শনিবার, ০১ অক্টোবর ২০২২, ০৭:০৮ পূর্বাহ্ন

২০০৪ সালের ২১শে আগস্ট দেড় মিনিটে বিস্ফোরিত হয় ১৩টি গ্রেনেড

এপ্লাস অনলাইন
  • আপডেট সময় : রবিবার, ২১ আগস্ট, ২০২২

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট। বিভীষিকাময় একটি দিন। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে নেতাকর্মীদের ব্যাপক সমাগম হয়েছে। এক পর্যায়ে বক্তব্য শুরু করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি সেদিনের বিরোধীদলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সময় তখন বিকাল ৫টা ২২ মিনিট। তিনি ‘জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু’ বলতেই শুরু হয় একের পর এক ভয়ঙ্কর গ্রেনেড বিস্ফোরণ। এভাবে এক থেকে দেড় মিনিটের ব্যবধানে বিস্ফোরিত হয় ১৩টি গ্রেনেড।

নৃশংস সেই গ্রেনেড হামলায় দলের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক আইভি রহমানসহ নিহত হন ২৪ জন। শেখ হাসিনাসহ আহত হন কয়েকশ নেতাকর্মী। চারদিকে তখন রক্ত আর বিচ্ছিন্ন হাত-পা পড়েছিল। দাউ দাউ করে জ¦লছিল গ্রেনেড-বোমার বিস্ফোরণে আগুন ধরা গাড়ি।

ছিন্নভিন্ন শরীর নিয়েই অনেকে বাঁচার জন্য আকুতি করছিলেন। এর মধ্যেও ‘মানবঢাল’ তৈরি করে হামলা ঠেকিয়ে কোনোমতে প্রাণে রক্ষা করা হয় আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে। ওই হামলায় অনেকে বেঁচে গেলেও এখনও শরীরে গ্রেনেডের স্প্লিন্টার বয়ে বেড়াচ্ছেন তারা।

সেদিনের হামলার প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজনের সঙ্গে কথা বললে এভাবেই তারা বিভীষিকাময় একুশ আগস্ট গ্রেনেড হামলার বর্ণনা দেন সময়ের আলোর কাছে। সেই ভয়াবহ পরিস্থিতির শিকার হওয়া একজন ভুক্তভোগী হলেন নাসিমা ফেরদৌস। তিনি তৎকালীন মহিলা আওয়ামী লীগের মহানগরের সভাপতি ছিলেন।

এই নেত্রী বলেন, প্রোগ্রামের সময় আইভি আপাসহ আরও অনেকের সঙ্গে ট্রাকের সামনে ছিলাম। নেত্রী বক্তৃতা শেষ করার আগে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ হয়। কয়েক জায়গায় আগুন ধরে যায়। আইভি আপা রাস্তায় পড়ে গেলেন। মুহূর্তেই নেতাকর্মীরা নেত্রীর চারপাশ ঘিরে ফেলেন। আমি দাঁড়ানোর চেষ্টা করে পারছিলাম না। পেটে কিছু ঢুকে গেছে এমনটা মনে হচ্ছিল। পা উড়ে গিয়ে কোনোরকমে লেগেছিল। ডান কাঁধে তাকিয়ে দেখি লাল রক্ত। চারপাশে মানুষজন রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। এর মধ্যেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। এভাবে কিছু সময় যাওয়ার পর নিজেকে একটি লাশের ট্রাকে আবিষ্কার করি। আমার জ্ঞান ফিরতে দেখে এক সাংবাদিক কাছে এসে পরিবারের কারও মোবাইল নাম্বার জিজ্ঞাসা করছিলেন। অনেক কষ্টে বড় ছেলের নাম্বার মনে করার চেষ্টা করি। পরে ওই সাংবাদিক ভাই কল করে ছেলেকে আমার অবস্থা জানান।

সেদিন গ্রেনেড হামলা থেকে বেঁচে ফেরাদের আরেকজন হলেন, সাভারের মাহবুবা পারভীন। ঢাকা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন তিনি। বর্তমানে ঢাকা মহানগর উত্তরের স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি।

সেদিনের বিভীষিকাময় ঘটনার কথা মনে করে তিনি বলেন, সেদিন সকালে সাভারে ছিলাম। কেন্দ্রীয় নেতারা কল করে প্রোগ্রামের কথা জানালে দুপুরের আগেই ঢাকায় চলে আসি। প্রোগ্রাম শুরুর আগে গুলিস্তানের বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে পৌঁছে যাই। এখানে এসে দেখি অনেক মানুষের ভিড়। নেতাকর্মীদের ভিড় ঠেলে প্রোগ্রাম শুরু হওয়ার আগেই মঞ্চের কাছে চলে যাই। একটি ট্রাকে মঞ্চ করা হয়েছিল। শুরুর দিকে কেন্দ্রীয় নেতারা একে একে বক্তৃতা করেন। শেষের দিকে নেত্রী মঞ্চে এলে স্লোগানে স্লোগানে পুরো এলাকা উত্তাল হয়ে ওঠে। নেত্রী আসবেন এ কারণে প্রোগ্রামে বহু মানুষ হাজির হয়েছিল।

তিনি বলেন, বিস্ফোরণের পর পরই আমরা বুঝে গিয়েছিলাম যে, নেত্রীকে হত্যার জন্য পরিকল্পিতভাবে গ্রেনেড হামলা করা হয়েছে। তখন সবার একটিই চিন্তা ছিল নেত্রীকে বাঁচানো, বঙ্গবন্ধুকন্যাকে বাঁচানো। ওই সময় মঞ্চের কাছে থাকা নেতাকর্মীরা নিজেদের জীবন বাজি রেখে মানবঢাল তৈরি করে নেত্রীকে চারপাশে ঘিরে রাখেন। যারা হামলায় কম আহত হয়েছেন তারা গুরুতর আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে যেতে থাকেন।

লেখাঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন, সময়ের আলো

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই রকম আরো সংবাদ

এ প্লাস ডিজিকম সার্ভিস

© All rights reserved © 2020 Aplusnews.Live
Design & Development BY Hostitbd.Com

অনুমতি ছাড়া নিউজ কপি দন্ডনীয় অপরাধ। কপি করা যাবে না!!