সোমবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১১:৩১ পূর্বাহ্ন
নিউজ ফ্লাশ
পঞ্চগড়ে মন্দিরে যাওয়ার পথে নৌকাডুবিতে শিশুসহ ২৪ জনের মৃত্যু হিজাব ইস্যুতে উত্তাল ইরান: নারীসহ ৭০০ বিক্ষোভকারী গ্রেফতার, নিহত ৩৫ শারদীয় দুর্গাপূজা: হিলি ইমিগ্রেশন দিয়ে যাত্রী পারাপার বেড়েছে ফেসবুকে ইসলাম ধর্ম নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য, বেরোবি শিক্ষার্থী আটক আগামী পহেলা ডিসেম্বর বিভাগীয় লেখক পরিষদ রংপুরের এক যুগ পূতি নগরজুড়ে চ্যাম্পিয়নদের ছাদ খোলা বাসে বিজয় শোভাযাত্রা খোলা বাসে বিলবোর্ড মাথায় লেগে আহত ফুটবলার ঋতুপর্ণার মাথায় দুই সেলাই এই ট্রফি আমাদের দেশের জনগণের জন্য রংপুরে জাপানি নাগরিক কুনিও হোশি হত্যা: ৪ জঙ্গির মৃত্যুদণ্ড বহাল দিনাজপুর বোর্ডের এসএসসি পরীক্ষার চার বিষয়ের পরীক্ষা স্থগিত

