিভ হওয়ার চার দিন পর এভারকেয়ারে তার সিটি স্ক্যান করা হয়। তবে ভর্তি করা হয়নি।
পরে ২৭ এপ্রিল একই হাসপাতালে ভর্তি করা হয় বিএনপিপ্রধানকে। ১৯ জুন তিনি বাসায় ফেরেন। জ্বর আসার পর গত ১২ অক্টোবর খালেদা জিয়াকে আবার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সে সময় তার বায়োপসি করার পর টিউমারের উপস্থিতি পাওয়া যায়। সেটি অপারেশন করে বাদ দেওয়া হয়। ৭ নভেম্বর তিনি বাসায় ফেরেন।
দ্বিতীয় দফায় ফেরার পর নিজ বাসভবন ফিরোজায় বেশি দিন থাকা হয়নি খালেদা জিয়ার। সেখানে ফেরার ৬ দিনের মাথায় গত বছরের ১৩ নভেম্বর বিকালে আবার তাকে এভারকেয়ারে ভর্তি করা হয়। শারীরিক অবস্থার কিছুটা অবনতি হওয়ায় পরদিন ভোরে তাকে সিসিইউতে নেওয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসা চলছিল তার।
লিখেছেন সাব্বির আহমেদ,স্টাফ রিপোর্টার, সময়ের আলো 

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই রকম আরো সংবাদ

এ প্লাস ডিজিকম সার্ভিস

© All rights reserved © 2020 Aplusnews.Live
Design & Development BY Hostitbd.Com

অনুমতি ছাড়া নিউজ কপি দন্ডনীয় অপরাধ। কপি করা যাবে না!!