সোমবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০১:১৪ অপরাহ্ন
নিউজ ফ্লাশ
পঞ্চগড়ে মন্দিরে যাওয়ার পথে নৌকাডুবিতে শিশুসহ ২৪ জনের মৃত্যু হিজাব ইস্যুতে উত্তাল ইরান: নারীসহ ৭০০ বিক্ষোভকারী গ্রেফতার, নিহত ৩৫ শারদীয় দুর্গাপূজা: হিলি ইমিগ্রেশন দিয়ে যাত্রী পারাপার বেড়েছে ফেসবুকে ইসলাম ধর্ম নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য, বেরোবি শিক্ষার্থী আটক আগামী পহেলা ডিসেম্বর বিভাগীয় লেখক পরিষদ রংপুরের এক যুগ পূতি নগরজুড়ে চ্যাম্পিয়নদের ছাদ খোলা বাসে বিজয় শোভাযাত্রা খোলা বাসে বিলবোর্ড মাথায় লেগে আহত ফুটবলার ঋতুপর্ণার মাথায় দুই সেলাই এই ট্রফি আমাদের দেশের জনগণের জন্য রংপুরে জাপানি নাগরিক কুনিও হোশি হত্যা: ৪ জঙ্গির মৃত্যুদণ্ড বহাল দিনাজপুর বোর্ডের এসএসসি পরীক্ষার চার বিষয়ের পরীক্ষা স্থগিত

‘স্কুলে কোনো পর্দা চলবে না’ নওগাঁয় হিজাব পড়ে স্কুলে আসায় ২০ ছাত্রীকে পেটালেন শিক্ষিকা

এপ্লাস অনলাইন
  • আপডেট সময় : শুক্রবার, ৮ এপ্রিল, ২০২২

নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার একটি স্কুলে হিজাব পরে স্কুলে আসায় কমপক্ষে ২০ জন ছাত্রীকে লাঠি দিয়ে পিটিয়েছেন ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা আমোদিনি পাল।

 

বুধবার দুপুরে উপজেলার দাউল বারবাকপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। পরে ছাত্রীরা স্কুল ছেড়ে বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি তাদের অভিভাবকদের জানালে এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়। এ ঘটনায় অভিভাবকেরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন।

এ সময় অভিযুক্ত শিক্ষিকাকে না পেয়ে তারা স্কুলের আসবাবপত্র ভাংচুর করেন। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের অভিভাবকরা বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার উপজেলা নির্বাহী অফিসার, শিক্ষা অফিসার ও থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

নির্যাতনের শিকার ওই স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী সাদিয়া আফরিন বলেন, বুধবার দুপুরে জাতীয় সংগীতের পর লাইনে দাঁড়ানো অবস্থায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা আমোদিনি পাল কেন হিজাব পড়ে স্কুলে এসেছে এ কথা জিজ্ঞাসা করেন এবং ইউক্যালিপ্টাস গাছের ডাল দিয়ে তাদেরকে পিটান।

শিক্ষিকা তাদেরকে জানিয়ে দেন, স্কুলে কোনো পর্দা চলবে না। ঢং করে আসছো। বাসায় গিয়ে বোরখা পড়ে থাকো। যখন তোমরা মহাদেবপুর বাজারে যাবে তখন পর্দা করবে। স্কুলে আসলে মাথার কাপড় ফেলে আসবে।

তিনি ছাত্রীদের হিজাব খুলে ফেলার জন্য টানাটানি করেন। এমনকি যারা হিজাব ছাড়া শুধু মাস্ক পড়ে এসেছিল তাদের মাস্কও খুলে দেন।তিনি হুমকি দিয়ে বলেন, কাল থেকে যদি হিজাব ও মাস্ক পড়ে আসো তাহলে পিটিয়ে তোমাদের পিঠের চামড়া তুলে নেয়া হবে।’

শিক্ষার্থী সাদিয়া আরও জানায়, লাইনের কয়েকজন ছাত্রীকে মারতে মারতে তার কাছে এসে তাকে মারতে থাকলে লাঠি ভেঙে যায়। এছাড়াও দশম শ্রেণির ছাত্রী ঐশি, সুমাইয়া, তিথি, লাকি, নবম শ্রেণির মোনাসহ কমপক্ষে ২০ জন ছাত্রীকে পেটানো হয়।

সাদিয়ার মা সাবেরা বেগম বলেন, তার মেয়ে স্কুল থেকে এসে কান্নাকাটি করে হিজাব পড়ার জন্য ম্যাডাম মেরেছে বলে জানায়।

তিনি বলেন, আমাদের মেয়েরা বড় হয়েছে। তারা তো পর্দা করবেই। স্কুলে গিয়েই ভদ্রতা শিখবে। তা না শিখিয়ে যদি এরকম মারপিট করে তাহলে আমাদের সন্তানদের নিরাপত্তা কোথায়? তিনি তাদের সন্তানদের নিরাপত্তার স্বার্থে অভিযুক্ত শিক্ষিকার অপসারণ দাবি করেন।

অভিযুক্ত অপর শিক্ষক বদিউল আলম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, স্কুল ড্রেস না পরায় ছাত্রীদেরকে শিক্ষিকা আমোদিনি পাল মারধর করেছেন। তবে আমি নিজে কাউকে মারধর করিনি।

ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ধরণী কান্ত বর্মণ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, স্কুলে হিজাব পরে আসায় শিক্ষিকা আমোদিনি পাল ৫/৬ জন ছাত্রীকে মারধর করেছেন। ঘটনার দিন তিনি স্কুলের কাজে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে গিয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার সকালে স্কুলে এসে বিষয়টি জেনেছেন।

ঘটনার বিষয়ে জানার জন্য অভিযুক্ত শিক্ষিকা আমোদিনি পালের মুঠোফোনে কল দিলে সাংবাদিক পরিচয় পাবার পর তিনি ফোন কেটে দেন। পরে বার বার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার হাবিবুর রহমান হিজাব না পড়ায় স্কুলছাত্রীদের পিটানোর কথা স্বীকার করে বলেন, আগে তাকে শোকজ করি। তারপর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মহাদেবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আজম উদ্দিন মাহমুদ জানান, বিষয়টি খুবই সেনসেটিভ।

 

খবর: ঢাকা পোস্ট,সময়ের আলো,নয়া দিগন্ত

 

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই রকম আরো সংবাদ

এ প্লাস ডিজিকম সার্ভিস

© All rights reserved © 2020 Aplusnews.Live
Design & Development BY Hostitbd.Com

অনুমতি ছাড়া নিউজ কপি দন্ডনীয় অপরাধ। কপি করা যাবে না!!