স্বাধীনতা যুদ্ধে বিদেশি সাংবাদিকদের ভূমিকা অনন্য

এপ্লাস অনলাইন
  • আপডেট সময় : শনিবার, ২৬ মার্চ, ২০২২
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাত থেকে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী চালায় ইতিহাসের নির্মম ও নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ড। ওই সময় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে উঠে আসে নতুন রাষ্ট্র বাংলাদেশের জন্মকথা এবং পাকিস্তানিদের ধ্বংসলীলা। পাকিস্তানি বাহিনী সে সময় বাংলাদেশ থেকে বিদেশি সাংবাদিকদের বের করে দিলেও বিদেশি গণমাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের খবর প্রকাশ থামাতে পারেনি। বিভিন্ন কায়দায় বিদেশি সাংবাদিকরা যুদ্ধের তথ্য ও চিত্র সংগ্রহ করে তা প্রকাশ করেছেন।
ইতিহাসের পাতা থেকে জানা গেছে, একাত্তরের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ভাষণের পরপরই বিদেশি গণমাধ্যমকর্মীরা সংবাদ সংগ্রহের জন্য বাংলাদেশে আসতে শুরু করেন। একাত্তরের ২৫ মার্চ যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, ব্রিটেন, কানাডা, ফ্রান্স, জাপান ও রাশিয়ার ৩৭ জন সাংবাদিক শাহবাগের তৎকালীন হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে অবস্থান করেন। ২৫ মার্চ রাতের গণহত্যার খবর বিশে^ যাতে প্রকাশ না হয় এজন্য ওই রাতে তাদের সেখানে আটকে রাখা হয়। বিদেশি সাংবাদিকদের ২৮ মার্চের মধ্যে ঢাকা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
তার আগ পর্যন্ত তাদেরকে কঠোর পর্যবেক্ষণে রাখে পাকিস্তান সেনাবাহিনী। তাদের মধ্যে ২ জন ওই সময় পালিয়ে যান। এদের একজন ব্রিটিশ সাংবাদিক সাইমন ড্রিং। তিনি পাকিস্তানিদের সব পরিকল্পনা ফাঁস করে দেন। সাইমন ড্রিংই প্রথম বিশ্ববাসীকে জানান, পূর্ব পাকিস্তানে গণহত্যা হয়েছে। তিনি লন্ডনের ডেইলি টেলিগ্রাফে লেখেন, ‘ট্যাঙ্কস ক্রাশ রিভোল্ট ইন পাকিস্তান’।
একাত্তরের মার্চে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর কঠোর পর্যবেক্ষণে থাকা সাংবাদিকদের মধ্যে আরও একজন ছিলেন দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক প্রতিনিধি সিডনি শ্যানবার্গ। অন্য সাংবাদিকের সঙ্গে তিনিও ২৫ মার্চ রাতের পাকিস্তানি তাণ্ডব এবং ভয়াবহতা নিজ চোখে প্রত্যক্ষ করেন। ‘বিয়ন্ড দ্য কিলিং ফিল্ডস’ নামক বইয়ে তিনি ২৫ মার্চের ঘটনা বর্ণনায় লেখেন, ‘শুরুর দিকে গোলাগুলির আওয়াজ অনেকটা বিক্ষিপ্ত ছিল, তবে রাত ১টার দিকে অনবরত গুলির আওয়াজ শুনতে পাই হোটেল কক্ষ থেকে।
প্রায় টানা তিন ঘণ্টা গুলির আওয়াজ শুনেছিলাম।’ তার আগে তিনি করাচিতে ফিরে গিয়ে একাত্তরের ২৮ মার্চ দ্য নিউইয়র্ক টাইমসে ‘আর্মি এক্সপিলস থার্টি ফাইভ ফরেন নিউজ’ শিরোনামে লেখেন, ‘পাকিস্তানের বর্বরতা যাতে প্রকাশ না পায় এজন্য সেনারা ৩৫ জন বিদেশি সাংবাদিককে পূর্ব পাকিস্তান থেকে বহিষ্কার করেছে। বিদেশি সাংবাদিকদের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ঢাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে।’
সাহিত্যিক, গবেষক ও সাংবাদিক আফসান চৌধুরী শুক্রবার এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘একাত্তরের যুদ্ধের খবর সংগ্রহ করতে বিদেশি সাংবাদিকদের অনেক বেগ পেতে হয়েছে। আমাদের শরণার্থী শিবিরগুলো এবং মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে বিশেষ মাধ্যমে যোগাযোগের মধ্য দিয়ে বিদেশি সাংবাদিকরা মুক্তিযুদ্ধের খবর সংগ্রহ করতেন। বেশিরভাগ বিদেশি সাংবাদিক ঢাকার বাইরের রণক্ষেত্র থেকে বিশেষ কায়দায় তথ্য সংগ্রহ করে সেগুলো প্রকাশ করেছেন। ওই সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত এম আর আখতার মুকুলের চরমপত্র বিদেশি সাংবাদিকদের তথ্য সংগ্রহের একটি উৎস ছিল।’
আফসান চৌধুরী আরও বলেন, ‘ওই সময়ের পাকিস্তান সরকার ঢাকার অবস্থা স্বাভাবিক দেখাতে করাচি থেকে ৮ জন সাংবাদিককে ঢাকায় এনেছিল। তাদের ঢাকায় আনার আগে শর্ত দেওয়া হয় যে, পাকিস্তানের পক্ষে লিখতে হবে। এদের মধ্যে একজন ছিলেন অ্যান্থনি মাসকারেনহাস। ঢাকায় আসার পর ধ্বংসলীলা দেখে তার বিবেক কাজ করে। তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কথা না শুনে ১০ দিনের ঢাকা সফর শেষে সরাসরি লন্ডন চলে যান। সেখানে সানডে টাইমস পত্রিকায় ১৮ মে তিনি ‘জেনোসাইড’ শীর্ষক প্রতিবেদন ছাপেন। সেখানে একাত্তরের ভয়াবহতার সত্যি গল্পগুলো তিনি তুলে ধরেন।’
ব্রিটেনের দৈনিক টেলিগ্রাফ ২৭ মার্চ ১৯৭১ সালে ‘গৃহযুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তানে আগুন জ্বলছে, রাষ্ট্রপতি মুজিবকে বিশ্বাসঘাতক বললেন’, শিরোনামে প্রতিবেদন ছাপে। ভারতের নয়াদিল্লি থেকে টেলিগ্রাফের প্রতিবেদক ডেভিড লোসাক প্রতিবেদনে লেখেন, ‘পূর্ব পাকিস্তানে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়েছে। ভয়ানক রকমের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। পূর্ব পাকিস্তানের ভাগ্যোন্নয়নে নেতৃত্ব দিচ্ছেন শেখ মুজিবুর রহমান।
বিদ্রোহী এই নেতা এবং বাঙালি জনগোষ্ঠীকে দমনের জন্য পশ্চিম পাকিস্তান পূর্ব পাকিস্তানে ভারী অস্ত্রসহ ৭০ হাজার সেনা মোতায়েন করেছে। ঢাকার সূত্রগুলো জানাচ্ছে, শেখ মুজিবসহ তার ৫ ঘনিষ্ঠ সহচরকে রাতের আঁধারে গ্রেফতার করা হয়। ঢাকাসহ অন্য শহরগুলোতে কারফিউ জারি হয়েছে, সরকারি সেনারা ঢাকার রেডিও অফিস দখল করেছে। অনেক লোককে হত্যা করা হয়েছে। চারদিকে লুটপাট, অগ্নিসংযোগসহ সেনারা তাণ্ডব চালিয়ে যাচ্ছে।’
ওই একই দিন ব্রিটেনের দৈনিক টেলিগ্রাফ ‘পাকিস্তান’স সিভিল ওয়ার’ শীর্ষক একটি সম্পাদকীয় ছাপে। এতে বলা হয়, সেখানে বড় আকারের যুদ্ধ শুরু হয়েছে, যেখানে ভারী অস্ত্রে সজ্জিত পশ্চিম পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তানের বেসামরিক সমর্থকরা লড়াই করছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই রকম আরো সংবাদ

এ প্লাস ডিজিকম সার্ভিস

© All rights reserved © 2020 Aplusnews.Live
Design & Development BY Hostitbd.Com

অনুমতি ছাড়া নিউজ কপি দন্ডনীয় অপরাধ। কপি করা যাবে না!!