বুধবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৬:৫৭ পূর্বাহ্ন
নিউজ ফ্লাশ
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে পঞ্চগড়ের নৌকাডুবির খবর পঞ্চগড়ে নৌকাডুবি ট্রাজেডি: অর্ধশত মরদেহ উদ্ধার বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন : বেরোবি উপাচার্য স্বজনদের আহাজারিতে ভারি করতোয়ার পাড় পঞ্চগড়ে নৌকাডুবি: দিনাজপুরের পুনর্ভব নদীতে ভেসে এলো ৮ জনের লাশ করতোয়ার পাড়ে দীর্ঘ হচ্ছে লাশের সারি, মৃত্যু বেড়ে ৩৯ পঞ্চগড়ে মন্দিরে যাওয়ার পথে নৌকাডুবিতে শিশুসহ ২৪ জনের মৃত্যু হিজাব ইস্যুতে উত্তাল ইরান: নারীসহ ৭০০ বিক্ষোভকারী গ্রেফতার, নিহত ৩৫ শারদীয় দুর্গাপূজা: হিলি ইমিগ্রেশন দিয়ে যাত্রী পারাপার বেড়েছে ফেসবুকে ইসলাম ধর্ম নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য, বেরোবি শিক্ষার্থী আটক

১৫ ডিসেম্বর পাক হানাদার মুক্ত হয় মিঠাপুকুর

এপ্লাস অনলাইন
  • আপডেট সময় : বুধবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০২১
১৫ ডিসেম্ব। ১৯৭১ সালের এদিন শত্রুমুক্ত হয় গাজীপুর ও রংপুরের মিঠাপুকুর। মুক্তির আনন্দে উদ্বেলিত বীরমুক্তি সেনা ও সাধারণ মানুষ বেরিয়ে আসে রাস্তায়।
মিঠাপুকুর (রংপুর) : হিলি সীমান্ত দিয়ে ফুলবাড়ী হয়ে ফজরের আজানের আগে রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার বড়বালা ইউনিয়নের ছড়ান বাজার এলাকায় প্রবেশ করে মিত্রবাহিনী। মানুষজনের চলাচল তখনও স্বাভাবিক হয়ে ওঠেনি। গায়ে ময়লা কাপড়, এলোমেলো চুল, হাতে অস্ত্র। ফজরের নামাজ শেষে মুসল্লিদের সঙ্গে দেখা হয়। আশপাশের বাড়িঘর থেকে কৌতূহলী লোকজনের উঁকি। একটা লক্কড়ঝক্কড় ট্রাক থেকে অস্ত্র হাতে একে একে নেমে আসে তরুণরা। মানুষজন বুঝে গেল, তারা মুক্তিযোদ্ধা। তখন শত শত মানুষ নেমে আসে রাস্তায়। সবার কণ্ঠে জয় বাংলা স্লোগান।
আলাপকালে এভাবেই সে দিনটির কথা স্মরণ করেন মিঠাপুকুর উপজেলার চেংমারী ইউনিয়নের মুক্তিযোদ্ধা মনোরঞ্জন সরকার। তখন তার বয়স ১৬ কি ১৭ বছল।
তিনি বলেন, ভারতীয় সেনাদের একটি দল মিঠাপুকুর হয়ে রংপুরের মডার্ন মোড়ে (বর্তমান ক্যাডেট কলেজে) পৌঁছে। পথে ১৫ ডিসেম্বর মিঠাপুকুর হানাদারমুক্ত করে। একপর্যায়ে হানাদাররা পিছু হটে রংপুর সেনানিবাসে আশ্রয় নেয়।
গাজীপুর : ১২ ডিসেম্বর বীর মুক্তিযোদ্ধারা সম্মিলিতভাবে পাকিস্তানি বাহিনীর ওপর জোরালো আক্রমণ চালালে তারা অনেকটা কোণঠাসা হয়ে পড়ে। জয়দেবপুর সেনানিবাস, সমরাস্ত্র কারখানা, মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি, রাজেন্দ্রপুর অর্ডন্যান্স ডিপো থেকে পাকিস্তানি সেনারা ঢাকার দিকে পালানোর জন্য চান্দনা-চৌরাস্তায় সমবেত হতে থাকে। এদিকে উত্তর-পশ্চিম রণাঙ্গন অর্থাৎ ময়মনসিংহ, জামালপুর, শেরপুর, টাঙ্গাইল, নেত্রকোনা প্রভৃতি এলাকায়ও মিত্র-মুক্তিবাহিনী ও টাঙ্গাইলের কাদেরিয়া বাহিনীর আক্রমণে টিকতে না পেরে টাঙ্গাইল হয়ে সড়কপথে ঢাকার দিকে পিছু হটতে থাকে পাকিস্তানি বাহিনী, পিছু হটার সময় তারা কড্ডা ব্রিজটি বোমা মেরে উড়িয়ে দেয় এবং চান্দনা-চৌরাস্তায় এসে তাদের অন্য সদস্যদের সঙ্গে যোগ দেয়।
অন্যদিকে পিছু ধাওয়াকারী মুক্তি-মিত্র ও কাদেরিয়া বাহিনী কড্ডা ব্রিজ পেরোতে না পেরে কাশিমপুরে অবস্থান নেয়। ১৪ ডিসেম্বর চান্দনা-চৌরাস্তায় জড়ো হওয়া পাকিস্তানি বাহিনীর বিশাল একটি কনভয় ঢাকার দিকে রওনা হয়ে ছয়দানা নামক স্থানে পৌঁছলে কাশিমপুর থেকে মুক্তি-মিত্র ও কাদেরিয়া বাহিনীরা তাদের ওপর কামান ও মর্টারের গোলাবর্ষণ করতে থাকে। পাশাপাশি সড়কের দুপাশে ট্রেঞ্জে থাকা মুক্তিবাহিনী বিভিন্ন গ্রুপের বীর মুক্তিযোদ্ধারা ব্যাপক গোলাবর্ষণ করতে থাকে।
ফলে প্রবল গোলাবর্ষণে পাকিস্তানি বাহিনীর কনভয়টি সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। এখানে প্রায় ৪-৫শ পাকিস্তানি সেনা মারা যায়, ধ্বংস হয় কামান-ট্যাঙ্ক-মর্টারসহ বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ ও যানবাহন। এই আক্রমণ ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। পাকিস্তানি বাহিনীর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিতে ১৫ ডিসেম্বর গাজীপুর কার্যত হানাদার বাহিনীমুক্ত হয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই রকম আরো সংবাদ

এ প্লাস ডিজিকম সার্ভিস

© All rights reserved © 2020 Aplusnews.Live
Design & Development BY Hostitbd.Com

অনুমতি ছাড়া নিউজ কপি দন্ডনীয় অপরাধ। কপি করা যাবে না!!