বৃহস্পতিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২২, ০২:৩২ পূর্বাহ্ন

স্বজনদের আহাজারিতে ভারি করতোয়ার পাড়

এপ্লাস অনলাইন
  • আপডেট সময় : সোমবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২২
পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার করতোয়া নদীতে নৌকাডুবির ঘটনায় ৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় নিখোঁজ রয়েছেন আরও অনেকে। নদীতীরে চলছে শোকের মাতম।  নিখোঁজ ও হতাহতদের সন্ধানে ভিড় করছেন স্বজনরা। তাদের আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠেছে করতোয়ার বাতাস।
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার মাড়েয়া ইউনিয়নের ফুটকিবাড়ি আরাজি শিকারপুর গ্রামের বাংঠু রামের মেজো ছেলে হেমন্ত রায়ের স্ত্রী কবিতা (৪৫), তার মেয়ে কলি রায় শ্যামলী (১৪), ছোট ভাই বাসুদেব স্ত্রী রুপালী রানী (৩৫), হেমন্ত রায়ের নাতনী জয়া রানী (৭) জয়শ্রী (৩), আলো রানী (৩০) অর্পিতা রানী (১৭), বাসুদেবের মেয়ে নন্দনী (৮) সহ আটজন গেলেও তার মধ্যে অর্পিতা ও আলো সাতার কেটে ফিরে আসেন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন নন্দনী আর কবিতা, শ্যামলী ও রুপালি রানীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বাকি ধীরেন রায়ের মেয়ে জয়শ্রী ও জয়া রানী এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। পরিবারের তিনজনের মৃত্যুতে ও দুই শিশু কন্যার নিখোঁজে পুরোগ্রাম জুড়ে শোকের মাতল। তাদের আহাজারিতে বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে।

স্ত্রী ও দুই নাতনীকে হারিয়ে পাগল প্রায় হেমন্ত রায়। তিনি জানান, রোববার (২৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আমার স্ত্রী, তিন মেয়ে, দুই নাতনি ও ছোট ভাইয়ের স্ত্রী, কন্যা মহালয়া উপলক্ষে বড়শশী ইউনিয়নের বদেশ্বরী মন্দিরে ধর্মসভায় যোগ দেওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হন। আমার পরিবারের আট জন্যই গভীর পানিতে তলিয়ে যায়। দুই মেয়ে সাঁতার কেটে ফিরে আসে। ছোট ভাইয়ের মেয়ে চিকিৎসাধীন, তিনজনের লাশ পেয়েছি আর দুইজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। এ ঘটনা মেনে নেয়ার মতো না। আমার ফুটফুটে দুই নাতনিকে এখনো পাওয়া যায়নি। নাতনিকে উদ্ধারের জন্য প্রশাসনকে অনুরোধ জানান তিনি।
পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার মাড়েয়া ইউনিয়নের আউলিয়ার ঘাট এলাকায় করতোয়া নদীতে নৌকাডুবির ঘটনা থেকে বেঁচে যাওয়া যাত্রী মাড়েয়া বামনপাড়া এলাকার সুবাস চন্দ্র রায় বলেন, আমরা পাঁচজন বন্ধু ছিলাম। কোনমতে সাতার কেটে প্রাণে বেঁচে যাই।

তিনি আরও বলেন, আমিও নৌকায় ছিলাম। নৌকায় দেড়শরও বেশি যাত্রী ছিল। আমরা নৌকায় উঠার পরপরই নৌকায় পানি ঢুকতে শুরু করে। এ সময় মানুষজন নৌকার মধ্যেই হুড়োহুড়ি শুরু করেন। পরে যে পাশেই যাচ্ছিলাম, সে পাশেই নৌকায় পানি ঢুকছিল।
সুবাস চন্দ্র বলেন, অন্য যাত্রীরা একে অন্যকে জড়িয়ে ধরে বাঁচার আকুতি করছিল। কিন্তু চরম মুহূর্তের বর্ণনা করতে পারবো না। তবে এতো মানুষ মারা যাবেন, তা বুঝতে পারিনি।
ষাটোর্ধ কৃষ্ণ চন্দ্র রায় ভাই এবং ভাইপোর খোঁজে এসেছেন আউলিয়া ঘাটে। তিনি জানান, নদীর অপরপাড়ে বদেশ্বরী মন্দিরে মহালয়া পূজায় যোগ দিতে তার ভাই নরেশ ও ভাইপো সিন্টু বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরেননি। নৌকাডুবির খবরে কাল থেকেই এখানে লাশের অপেক্ষা করছেন তিনি।
দেবীগঞ্জ উপজেলার ৬নং মাড়েয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু আনশার মো. রেজাউল করিম শামীম জানান, একই পরিবারের ৮ জনের মধ্যে দুইজন ফিরে এসেছে। তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আরো ২ জন নিখোঁজ রয়েছে। নিখোঁজদের উদ্ধারে ডুবুরি দল কাজ করছে। জেলা প্রশাসকের পাশাপাশি ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ওই পরিবারকে আর্থিক সহযোগিতা করা হবে বলে জানান তিনি।
জানা গেছে, নৌকাডুবি ঘটনায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারগুলোকে ২০ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই রকম আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Aplusnews.Live
Design & Development BY Hostitbd.Com

অনুমতি ছাড়া নিউজ কপি দন্ডনীয় অপরাধ। কপি করা যাবে না!!